খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজরিয়া আহিরের প্রতিবাদে নতি স্বীকার পুলিশ? আন্দোলনের সেই ভাইরাল মুহূর্তের নেপথ্য কাহিনি

রিয়া আহিরের প্রতিবাদে নতি স্বীকার পুলিশ? আন্দোলনের সেই ভাইরাল মুহূর্তের নেপথ্য কাহিনি

রিয়া জানান, ভ্যানের সামনে দাঁড়ানোর পর পুলিশের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা ও তর্ক হয়। পুলিশকর্মীরা তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে, কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে আটক আন্দোলনকারীদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

ভারতজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরের প্রতিবাদের ঢেউ পৌঁছে যায় মুম্বই, কলকাতা-সহ দেশের নানা শহরে। মুম্বইয়ের শিবাজী পার্ক এলাকায় এমনই এক বিক্ষোভে ঘটে যায় এমন একটি ঘটনা, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ওঠে। পুলিশের একটি ভ্যানের সামনে একা দাঁড়িয়ে আটক হওয়া আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি তোলেন ২৭ বছরের অভিনেত্রী ও মডেল রিয়া আহির। তাঁর সেই সাহসী অবস্থান এখন দেশজুড়ে আলোচনার বিষয়।

মুম্বইয়ের শিবাজী পার্কে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশ একের পর এক আন্দোলনকারীকে আটক করে ভ্যানে তুলছিল। ঠিক সেই সময় হঠাৎই পুলিশের ভ্যানের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন রিয়া আহির। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি জানান, আটক হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

এই দৃশ্য উপস্থিত বহু মানুষ মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ছবি ও ভিডিও একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন, আবার অনেকে তাঁকে নাগরিক দায়িত্ব পালনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ বলেও অভিহিত করেন।

রিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, সেদিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি শিবাজী পার্কের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন। তখনই তাঁর চোখে পড়ে, পুলিশ একটি ভ্যানে বহু আন্দোলনকারীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, প্রথমে বিষয়টি দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—আন্দোলনকারীদের কেন আটক করা হচ্ছে? চারপাশে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিবাদের স্লোগান এবং উদ্বিগ্ন পরিবেশ দেখে তিনি আর নিজেকে নিরপেক্ষ রাখতে পারেননি।

আরও পড়ুন :  মেসিকে ‘ব্যথার নাটকবাজ’ বললেন গওহর খান! মিশরের অভিযোগে নতুন বিতর্ক

কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই তিনি দৌড়ে গিয়ে পুলিশের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল একটাই—আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করা।

রিয়া জানান, ভ্যানের সামনে দাঁড়ানোর পর পুলিশের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা ও তর্ক হয়। পুলিশকর্মীরা তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে, কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে আটক আন্দোলনকারীদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

কিন্তু এই যুক্তি মানতে নারাজ ছিলেন রিয়া। তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেন, যদি শেষ পর্যন্ত ছেড়েই দেওয়া হয়, তাহলে ঘটনাস্থলেই কেন তাঁদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না?

রিয়ার দাবি, এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পুলিশ দিতে পারেনি। তাঁর মতে, পুলিশের অবস্থান থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দেওয়া হয়নি।

বাইরে থেকে দৃঢ় দেখালেও ভিতরে ভিতরে তিনি প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন বলে পরে স্বীকার করেন রিয়া আহির।

তিনি জানান, সেই মুহূর্তে তাঁর হাত-পা কাঁপছিল। পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। তবুও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি। কারণ, তাঁর বিশ্বাস ছিল যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

অবশেষে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। আটক হওয়া বহু আন্দোলনকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পর কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী রিয়ার কাছে গিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর সঙ্গে করমর্দন করেন।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও কেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো?

ঘটনার পর বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে রিয়া জানান, পুরো বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত। আগে থেকে কোনও পরিকল্পনা বা প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে যাননি।

তাঁর আশঙ্কা ছিল, যদি আন্দোলনকারীদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা বা এফআইআর দায়ের হতে পারে। এতে অনেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

এই সম্ভাবনাই তাঁকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে। তাঁর মতে, সেই পরিস্থিতিতে নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না।

রিয়া বলেন, জীবনের কিছু মুহূর্তে মানুষকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেদিনও তিনি তেমনই একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তাঁর ভাষায়, যদি তিনি সেদিন কোনও প্রতিবাদ না করতেন, তাহলে নিজের বিবেকের কাছেই ছোট হয়ে যেতেন। তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে এবং সেই অধিকার রক্ষা করাও সমাজের প্রত্যেক সচেতন মানুষের দায়িত্ব।

ঘটনার পর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভাইরাল হওয়া ছবিটি শেয়ার করেন রিয়া আহির। মুহূর্তের মধ্যেই সেই পোস্টে হাজার হাজার লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার জমা পড়ে।

অনেক ব্যবহারকারী তাঁকে সাহসী, নির্ভীক এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রশংসা করেন। আবার কেউ কেউ লেখেন, সমাজে পরিবর্তন আনতে এমন নাগরিক সচেতনতাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে তাঁর অনুসারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

রিয়া আহির শুধু একজন মডেল নন। তিনি একজন অভিনেত্রী, উপস্থাপক (অ্যাঙ্কর) এবং উদ্যোক্তাও। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

আরও পড়ুন :  বর্ষা এসেছে, বৃষ্টি নেই! আকাশে মেঘ উধাও—পশ্চিমা বায়ুই কি আসল ভিলেন?

তবে শুধুমাত্র বিনোদনজগতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা ইস্যুতেও নিয়মিত নিজের মতামত প্রকাশ করেন। নাগরিক অধিকার, নারী নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয়েও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।

এই কারণেই তাঁর অনুসারীরা তাঁকে শুধু একজন তারকা নয়, বরং সচেতন নাগরিক হিসেবেও দেখেন।

মুম্বইয়ের সেই কয়েক মিনিটের ঘটনাই রিয়া আহিরকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। পুলিশের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি তোলার ঘটনাটি অনেকের কাছে নাগরিক সাহসের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

যদিও এই ঘটনায় মতভেদ রয়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে, তবুও একটি বিষয় স্পষ্ট—একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে রিয়ার পদক্ষেপ নতুন করে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ, নাগরিক দায়িত্ব এবং সামাজিক সচেতনতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

নিট প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলনের আবহে রিয়া আহিরের সাহসী অবস্থান সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। পরিকল্পনা নয়, বরং তাৎক্ষণিক মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি পুলিশের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তই তাঁকে রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। আন্দোলনের পক্ষে বা বিপক্ষে মত যাই থাকুক না কেন, রিয়ার এই পদক্ষেপ নাগরিক দায়িত্ব, সাহস এবং প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে অনেককেই।