বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার অন্যতম আলোচিত ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ মুক্তির আগেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সম্প্রতি ছবির প্রথম গান ‘তাবাহি’ প্রকাশের পর সেই আগ্রহ আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। যশ ও কিয়ারা আডবাণীর রোমান্টিক রসায়ন, গানের চিত্রায়ণ এবং সাহসী উপস্থাপনা নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিনোদন মহল—সবখানেই চলছে জোর আলোচনা।
গানটি প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের বড় একটি অংশ যশ ও কিয়ারা আডবাণীর অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রির প্রশংসা করছেন। অন্যদিকে, অনেকেই গানের সাহসী দৃশ্য নিয়ে নানা মতামত দিচ্ছেন। পুরো গানে দুই তারকার ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত, রোমান্টিক পরিবেশ এবং স্টাইলিশ উপস্থাপনা দর্শকদের নজর কেড়েছে।
সার্কাসের ব্যাকস্টেজ, শহরের রাস্তা, বিলাসবহুল গাড়ি থেকে শুরু করে সমুদ্রসৈকত—বিভিন্ন লোকেশনে নির্মিত গানের দৃশ্যগুলো সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কিছুদিন ধরেই দক্ষিণী সিনেমায় নায়িকাদের উপস্থাপন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এর আগে অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুরকে ঘিরেও এমন বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছিল, কিছু অভিনেত্রী সাহসী দৃশ্য নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন।
একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘টক্সিক’ ছবির ট্রেলার প্রকাশের পর কিয়ারা আডবাণী নাকি কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্য সম্পাদনার অনুরোধ করেছিলেন। যদিও এ বিষয়ে নির্মাতা বা অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে গানটি প্রকাশের পর সেই জল্পনা আবারও নতুন করে সামনে এসেছে।
বলিউডে কিয়ারা আডবাণী বরাবরই গ্ল্যামারাস উপস্থিতির জন্য পরিচিত। ‘কবীর সিং’ ছবিতে শাহিদ কাপুরের সঙ্গে তাঁর রোমান্টিক দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পরে ‘ওয়ার ২’-এ হৃতিক রোশন ও জুনিয়র এনটিআরের সঙ্গে তাঁর স্টাইলিশ উপস্থিতিও প্রশংসিত হয়।
তবে অনেক দর্শকের মতে, ‘তাবাহি’ গানে কিয়ারাকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও আত্মবিশ্বাসী ও পরিণত চরিত্রে দেখা গেছে। যশের সঙ্গে তাঁর পর্দার রসায়ন সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
গানটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে যেমন প্রশংসা এসেছে, তেমনি সমালোচনাও কম হয়নি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বিয়ের পর এত সাহসী চরিত্রে অভিনয় নিয়ে অভিনেত্রীর স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রার প্রতিক্রিয়া কী?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন কিয়ারা আডবাণী। তিনি জানান, নিজের পেশাগত সিদ্ধান্তে সবসময় স্বামীর পূর্ণ সমর্থন পান।
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নেতিবাচক মন্তব্যে ভেঙে পড়লে সিদ্ধার্থ তাঁকে সাহস জুগিয়ে বলেন, এই ধরনের সমালোচনা সবসময়ই থাকবে। তাই অপরিচিত মানুষের মন্তব্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কিয়ারা আরও জানান, সিদ্ধার্থ তাঁকে বুঝিয়েছেন যে মানুষের প্রশংসার চেয়ে অনেক সময় সমালোচনাই বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু সেই মানসিকতা বদলানো জরুরি। যারা ভালোবাসা ও সমর্থন দিচ্ছেন, তাঁদের কথাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অভিনেত্রীর মতে, এই মানসিক সমর্থন তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করেছে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে উৎসাহ জুগিয়েছে।
কিয়ারার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিনয়ের ক্ষেত্রে চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়। ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত দায়িত্বকে আলাদা করে দেখার মানসিকতা থাকা জরুরি। সিদ্ধার্থও একই মত পোষণ করেন এবং মনে করেন, দর্শকদের শিল্পকে শিল্পের দৃষ্টিতেই মূল্যায়ন করা উচিত।
প্রথম গান ‘তাবাহি’ মুক্তির পর ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। যশ ও কিয়ারা আডবাণীর জুটি, বড় বাজেটের নির্মাণ, ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা এবং শক্তিশালী প্রচারণা ইতোমধ্যেই সিনেমাটিকে বছরের অন্যতম আলোচিত প্রকল্পে পরিণত করেছে।
এখন দেখার বিষয়, মুক্তির পর ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ দর্শক ও সমালোচকদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—প্রথম গান প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটি ঘিরে আলোচনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন যশ, কিয়ারা আডবাণী এবং তাঁদের অনস্ক্রিন রসায়ন।

