খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালনরওয়ের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা! ম্যাচের আগে হোটেল কাণ্ডে চমকে গেল সবাই

নরওয়ের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা! ম্যাচের আগে হোটেল কাণ্ডে চমকে গেল সবাই

হোটেল থেকে কাছাকাছি কোনো বিশ্রামের জায়গাও ছিল না। সৈকতে যেতে হলেও দীর্ঘ পথ হাঁটতে হতো, তাও আবার নির্মাণ এলাকার পাশ দিয়ে। ফলে খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ আরও বাড়ে।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে একটি ম্যাচই বদলে দিতে পারে পুরো ইতিহাস। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ঠিক আগেই নরওয়ে ফুটবল দল পড়েছে অপ্রত্যাশিত এক সমস্যায়। বিলাসবহুল হোটেলে থাকার কথা থাকলেও, নির্মাণকাজের শব্দ আর অপর্যাপ্ত সুবিধার কারণে তাদের পুরো পরিকল্পনাই এলোমেলো হয়ে যায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে এই ঘটনা নরওয়ের প্রস্তুতিকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।

নরওয়ে দল যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য যে হোটেলে উঠেছিল, সেখানে শান্ত পরিবেশের আশা করেছিল তারা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। চারপাশে চলছিল নির্মাণকাজ, সাথে ছিল হাইওয়ের ভারী যানবাহনের শব্দ। খেলোয়াড়দের জন্য এমন পরিবেশ একদমই উপযুক্ত ছিল না।

মাত্র এক রাত থাকার পরই দলটি বুঝে যায়, এই জায়গায় থাকলে ম্যাচের আগে সঠিকভাবে মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হবে না। ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় তারা—এই হোটেল ছাড়তেই হবে।

দলের সিনিয়র খেলোয়াড়রা, বিশেষ করে তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড, বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তারা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, এই পরিবেশে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়।

হোটেল থেকে কাছাকাছি কোনো বিশ্রামের জায়গাও ছিল না। সৈকতে যেতে হলেও দীর্ঘ পথ হাঁটতে হতো, তাও আবার নির্মাণ এলাকার পাশ দিয়ে। ফলে খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ আরও বাড়ে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ফিফার কাছে অভিযোগ জানানো হয় এবং বিকল্প হোটেলের ব্যবস্থা করা শুরু হয়।

নরওয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সময় নষ্ট করা হয়নি এক মুহূর্তও। মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে পুরো দল—খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, নিরাপত্তা কর্মী—সবাই নতুন হোটেলে চলে যায়।

মিয়ামির কাছাকাছি একটি সমুদ্রতীরবর্তী হোটেলে তাদের স্থানান্তর করা হয়। নিরাপত্তার কারণে হোটেলের নাম গোপন রাখা হয়েছে।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল খুব দ্রুত এবং কিছুটা বিশৃঙ্খল। এমনকি স্থানান্তরের সময় দলটি সকালের নাশতাও করতে পারেনি। কিন্তু দলীয় কর্মকর্তারা মনে করেন, এই সিদ্ধান্তটাই ছিল সবচেয়ে সঠিক।

শুধু শব্দই নয়, হোটেলের অন্যান্য সুবিধাও ছিল বড় সমস্যা। দলের কোচ স্টলে সোলবাকেন জানান, সেখানে পর্যাপ্ত মিটিং রুম ছিল না।

একটি জাতীয় দলের জন্য, বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে, কৌশলগত আলোচনা করার জন্য আলাদা জায়গা থাকা খুবই জরুরি। কিন্তু সেই সুযোগ না থাকায় দলের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।

কোচের মতে, সাধারণ অতিথিদের জন্য হোটেলটি ভালো হলেও একটি আন্তর্জাতিক দলের চাহিদা পূরণে এটি পুরোপুরি ব্যর্থ।

নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড বিষয়টিকে বড় সংকট হিসেবে দেখেননি। বরং তিনি এটিকে একটি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

তার মতে, দলের লক্ষ্য ছিল প্রস্তুতিকে আরও নিখুঁত করা। ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও তা দ্রুত সমাধান করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

তিনি বলেন, ম্যাচের আগে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি যেন না থাকে, সেটাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

নরওয়ের অভিযোগের পর ফিফা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে। নতুন হোটেলের জন্য প্রায় ৫০টি কক্ষের খরচ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব নেয় সংস্থাটি।

তবে খেলোয়াড়দের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত সুবিধার জন্য কিছু খরচ নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিজেই বহন করে।

এই সমঝোতার ফলে দ্রুত সমস্যার সমাধান সম্ভব হয় এবং দলের প্রস্তুতিতে আর বড় কোনো বাধা থাকে না।

নরওয়ে দল প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকলে মানসিক ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক।

তাই দলীয় কর্মকর্তারা শুরু থেকেই একটি আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছেন। হোটেল পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও সেই পরিকল্পনার অংশ।

তাদের মতে, খেলোয়াড়দের মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দল অনেকটাই নির্ভারভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেক্সিকো সিটিতে জয়ের পর কোচ থমাস টুখেল খেলোয়াড়দের দুই দিনের বিশ্রাম দেন।

এই সময় খেলোয়াড়রা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পায়। ফলে তারা মানসিকভাবে আরও সতেজ হয়ে মাঠে ফিরেছে।

কানসাস সিটির ট্রেনিং ক্যাম্পে দলের পরিবেশ ছিল শান্ত এবং আত্মবিশ্বাসী।

ইংল্যান্ড দল কোয়ার্টার ফাইনালের আগে মিয়ামিতে গিয়ে শেষ অনুশীলন করবে। ডেভিড বেকহামের ইন্টার মিয়ামির ট্রেনিং কমপ্লেক্সে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।

হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি, যেখানে ৬৪ হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিত থাকতে পারে।

এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি।

ইংল্যান্ড দলের জন্য আরেকটি সুখবর এসেছে। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন।

মেক্সিকো সিটিতে জয় উদযাপনের সময় দুর্ঘটনায় তার কব্জি ভেঙে যায়। সফল অস্ত্রোপচারের পর তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ।

যদিও মাঠে নামা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবে তার অভিজ্ঞতা দলের জন্য বড় শক্তি হয়ে থাকবে।

সব বাধা কাটিয়ে এখন নরওয়ে দল পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছে ইংল্যান্ড ম্যাচে। হোটেল সমস্যার দ্রুত সমাধান তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।

এরলিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডদের মতো তারকাদের নিয়ে নরওয়ে ইতিহাস গড়তে চায়।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দলও রয়েছে দারুণ ছন্দে। অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা এবং অনুকূল পরিবেশ—সব মিলিয়ে তারা বেশ শক্ত অবস্থানে আছে।

সবকিছু মিলিয়ে, এই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হতে যাচ্ছে রোমাঞ্চে ভরপুর। মাঠের ভেতরে যেমন উত্তেজনা থাকবে, তেমনি মাঠের বাইরের ঘটনাও যোগ করেছে বাড়তি নাটকীয়তা।