খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeএক্সক্লুসিভমরুভূমিতে ঘুরতে গিয়ে ১৭০০ বছরের রোমান নিদর্শন কুড়িয়ে পেল ৮ বছরের বালক

মরুভূমিতে ঘুরতে গিয়ে ১৭০০ বছরের রোমান নিদর্শন কুড়িয়ে পেল ৮ বছরের বালক

বস্তুটি হাতে নিয়েই তাঁর সন্দেহ হয়, এটি সাধারণ পাথর নয়। পরে বিস্তারিত পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হন, এটি রোমান যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, যার বয়স প্রায় ১ হাজার ৭০০ বছর।

ছোট্ট এক বালকের সাধারণ কৌতূহলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠল। পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে সে এমন এক জিনিস কুড়িয়ে পেল, যা পরে ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদেরও অবাক করে দেয়। প্রথমে সেটিকে সাধারণ পাথরের মূর্তি বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে জানা যায়, সেটি আসলে প্রায় ১৭০০ বছর পুরনো রোমান যুগের এক অমূল্য ঐতিহাসিক নিদর্শন।

ঘটনাটি ঘটেছে ইজরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে। সেখানেই পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়েছিল ৮ বছরের এক বালক, যার নাম ডোর। মরুভূমির রুক্ষ পরিবেশে ঘুরতে ঘুরতেই তার চোখে পড়ে অদ্ভুত দেখতে একটি ছোট পাথরের বস্তু। সেটির গায়ে ছিল নানা দাগ ও খোদাইয়ের মতো চিহ্ন। অন্য কেউ হয়তো সেটিকে সাধারণ পাথর ভেবে এড়িয়ে যেত, কিন্তু ছোট্ট ডোরের কাছে সেটি বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়।

ডোরের মাথায় তখন একটাই চিন্তা ঘুরছিল। ছুটি কাটিয়ে স্কুলে ফিরে বন্ধুদের কী দেখাবে? বেড়াতে গিয়ে পাওয়া বিশেষ কিছু সঙ্গে নিয়ে যেতে পারলে মন্দ হয় না। সেই ভাবনা থেকেই সে মরুভূমির বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিল। ঠিক তখনই তার হাতে আসে এই অদ্ভুত বস্তুটি।

আরও পড়ুন :  সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

সে সেটি কুড়িয়ে নিয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসে। ডোরের পরিবারের সঙ্গে সেই সফরে ছিলেন এক প্রত্নতাত্ত্বিকও। বস্তুটি হাতে নিয়েই তাঁর সন্দেহ হয়, এটি সাধারণ পাথর নয়। পরে বিস্তারিত পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হন, এটি রোমান যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, যার বয়স প্রায় ১ হাজার ৭০০ বছর।

এই খবর সামনে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কারণ মরুভূমির মতো নির্জন এলাকায় এত পুরনো নিদর্শন এভাবে খুঁজে পাওয়া সত্যিই বিরল ঘটনা।

ইজরায়েলের নেগেভ মরুভূমি বহু পুরনো সভ্যতার সাক্ষী। ইতিহাসবিদদের মতে, এই অঞ্চল দিয়ে একসময় বাণিজ্যপথ যেত। রোমান সাম্রাজ্যের প্রভাবও ছিল এই এলাকায়। তাই এখানে প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া নতুন কিছু নয়। তবে একটি শিশুর হাতে এমন গুরুত্বপূর্ণ বস্তু উঠে আসা অনেককেই বিস্মিত করেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বস্তুটি সম্ভবত কোনও মূর্তি বা অলঙ্করণের অংশ ছিল। এর গায়ে থাকা খোদাই ও নকশা দেখে বোঝা যায়, এটি রোমান শিল্পকৌশলেরই একটি উদাহরণ। দীর্ঘ সময় বালির নিচে চাপা পড়ে থাকার কারণেই এটি অনেকটা সংরক্ষিত অবস্থায় ছিল।

আরও পড়ুন :  শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপের নায়ক! নেস্টোরি ইরানকুন্ডার অবিশ্বাস্য জীবনকাহিনি

প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই ধরনের আবিষ্কার ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া তথ্য সামনে আনতে সাহায্য করে। অনেক সময় ছোট্ট কোনও নিদর্শন থেকেও জানা যায় সেই সময়কার মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

ডোর যে বস্তুটি কুড়িয়ে পেয়েছে, সেটি এখন গবেষকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা এর গঠন, খোদাই ও উপাদান পরীক্ষা করে দেখছেন। তাঁদের আশা, এই নিদর্শন থেকে রোমান যুগের সেই অঞ্চলের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

মজার বিষয় হল, ডোর কিন্তু এত বড় আবিষ্কারের কথা একবারও ভাবেনি। সে শুধুমাত্র স্কুলে বন্ধুদের দেখানোর জন্য জিনিসটি কুড়িয়ে নিয়েছিল। কিন্তু সেই সাধারণ ইচ্ছাই তাকে এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে তুলে এনেছে।

অনেকেই বলছেন, শিশুদের কৌতূহলই অনেক সময় বড় আবিষ্কারের পথ দেখায়। ডোরের ঘটনাও যেন তারই উদাহরণ। সাধারণ চোখে যেটি শুধু পাথর মনে হয়েছিল, সেটিই ইতিহাসের মূল্যবান অংশ হয়ে দাঁড়াল।

আরও পড়ুন :  ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে চান শেখ হাসিনা? রয়টার্স সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি

এই ঘটনাটি সামনে আসার পর ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে কৌতূহল বাড়াতে এই ধরনের ঘটনা বড় ভূমিকা নেয়। কারণ বইয়ের পাতায় পড়া ইতিহাস যে বাস্তবেও মাটির নিচে লুকিয়ে থাকতে পারে, সেটাই যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ঘটনা।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কোনও পুরনো বা অদ্ভুত বস্তু পাওয়া গেলে সেটি নিজের কাছে না রেখে স্থানীয় প্রশাসন বা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। কারণ ছোট্ট একটি জিনিসও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

ডোরের কুড়িয়ে পাওয়া সেই পাথরের নিদর্শন এখন শুধুই একটি বস্তু নয়। সেটি হয়ে উঠেছে অতীতের এক মূল্যবান স্মৃতি, যা বর্তমান প্রজন্মকে আবারও ইতিহাসের দিকে তাকাতে বাধ্য করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ