খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশাল২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপে ৬৪ দলের চমক! নতুন ইঙ্গিতে বদলে যেতে পারে বিশ্বকাপের...

২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপে ৬৪ দলের চমক! নতুন ইঙ্গিতে বদলে যেতে পারে বিশ্বকাপের ইতিহাস

ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। চলমান বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের আবেগ, স্বপ্ন এবং অপেক্ষার নাম। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ এখনও শেষ না হলেও ইতোমধ্যেই ২০৩০ সালের আসরকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কারণ, ২০৩০ সাল শুধু আরেকটি বিশ্বকাপ নয়, এটি হবে বিশ্বকাপ ফুটবলের শতবর্ষ উদযাপনের বিশেষ আসর। সেই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টকে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে এক যুগান্তকারী সম্ভাবনা—২০৩০ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে ৬৪টি দল।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে পারে ফুটবল বিশ্ব।

শতবর্ষ উপলক্ষে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপকে ব্যতিক্রমী করে তুলতে চায় ফিফা। ইতোমধ্যেই আয়োজক দেশ এবং আয়োজনের ধরন নিয়ে আলোচনা চলছে। তার মধ্যেই দলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট।

ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। চলমান বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্বকাপের দলসংখ্যা গত কয়েক দশকে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • ১৯৯৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নেয় ৩২টি দল।
  • ২০২৬ সালের আসরে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৮।
  • এবার আলোচনায় উঠে এসেছে ২০৩০ সালে সেই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৬৪ করার সম্ভাবনা।

ফিফার যুক্তি হলো, বিশ্বজুড়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন মহাদেশে প্রতিযোগিতার মানও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। ফলে আরও বেশি দেশকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দিলে ফুটবলের বৈশ্বিক বিস্তার আরও শক্তিশালী হবে।

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া প্রতিটি দেশের জন্যই বিশাল সম্মানের বিষয়। বর্তমানে অনেক শক্তিশালী দলও কঠিন বাছাইপর্ব পেরোতে ব্যর্থ হয়।

৬৪ দলের আসর হলে—

  • আরও বেশি দেশ বিশ্বকাপে জায়গা পাবে।
  • নতুন ফুটবল শক্তির উত্থান ঘটতে পারে।
  • ছোট দেশগুলিও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাবে।
  • বিভিন্ন অঞ্চলে ফুটবলের উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।

বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার অনেক দেশ এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারে।

ফিফার এই সম্ভাব্য পরিকল্পনা ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

ভারত এখনও পর্যন্ত সিনিয়র পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারেনি। তবে দলসংখ্যা ৬৪ হলে এশিয়ার জন্য বরাদ্দ আসনও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ভারতের সামনে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার বাস্তব সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অবশ্য শুধুমাত্র দলসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেই হবে না। ভারতকে বাছাইপর্বে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন, যুব ফুটবলে বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইনফান্তিনোর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেকের মতে, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ হলে আরও বেশি দেশের স্বপ্ন পূরণ হবে এবং বিশ্বকাপ সত্যিকার অর্থেই বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হবে।

অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, অতিরিক্ত দল যুক্ত হলে প্রতিযোগিতার মান, ম্যাচের সংখ্যা, খেলোয়াড়দের ওপর চাপ এবং টুর্নামেন্টের সময়কাল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক বিবেচনা করেই এগোতে হবে ফিফাকে।

১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের একশো বছর পূর্ণ হবে ২০৩০ সালে। সেই উপলক্ষে ফিফা এমন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায়, যা অতীতের সব আয়োজনকে ছাপিয়ে যাবে।

বিশ্বকাপের পরিসর বাড়ানো, আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক দর্শকদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি—এসব লক্ষ্য নিয়েই ফিফা পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ এখনো প্রস্তাবের পর্যায়েই রয়েছে। বর্তমান বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটি বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করবে। এরপর সদস্য দেশগুলোর মতামত, প্রতিযোগিতার কাঠামো, সূচি এবং আয়োজকদের সক্ষমতা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থাৎ, এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪টি দল খেলবে। তবে ফিফা প্রেসিডেন্ট নিজেই যখন এই সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে তুলেছেন, তখন বিষয়টি যে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট।

২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু শতবর্ষের একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি বিশ্ব ফুটবলের নতুন যুগের সূচনাও হতে পারে। যদি ৬৪ দলের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বিশ্বকাপ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে এবং বহু নতুন দেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাবে।

ভারতসহ এশিয়ার অনেক দেশের জন্য এটি হতে পারে স্বপ্নপূরণের নতুন দরজা। এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। কারণ সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, ২০৩০ সালের শতবর্ষের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় আসরে পরিণত হবে কি না।