খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালআর্জেন্টিনার ‘ডিএনএ’তে লড়াই! ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে স্কালোনির বড় বার্তা

আর্জেন্টিনার ‘ডিএনএ’তে লড়াই! ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে স্কালোনির বড় বার্তা

সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ফুটবল ইতিহাসে এই দুই দলের লড়াই সবসময়ই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হলেই ফিরে আসে বহু স্মৃতি, বিতর্ক, ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

বিশ্বকাপের উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে সমর্থকদের আবেগ। আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ওঠার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নীল-সাদা সমর্থকদের আনন্দ যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে মায়ামি, আবার আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনেস আয়ার্স—সবখানেই চলছে উদযাপন। জুলিয়ান আলভারেজের গুরুত্বপূর্ণ গোলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে গেছে উচ্ছ্বাসের ভিডিওতে। লিওনেল মেসিকে ঘিরে সমর্থকদের স্বপ্ন আরও বড় হয়েছে, আর পুরো দলকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আশার গল্প।

কিন্তু এই উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও একেবারে ভিন্ন মেজাজে রয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রচারের আলো থেকে বরাবরই দূরে থাকা এই কোচ আবারও প্রমাণ করলেন, বড় ম্যাচের আগে আবেগ নয়, তিনি বিশ্বাস করেন পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং বাস্তবতায়।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা দল ছিল আত্মবিশ্বাসহীন। সেই সময় দায়িত্ব নেন লিওনেল স্কালোনি। অনেকেই তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি এমন একটি দল গড়ে তোলেন, যারা শুধু প্রতিভার ওপর নির্ভর করে না, বরং প্রতিটি ম্যাচে লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে।

প্রথমে কোপা আমেরিকার শিরোপা, এরপর বিশ্বকাপ জয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। স্কালোনির নেতৃত্বে দলটি এখন শুধু আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলে না, কঠিন পরিস্থিতি থেকেও ম্যাচে ফিরতে জানে।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা শুরুতে এগিয়ে গেলেও ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না। সুইস দল শারীরিক শক্তি ও সংগঠিত ফুটবল দিয়ে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে। প্রথমার্ধের পর ম্যাচের গতি বদলাতে কৌশলগত পরিবর্তন আনেন স্কালোনি।

দ্বিতীয়ার্ধে সেই পরিবর্তনের সুফল পায় আর্জেন্টিনা। দলের খেলায় আসে গতি, আত্মবিশ্বাস এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব। শেষ পর্যন্ত কঠিন লড়াই জিতে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

এই ম্যাচটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, স্কালোনি শুধু একজন কোচ নন; তিনি একজন দক্ষ কৌশলবিদ, যিনি ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ফুটবল ইতিহাসে এই দুই দলের লড়াই সবসময়ই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হলেই ফিরে আসে বহু স্মৃতি, বিতর্ক, ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি। তাই সমর্থকদের কাছে এটি কেবল একটি সেমিফাইনাল নয়, বরং মর্যাদা, ইতিহাস এবং আবেগের লড়াই।

তবে এই আবেগে ভাসতে রাজি নন স্কালোনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইংল্যান্ড প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই স্কালোনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর কাছে এটি অন্য যেকোনো ম্যাচের মতোই একটি ফুটবল লড়াই।

তিনি বলেন, দলের খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তাঁর একটাই বার্তা—এটি আরেকটি ম্যাচ মাত্র। প্রতিপক্ষ অবশ্যই শক্তিশালী এবং তাদের কোচও অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু অতীত কিংবা বাইরের আবেগ নিয়ে ভাবলে চলবে না। পুরো মনোযোগ রাখতে হবে মাঠের খেলায়।

স্কালোনির মতে, বড় ম্যাচে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারাই সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। কারণ অতিরিক্ত চাপ অনেক সময় ফুটবলারদের স্বাভাবিক খেলায় বাধা সৃষ্টি করে।

স্কালোনির বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দলের মানসিকতা নিয়ে তাঁর মন্তব্য। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমান আর্জেন্টিনা দল যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা অর্জন করেছে।

তাঁর ভাষায়, লড়াই করার মানসিকতা এখন প্রতিটি ফুটবলারের রক্তে মিশে গেছে। ম্যাচ যত কঠিনই হোক, দল কখনও হাল ছাড়ে না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে।

এই মানসিক শক্তিই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠেছে।

স্কালোনি স্বীকার করেছেন, আগের বিশ্বকাপে তিনি নিজেও তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ ছিলেন। কোচ হিসেবে অনেক পরিস্থিতি তখন কঠিন মনে হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেমন পরিণত হয়েছেন, তেমনি অভিজ্ঞ হয়েছে পুরো দলও।

এখন খেলোয়াড়রা জানে কীভাবে চাপের মধ্যে শান্ত থাকতে হয়, কীভাবে কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় এবং কীভাবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে হয়।

এই অভিজ্ঞতাই বর্তমান আর্জেন্টিনা দলকে আরও পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

লিওনেল মেসি এখনও আর্জেন্টিনার অনুপ্রেরণার সবচেয়ে বড় নাম। মাঠে তাঁর নেতৃত্ব পুরো দলকে আত্মবিশ্বাস জোগায়। অন্যদিকে ডাগআউটে স্কালোনির ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

এই যুগলবন্দীই গত কয়েক বছরে আর্জেন্টিনাকে একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছে। বড় ম্যাচে কখন আক্রমণ বাড়াতে হবে, কখন রক্ষণ মজবুত করতে হবে কিংবা কখন পরিবর্তন আনতে হবে—এসব বিষয়ে স্কালোনির সিদ্ধান্ত প্রায়ই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি যে সহজ হবে না, তা স্কালোনিও জানেন। প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ সম্মান রয়েছে। তবে নিজের দলের ওপরও তাঁর অগাধ বিশ্বাস।

আর্জেন্টিনা এখন এমন একটি দল, যারা শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। প্রতিটি খেলোয়াড় জানেন, পরিস্থিতি যত প্রতিকূলই হোক, ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই শেষ নয়।

এই বিশ্বাস, অভিজ্ঞতা এবং লড়াকু মানসিকতাই স্কালোনির আর্জেন্টিনাকে আবারও বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে। আর তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল শুধুই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নয়, এটি হবে আধুনিক ফুটবলের দুই পরাশক্তির কৌশল, মানসিক শক্তি এবং সামর্থ্যের এক অসাধারণ লড়াই।