খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, ঢাকায় জলাবদ্ধতার সতর্কতা

বাংলাদেশজুড়ে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদদের মতে, দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে মাঝারি থেকে...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালইংল্যান্ড কি সত্যিই আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারবে? টুখেলের মাস্টারপ্ল্যান ও বেলিংহ্যামের বড় ভূমিকা!

ইংল্যান্ড কি সত্যিই আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারবে? টুখেলের মাস্টারপ্ল্যান ও বেলিংহ্যামের বড় ভূমিকা!

বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা স্বভাবতই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তারা সামনে উঠে আসে এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে। এতে মাঠে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যা ইংল্যান্ডের দ্রুতগতির খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলেও নরওয়ের বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই। অনেকেই মনে করছেন, এমন ফুটবল খেললে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টিকে থাকা কঠিন হবে। তবে সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকদের একাংশের বিশ্বাস, নরওয়ের বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সই ইংল্যান্ডের আসল চেহারা নয়। বরং বড় ম্যাচে দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে পারে।

নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের পর ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। অনেকের কাছে এটি কঠোর মন্তব্য মনে হলেও বাস্তবে তিনি খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি।

বরং টুখেল স্পষ্ট করে বলেছেন, দলের লড়াই করার মানসিকতা, একে অপরের জন্য আত্মত্যাগ এবং কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা প্রশংসার যোগ্য। তবে বলের দখল, আক্রমণ গড়ে তোলা এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।

একজন কোচ যখন বলেন, “তোমরা আরও ভালো খেলতে পারো”, তখন সেটি অনেক সময় সমালোচনা নয়, বরং খেলোয়াড়দের সামর্থ্যের প্রতি বিশ্বাসের প্রকাশ। টুখেলের বক্তব্যেও সেই বার্তাই ছিল।

টুখেলের মন্তব্যের পর জুড বেলিংহামের প্রতিক্রিয়া দ্রুত আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অনেকে এটিকে কোচ-খেলোয়াড় সম্পর্কের টানাপোড়েন হিসেবে দেখলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

ভাবুন, প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় টানা ৯০ মিনিটেরও বেশি সময় খেলেছেন। প্রায় সাড়ে সাত মাইল দৌড়েছেন। দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন। সেই শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির মধ্যেই প্রথম প্রশ্ন আসে—কোচ কি আপনার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন?

এমন পরিস্থিতিতে যে কোনও খেলোয়াড়ের আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া আসতেই পারে। বেলিংহামও বরাবরই আবেগ দিয়ে ফুটবল খেলেন। সেই আবেগই তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারে পরিণত করেছে।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মাত্র কয়েক দিন আগে নিজের সেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রকাশ্যে বিরোধে জড়ানো কোনও কোচই চাইবেন না।

সফল ম্যানেজাররা জানেন, কখন কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হয় এবং কখন সেটিকে আপাতত পাশে সরিয়ে রাখতে হয়। টুখেলও সম্ভবত সেটাই করবেন।

গত এক বছরে বেলিংহামকে যেভাবে পরিচালনা করেছেন, তার ফল এখন স্পষ্ট। ইংল্যান্ডের এই বিশ্বকাপ যাত্রায় সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন বেলিংহামই। মেক্সিকো ম্যাচের পর নরওয়ের বিপক্ষেও তিনিই দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন।

ইংল্যান্ড ম্যাচ জিতলেও পুরো সময় তারা খেলায় আধিপত্য দেখাতে পারেনি। দীর্ঘ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল নরওয়ের হাতে। মাঝমাঠে ইংল্যান্ড বারবার চাপে পড়েছে এবং আক্রমণভাগও ধারাবাহিকভাবে সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই পারফরম্যান্স দেখে অনেকেই বলছেন, ইংল্যান্ডকে হয়তো পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই কষ্ট করে ম্যাচ জিততে হবে। কিন্তু ফুটবল সবসময় একই নিয়মে চলে না।

একটি দলের বিপক্ষে দুর্বল দেখানো মানেই অন্য প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও একই চিত্র দেখা যাবে—এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।

ফুটবলে একটি পুরনো কথা রয়েছে—প্রতিপক্ষের ধরনই অনেক সময় ম্যাচের চেহারা বদলে দেয়।

এবারও ঠিক তেমনটাই হতে পারে।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড এমন অনেক দলের মুখোমুখি হয়েছে, যাদের বিপক্ষে শুরু থেকেই তাদের জয়ের দাবিদার ধরা হচ্ছিল। ফলে প্রতিপক্ষ রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেছে এবং ইংল্যান্ডকে জমাট ডিফেন্স ভাঙতে হয়েছে।

আর্জেন্টিনা সেই ধরনের দল নয়।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা স্বভাবতই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তারা সামনে উঠে আসে এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে। এতে মাঠে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যা ইংল্যান্ডের দ্রুতগতির খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এ কারণেই অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডকে আরও স্বচ্ছন্দ দেখাতে পারে।

যদিও আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তবুও তাদের পথ একেবারেই সহজ ছিল না।

কেপ ভার্দে, মিশর এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে তাদেরও অতিরিক্ত সময়, ভাগ্যের সহায়তা এবং অসাধারণ লড়াইয়ের প্রয়োজন হয়েছে।

অর্থাৎ শুধু ইংল্যান্ডই নয়, আর্জেন্টিনাও নির্দিষ্ট কয়েকজন তারকার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে।

যেমন ইংল্যান্ড ভরসা করছে জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেনের ওপর, তেমনি আর্জেন্টিনার বড় শক্তি লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।

বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে বেলিংহাম আগেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তাই অনেকের বিশ্বাস, সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবেন।

তবে শুধু বেলিংহাম ভালো খেললেই হবে না।

হ্যারি কেনকে গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। দুই উইঙ্গারকে আক্রমণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে মিডফিল্ডকে বলের দখল ধরে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

এই তিনটি দিকেই উন্নতি করতে পারলে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

ফুটবলের ইতিহাস বলছে, সবচেয়ে বড় ম্যাচগুলোতেই সেরা খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রকৃত সামর্থ্য দেখান।

নরওয়ের বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে, কিন্তু সেটিই তাদের শেষ পরিচয় নয়।

টুখেলের কঠোর মন্তব্য খেলোয়াড়দের নিরুৎসাহিত করার জন্য নয়, বরং আরও উচ্চমানের ফুটবল খেলতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য। কারণ একজন সফল কোচ জানেন, কখন সমালোচনা প্রয়োজন এবং কখন সেটিই দলের জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।

এখন সব নজর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে। সেখানে ইংল্যান্ড যদি নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে পারে, তাহলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষেও জয় অসম্ভব নয়। আর সেই লড়াইয়ে জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেন এবং দলের অন্য তারকারা নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারলেই বিশ্বকাপের ফাইনালের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।