খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়বাংলাদেশে টানা বৃষ্টির তাণ্ডব! পাহাড়ধসে মৃত্যু, বন্যার আতঙ্কে বিপর্যস্ত বহু জেলা

বাংলাদেশে টানা বৃষ্টির তাণ্ডব! পাহাড়ধসে মৃত্যু, বন্যার আতঙ্কে বিপর্যস্ত বহু জেলা

"ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে আসার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। পাহাড়ধসের কারণে মঙ্গলবার একটি সড়ক বন্ধ হলেও সেটি ইতোমধ্যে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে," বিবিসি বাংলাকে জানান খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত।

বাংলাদেশে ছয়টি বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি জেলার নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যা হয়েছে। আবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পাহাড় ধসে অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পার্বত্য জেলাগুলোতে অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

রেল লাইন পানিতে ডুবে যাওয়ায় কক্সবাজারের সঙ্গে রেল যোগাযোগও মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারতের ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এর ফলে দেশের উত্তর এবং পূর্বাঞ্চলের নদনদী, বিশেষ করে তিস্তা ও সুরমা নদী অববাহিকায় পানি বাড়তে শুরু করেছে।

আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলেও জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, টানা বৃষ্টির এই প্রভাব আরও অন্তত তিনদিন অর্থাৎ ১১ই জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালি, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জসহ চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অন্তত দশটি জেলার নদী তীরবর্তী নিচু এলাকায় এরই মধ্যে বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দেশের পার্বত্য জেলা এবং উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে কয়েকটি জেলার প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, পরিস্থিতি বিবেচনায় আশ্রয়কেন্দ্র, শুকনা খাবার ও উদ্ধার পরিকল্পনাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তারা।

বন্যা ঝুঁকি রয়েছে এমন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের যে-সব জেলায় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেখানকার জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

পাহাড় ধসে ১১ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একটি মাদ্রাসার অন্তত আটজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বিবিসি বাংলাকে জানান, “এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী আট শিশুর মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি। এদের কেউ সাত, আট, এগার বা বারো বয়সী শিশু রয়েছে।”

ঘটনার সময় ওই মাদ্রাসায় ঠিক কতজন শিক্ষার্থী ছিল সেটি এখনো নিশ্চিত নয় উল্লেখ করে মিজ আক্তার বলেন, “সেখানে সকালে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী গিয়েছিলো। কিন্তু দুপুরে টিফিনের সময় বেশিরভাগই বাড়ি চলে গিয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আমাকে।”

সন্ধ্যার পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের এই ঘটনায় মোট ১৩ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয় যাদের মধ্যে আট জন শিশু মারা যায়। চার জন ঘটনাস্থলে ও চারজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায় বলে জানায় তারা।

বাকি পাঁচ জন শিশুকে হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও আরআরআরসি জানিয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড, পাঁচলাইশ ও রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জঙ্গল ছলিমপুরে বসতবাড়ির ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এঘটনায় একজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

পরীক্ষা বাতিল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন


ভারী বৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রেকর্ড বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পতেঙ্গা পোর্ট এলাকা, বাকলিয়াসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় রেল লাইনের ওপর পানি জমে যাওয়ায় কক্সবাজারের সঙ্গে রেলযোগাযোগ মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে এখনো বন্ধ রয়েছে।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

এদিকে বুধবার সকালেও ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী একটি ট্রেন গন্তব্যে যেতে না পেরে চট্টগ্রাম থেকেই আবারও ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট আবু বকর ছিদ্দিকী বিবিসি বাংলাকে জানান, ষোলশহর-জান আলী হাট সেকশনে রেললাইনের ওপর জমে থাকায় কক্সবাজারের উদ্দেশে ট্রেন ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না।

“কক্সবাজারের সঙ্গে রেল যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আপাতত চট্টগ্রাম পর্যন্ত সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছি আমরা। পরিস্থিতি উন্নতি হলেই কক্সবাজারে ট্রেন যাবে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

পার্বত্য জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে ৯৬ সেন্টিমিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেনী ও নোয়াখালীতেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফেনীর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদনদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজানে ভারতের ত্রিপুরা এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ফেনীসহ ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে।

এমন প্রেক্ষাপটে বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করে চট্টগ্রাম বোর্ড।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ জানান, বোর্ডের অধীনে থাকা বিভিন্ন জেলায় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

“অনেক জায়গায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে গেছে, অনেক জায়গায় পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে- এমন প্রেক্ষাপটে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সব পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি নেওয়া হবে,” বিবিসি বাংলাকে জানান মি. সাজ্জাদ।

পর্যটন স্পট বন্ধ

এদিকে দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে পানি উঠে যাওয়া এবং পাহাড়ধসের শঙ্কায় পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১০ই জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত দুইদিনে বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচিতে তিনটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।

বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের শঙ্কা থাকায় খাগড়াছড়িতেও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে।

“খাগড়াছড়ি শহর পর্যন্ত যোগাযোগে এখন কোনো সমস্যা নেই। তবে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেকে যাওয়া বন্ধ রেখেছে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত।

পর্যটন নগরী কক্সবাজারেও টানা বৃষ্টির কারণে সমুদ্র উপকূলবর্তী নয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে। আগের তুলনায় বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বৃষ্টি কতদিন চলবে?


মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, পার্বত্য তিন জেলা, রংপুর ও সিলেটসহ দেশের ছয় বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির খবর দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার সকালেও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশিরভাগ জেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রামে গত রাত থেকে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ডের যে বার্তা আবহাওয়া অফিস দিয়েছে, সেখানে বান্দরবান জেলায় দেশের সব থেকে বেশি, ৩১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া রাঙামাটিতে ২৮৭ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ২৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

দেশের আটটি বিভাগের বেশিরভাগ জেলায় কমবেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ২৬৩ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১৫১ মিলিমিটার, দিনাজপুরে ১০৭ মিলিমিটার এবং শ্রীমঙ্গলে ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় বৃষ্টির এই প্রভাব ১১ই জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

বুধবার রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আবহাওয়া পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সমুদ্র উত্তাল থাকায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে বৃষ্টির প্রভাব কমতে শুরু করবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বন্যার শঙ্কা কতটা?


মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টি এবং উজানে ভারতের ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে পার্বত্য জেলা বান্দরবান এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আকস্মিক বন্যার কবলে পড়েছেন এসব জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার অনেক মানুষ।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল নয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় উজানে ভারতের কোচবিহারে ১০৪ মিলিমিটার, আগরতলায় ৮৮ মিলিমিটার, সাবরুমে ৮৫ মিলিমিটার এবং ত্রিপুরার মনুঘাটে ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এছাড়া ত্রিপুরার কুমারঘাট, অমরপুর, কৈলাশশহর, খোয়াই এবং আসামের সিলচরেও অধিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

উজানে ভারতের এই জায়গাগুলোতে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা, সিলেট বিভাগ ও ফেনী, নোয়াখালীর নদনদীতে পানি আরও বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, বুধবার সকাল নয়টা পর্যন্ত দেশের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানিই বেড়েছে। বান্দরবানের সাঙ্গু এবং মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ১২৭টি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৬৯টিতেই নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে।

অভ্যন্তরীণ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজানের প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন পয়েন্টে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায়, বাংলাদেশের অনেক জেলায় বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এছাড়া ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

এসব জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলেও জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এছাড়া, রংপুরের তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান বলছেন, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় দেশের উত্তর ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বেড়ে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তবে, “তিন থেকে চারদিন পর বৃষ্টির মাত্রা কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদীর পানিও কমতে শুরু করবে। ফলে এখনই বন্যা স্থায়ী রূপ নেওয়ার শঙ্কা কম,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখার কথা জানিয়েছেন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জেলা প্রশাসকরা। তারা বলছেন, পাহাড়ধসের শঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র ও শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

“ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে আসার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। পাহাড়ধসের কারণে মঙ্গলবার একটি সড়ক বন্ধ হলেও সেটি ইতোমধ্যে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে,” বিবিসি বাংলাকে জানান খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত।

তবে, পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান।

“আমরা মাইকিং অব্যাহত রেখেছি, আশ্রয়কেন্দ্রও সচল, কিন্তু অনেকেই তার বসতবাড়ি ছেড়ে যেতে চাইছেন না। কেউ কেউ কাছাকাছি নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের বাড়িয়ে আশ্রয় নিয়েছেন,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।