Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeএক্সক্লুসিভসোনার কেল্লার শহর জয়সলমীর! ভারতের একমাত্র হলুদ শহরের পাশেই রহস্যময় ভূতুড়ে গ্রাম

সোনার কেল্লার শহর জয়সলমীর! ভারতের একমাত্র হলুদ শহরের পাশেই রহস্যময় ভূতুড়ে গ্রাম

রাজস্থানের মরুভূমির বুকেই লুকিয়ে রয়েছে ভারতের এক অনন্য শহর। নাম তার জয়সলমীর। তবে শুধু রাজস্থানের ঐতিহাসিক শহর বললে ভুল হবে। বাঙালির কাছে এই শহরের আলাদা এক আবেগ রয়েছে। কারণ সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘সোনার কেল্লা’ যেন আজও জয়সলমীরের প্রতিটি গলিতে গলিতে বেঁচে আছে। তাই বহু বাঙালির কাছে জয়সলমীর মানেই রহস্য, ইতিহাস আর মরুভূমির সোনালি সৌন্দর্যের মিশেল।

ভারতের একমাত্র “হলুদ শহর” হিসেবেও পরিচিত জয়সলমীর। শহরের প্রায় সব বাড়ি, দুর্গ এবং স্থাপত্য তৈরি হয়েছে হলুদ বেলেপাথর দিয়ে। সূর্যের আলো পড়তেই গোটা শহর যেন সোনার মতো ঝলমল করে ওঠে। সেই কারণেই জয়সলমীরকে অনেকে “গোল্ডেন সিটি” বলেও ডাকেন।

জয়সলমীরের নাম উঠলেই প্রথমেই মনে পড়ে সোনার কেল্লার কথা। সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত উপন্যাস এবং পরে তৈরি সিনেমা এই শহরকে বাঙালির ঘরের নাম করে তুলেছিল। সিনেমার হাত ধরেই বহু মানুষ প্রথম জয়সলমীর সম্পর্কে জানতে পারেন। আজও শহরে গেলে স্থানীয় গাইডদের মুখে প্রথমেই শোনা যায় “সোনার কেল্লা দেখবেন?” কথাটি।

জয়সলমীর দুর্গ আসলে ইউনেস্কো স্বীকৃত এক ঐতিহাসিক স্থাপত্য। এই দুর্গের দেয়াল, প্রাসাদ এবং সরু রাস্তা সবকিছুতেই রয়েছে হলুদ পাথরের ব্যবহার। দিনের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলোয় দুর্গের রং বদলে যায়। কখনও হালকা সোনালি, কখনও গাঢ় হলুদ। এই অনন্য দৃশ্যই পর্যটকদের বারবার টেনে আনে।

শুধু ইতিহাস নয়, জয়সলমীর ঘিরে রয়েছে রোমাঞ্চও। শহরের কাছেই রয়েছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত। তাই এই এলাকার গুরুত্ব কৌশলগত দিক থেকেও অনেক বেশি। মরুভূমির বুকে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি এবং সীমান্ত এলাকার আবহ পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে।

তবে জয়সলমীরের আরেকটি রহস্যময় পরিচয় রয়েছে। শহরের খুব কাছেই অবস্থিত কুলধারা গ্রাম। যাকে ভারতের অন্যতম ভূতুড়ে গ্রাম বলা হয়। একসময় এই গ্রামে মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এক রাতে গ্রামের সব মানুষ নাকি গ্রাম ছেড়ে চলে যান। তারপর থেকে আর কেউ সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেননি।

কুলধারা নিয়ে নানা কিংবদন্তি শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামের ওপর অভিশাপ রয়েছে। রাতের অন্ধকারে সেখানে অদ্ভুত শব্দ শোনা যায় বলেও অনেকে দাবি করেন। যদিও এই ঘটনার কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি, তবুও রহস্যপ্রেমীদের কাছে কুলধারা আজও এক বড় আকর্ষণ।

প্রতিদিন বহু পর্যটক কুলধারা দেখতে যান। দিনের আলোয় ভাঙা বাড়ি, নির্জন রাস্তা আর শুনশান পরিবেশ যেন অন্য এক জগতে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা নামতেই জায়গাটি আরও ভৌতিক হয়ে ওঠে। সেই কারণেই অনেকেই এটিকে ভারতের সবচেয়ে রহস্যময় পর্যটন কেন্দ্রগুলির একটি বলে মনে করেন।

জয়সলমীরে গেলে শুধু সোনার কেল্লা নয়, মরুভূমির উট সাফারি, লোকসংগীত, রাজস্থানি খাবার এবং রাতের ক্যাম্পিংয়ের অভিজ্ঞতাও ভোলার নয়। থর মরুভূমির বালিয়াড়িতে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন।

এছাড়া এখানকার বাজারেও পাওয়া যায় হলুদ বেলেপাথরের তৈরি নানা শোপিস, মূর্তি এবং হস্তশিল্প। পর্যটকদের কাছে এগুলির চাহিদা খুব বেশি। স্থানীয় সংস্কৃতি, রাজস্থানি পোশাক এবং লোকনৃত্য জয়সলমীর ভ্রমণকে আরও রঙিন করে তোলে।

একদিকে ইতিহাস, অন্যদিকে রহস্য। তার সঙ্গে মরুভূমির অসাধারণ সৌন্দর্য। সব মিলিয়ে জয়সলমীর শুধুই একটি শহর নয়, বরং এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। তাই আজও বাঙালির ভ্রমণ তালিকায় এই শহরের নাম একেবারে উপরের দিকেই থাকে।

সোনার কেল্লার স্মৃতি আর কুলধারার রহস্য মিলিয়ে জয়সলমীর যেন বাস্তবের মধ্যেই লুকিয়ে থাকা এক সিনেমার গল্প। আর সেই গল্পের টানেই প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ছুটে যান ভারতের এই অনন্য হলুদ শহরে।