খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালমেসিকে ‘ব্যথার নাটকবাজ’ বললেন গওহর খান! মিশরের অভিযোগে নতুন বিতর্ক

মেসিকে ‘ব্যথার নাটকবাজ’ বললেন গওহর খান! মিশরের অভিযোগে নতুন বিতর্ক

মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো ম্যাচ শেষে বলেন, “এটা শুধু একটা ম্যাচ নয়, আমাদের পুরো দলের পরিশ্রমকে অবহেলা করা হয়েছে। রেফারির সিদ্ধান্তে আমরা ভীষণ হতাশ।”

ফুটবল মানেই আবেগ, উত্তেজনা আর বিতর্ক এই তিনের মিশেলেই তৈরি হয় বড় ম্যাচের আসল গল্প। সাম্প্রতিক আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচটিও ঠিক এমনই এক নাটকীয় অধ্যায় হয়ে উঠেছে। শেষ ষোলোয় এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াই শুধু স্কোরলাইনে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সেটিকে আরও আলোচিত করে তুলেছে। একদিকে যেমন আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে তেমনই রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মিশর। আর এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বলিউড অভিনেত্রী গওহর খান, যিনি সরাসরি লিওনেল মেসিকে আক্রমণ করেছেন।

ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি মিশরের নিয়ন্ত্রণে। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে খেলতে তারা ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। তখন মনে হচ্ছিল, মিশর সহজেই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যাবে। কিন্তু ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত শেষ হয় না, সেটাই আবার প্রমাণ করল আর্জেন্টিনা।

শেষ মুহূর্তে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা তিনটি গোল করে ম্যাচ জিতে নেয় ৩-২ ব্যবধানে। এই অবিশ্বাস্য কামব্যাক শুধু দর্শকদের চমকে দেয়নি, বরং ম্যাচটিকে করে তুলেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত লড়াই।

এই হারের পরই মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন চুপ থাকেনি। তারা সরাসরি ফিফার কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ম্যাচে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাদের বিরুদ্ধে গেছে।

বিশেষ করে দুটি ঘটনা নিয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মিশর। প্রথমত, ভিএআর চেকের পর মোস্তাফা জিকোর একটি গোল বাতিল করা হয়, যা তাদের মতে সম্পূর্ণ অন্যায্য। দ্বিতীয়ত, ম্যাচের শেষদিকে হামদি ফাথিকে ফাউল করা হলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। এই দুটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে বলেই দাবি করছে মিশর।

মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো ম্যাচ শেষে বলেন, “এটা শুধু একটা ম্যাচ নয়, আমাদের পুরো দলের পরিশ্রমকে অবহেলা করা হয়েছে। রেফারির সিদ্ধান্তে আমরা ভীষণ হতাশ।”

মিশর ফুটবল সংস্থার সভাপতি হানি আবো রিদা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তাঁর সহকারী দলের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি অনুরোধ করেছেন, যাতে এই রেফারিং দলকে আর বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো পরিচালনার দায়িত্ব না দেওয়া হয়।

এই অভিযোগ ফুটবল বিশ্বে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, বড় ম্যাচে এমন সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক হলেও, মিশরের হতাশা একেবারেই অমূলক নয়।

যেখানে মাঠের বিতর্কই যথেষ্ট ছিল, সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আগুন জ্বালিয়েছেন অভিনেত্রী গওহর খান। তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে সরাসরি মেসিকে আক্রমণ করেন।

গওহর খান লেখেন, “মেসি নয়, তার নাম হওয়া উচিত ‘Messy’। সে নোংরা খেলছে এবং ব্যথার নাটক খুব ভালো করতে পারে।”

ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যাচ চলাকালীন একটি ঘটনায় মেসি নিজের মুখ ঢেকে রাখছেন, যেন তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। গওহর এই আচরণকে অভিনয় বলে দাবি করেছেন এবং সেটিকে কটাক্ষ করেছেন।

গওহর খানের এই মন্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম হয়ে উঠেছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ এটিকে অতিরঞ্জিত বলছেন।

অনেক ফুটবলপ্রেমীর মতে, মেসি একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং ম্যাচের চাপ সামলাতে গিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। অন্যদিকে কিছু দর্শক মনে করছেন, বড় খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আরও স্পোর্টসম্যানশিপ আশা করা উচিত।

এই ম্যাচে মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা থামছেই না। যদিও তিনি সরাসরি বিতর্কের কেন্দ্রে, তবুও আর্জেন্টিনার জয়ে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না। দলের নেতৃত্ব দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া—সব মিলিয়ে তিনি আবারও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন।

তবে একই সঙ্গে এই ম্যাচ দেখিয়ে দিয়েছে, ফুটবলে শুধু দক্ষতা নয়, মানসিক শক্তিও কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ২-০ পিছিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানো তারই প্রমাণ।

এই ম্যাচের পর ফুটবল বিশ্বে রেফারিং নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিএআর থাকা সত্ত্বেও কেন এমন বিতর্ক তৈরি হচ্ছে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এছাড়া খেলোয়াড়দের আচরণ, বিশেষ করে ইনজুরি বা ফাউলের প্রতিক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। বড় টুর্নামেন্টে এসব বিষয় আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, কারণ প্রতিটি সিদ্ধান্তই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করতে পারে।

আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না, এটি ছিল আবেগ, নাটক আর বিতর্কের এক পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ। একদিকে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য জয়, অন্যদিকে মিশরের হতাশা—সব মিলিয়ে এটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

গওহর খানের মন্তব্য এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সই ইতিহাস লিখে দেয়। ফুটবল এমনই—এখানে প্রতিটি মুহূর্তে গল্প তৈরি হয়, আর সেই গল্পই আমাদের বারবার এই খেলায় ফিরিয়ে আনে।