খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিফোন নম্বর ছাড়াই WhatsApp ব্যবহার? কেন্দ্রের আপত্তি, Telegram-ও দিল জবাব!

ফোন নম্বর ছাড়াই WhatsApp ব্যবহার? কেন্দ্রের আপত্তি, Telegram-ও দিল জবাব!

ভারতে প্রায় ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন, যা দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। তুলনামূলকভাবে টেলিগ্রাম ও সিগন্যালের ব্যবহারকারী সংখ্যা অনেক কম।

ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারনেম ফিচার চালুর ঘোষণা আসার পর থেকেই প্রযুক্তি মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। যদিও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে একই সঙ্গে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং সিগন্যালকে নোটিস পাঠিয়ে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলে। ইতোমধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম সরকারের কাছে তাদের লিখিত জবাব জমা দিয়েছে এবং সেই জবাব বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মেটা সম্প্রতি ঘোষণা করে যে হোয়াটসঅ্যাপে এমন একটি Username Feature আনা হবে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ফোন নম্বর শেয়ার না করেই একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন। এই ফিচারটি বিশেষ করে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, পরিচয় গোপন রাখার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা আরও সহজে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এতে ফিশিং, ডিজিটাল প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং সাইবার জালিয়াতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ভারত সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মনে করছে, নতুন এই ফিচার যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া চালু হলে অপরাধীরা সহজেই নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে প্রতারণা করতে পারবে।

এই কারণেই মন্ত্রক হোয়াটসঅ্যাপকে নোটিস পাঠিয়ে জানতে চায়—

  • ইউজারনেম ফিচারে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
  • ভুয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করার ব্যবস্থা কী।
  • ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় কী ধরনের প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
  • ফিচার চালুর আগে সরকারের উদ্বেগ কীভাবে সমাধান করা হবে।

একই ধরনের ব্যাখ্যা চাওয়া হয় টেলিগ্রামসিগন্যাল থেকেও।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাদের লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়েছে। যদিও সংস্থাটি প্রকাশ্যে তাদের জবাবের বিস্তারিত জানায়নি, তবে সরকারকে তারা আশ্বস্ত করেছে যে আলোচনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভারতে ইউজারনেম ফিচার চালু করা হবে না।

এই সিদ্ধান্ত সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

হোয়াটসঅ্যাপের পর টেলিগ্রামও সরকারের নোটিসের জবাব দিয়েছে। কারণ টেলিগ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই ইউজারনেম ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।

সরকার জানতে চেয়েছিল, টেলিগ্রাম কীভাবে এই ফিচারের অপব্যবহার রোধ করে এবং কেন এই সুবিধা চালু রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত। টেলিগ্রাম তাদের ব্যাখ্যা জমা দিলেও সেই জবাবের বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

সরকার সিগন্যালকেও একই বিষয়ে নোটিস পাঠিয়েছিল। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত সিগন্যালের পক্ষ থেকে সরকারকে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সরকারের মূল উদ্বেগ হলো, ইউজারনেম ব্যবস্থার কারণে নিম্নলিখিত অপরাধগুলো বৃদ্ধি পেতে পারে—

  • অনলাইন প্রতারণা
  • ফিশিং আক্রমণ
  • ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়
  • ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগ
  • সাইবার জালিয়াতি
  • পরিচয় গোপন রেখে অপরাধ সংঘটন

ভারতে ডিজিটাল লেনদেন ও অনলাইন যোগাযোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সরকার আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

ভারতে প্রায় ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন, যা দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। তুলনামূলকভাবে টেলিগ্রাম ও সিগন্যালের ব্যবহারকারী সংখ্যা অনেক কম।

এই বিশাল ব্যবহারকারী ভিত্তির কারণে হোয়াটসঅ্যাপে নতুন কোনো ফিচার চালুর আগে সরকারের বাড়তি সতর্কতা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

ইউজারনেম ফিচার সফলভাবে চালু হলে ব্যবহারকারীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাবেন—

  • ফোন নম্বর গোপন রাখা যাবে।
  • অপরিচিতদের সঙ্গে নিরাপদে যোগাযোগ করা সহজ হবে।
  • ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও পেশাদার হবে।
  • ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বৃদ্ধি পাবে।
  • নম্বর পরিবর্তন করলেও যোগাযোগ বজায় রাখা সহজ হবে।

যদিও ফিচারটির বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, তবুও কিছু ঝুঁকিও রয়েছে—

  • ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি সহজ হতে পারে।
  • প্রতারকরা নতুন কৌশলে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করতে পারে।
  • পরিচয় যাচাই কঠিন হতে পারে।
  • সাইবার অপরাধ তদন্তে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
  • ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্তিকর ইউজারনেমের শিকার হতে পারেন।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের জমা দেওয়া ব্যাখ্যা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করছে। নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকারের মূল্যায়নের পরই স্পষ্ট হবে, ভারতে এই ফিচার চালুর অনুমতি দেওয়া হবে কি না, অথবা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম ফিচার ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের নতুন পথ খুলে দিতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করছে। ভবিষ্যতে এই ফিচার চালু হবে কি না এবং হলে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে, সেটিই এখন প্রযুক্তি জগতের অন্যতম আলোচিত বিষয়।