খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

টেস্টোস্টেরন থেরাপি কি টাইপ ২ ডায়াবিটিস সারাতে পারে? নতুন গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

টেস্টোস্টেরন থেরাপি ও টাইপ ২ ডায়াবিটিস: গবেষণা কী বলছে? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরুষদের মধ্যে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও প্রবীণ পুরুষদের...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালস্কুটারের গতিকেও হার মানাতেন ভিনিসিয়াস! বিশ্বকাপের আগে জানুন তাঁর অবিশ্বাস্য গল্প

স্কুটারের গতিকেও হার মানাতেন ভিনিসিয়াস! বিশ্বকাপের আগে জানুন তাঁর অবিশ্বাস্য গল্প

আট বছর বয়সে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই তাঁর অসাধারণ প্রতিভা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বল পায়ে পাওয়ার পর কী করতে হবে, কোথায় পাস দিতে হবে কিংবা কখন আক্রমণে যেতে হবে—সবকিছু যেন আগেভাগেই বুঝে ফেলতেন তিনি।

ফুটবল ইতিহাসে অনেক তারকার উত্থান দেখা গেছে। কিন্তু কিছু গল্প থাকে, যা শুধু সাফল্যের নয়, সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং স্বপ্নপূরণেরও। ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গল্প ঠিক তেমনই। আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হলেও তাঁর শিকড় রয়ে গেছে রিও ডি জেনেইরোর সোন গোনসালোর সেই ছোট্ট মাঠে, যেখানে প্রথম ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তাঁর।

রিও ডি জেনেইরোর সোন গোনসালো এলাকার ফ্ল্যামেঙ্গো সকার স্কুলের একটি সাধারণ মাঠ আজ অসাধারণ এক স্মৃতির সাক্ষী। মাঠের পাশের দেয়ালে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে—“বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ এখান থেকেই গিয়েছেন।”

এই বাক্যটি শুধু একটি প্রশংসা নয়, বরং স্থানীয় মানুষের আবেগের প্রতিফলন। কারণ এখান থেকেই ফুটবল জীবনের প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় নাম হয়ে ওঠার অনেক আগে তিনি ছিলেন এলাকার সবার পরিচিত এক সাধারণ ছেলে।

ভিনিসিয়াসের বয়স তখন মাত্র আট বছর। স্থানীয় বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে তিনি একের পর এক গোল করে আলোচনায় চলে আসেন। কিন্তু শুধু গোল করার দক্ষতাই নয়, তাঁর বিস্ময়কর গতিও সবার নজর কাড়ে।

মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকরা প্রায়ই মজা করে বলতেন, “একটা স্কুটার নিয়ে এসো, না হলে ওকে ধরা যাবে না!” তাঁর দৌড়ের গতি এতটাই বেশি ছিল যে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা অনেক সময় তাঁকে থামানোর পথই খুঁজে পেত না।

এই ঘটনাগুলো আজও এলাকার মানুষের মুখে মুখে ফেরে। তারা গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন সেই ছেলেটিকে, যিনি একদিন বিশ্বের অন্যতম বড় ফুটবল তারকা হয়ে উঠবেন বলে তখনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

বর্তমানের সুপারস্টার ভিনিসিয়াসের পথ অবশ্য সবসময় মসৃণ ছিল না। ছোটবেলায় তাঁর প্রতিভা অনেককে মুগ্ধ করলেও বয়সের কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাতে হয়েছিল তাঁকে।

স্থানীয় টুর্নামেন্টে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখে ওদেতে সাও পাইয়ো স্কুলের ফুটসল দলের কোচ ফার্নান্দো লেসা তাঁকে স্কুলে ভর্তির উদ্যোগ নেন। তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলেন ভিনিসিয়াসকে অ্যাথলেটিক্স স্কলারশিপ দেওয়ার জন্য।

ফার্নান্দো দৃঢ় বিশ্বাস করতেন, এই ছেলেটি একদিন বিশ্ব ফুটবল কাঁপাবে। কিন্তু স্কুলের নিয়ম ছিল ভিন্ন। স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স হতে হতো ১১ বছর। তখন ভিনিসিয়াসের বয়স ছিল তার চেয়ে অনেক কম। ফলে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

এই ঘটনা প্রমাণ করে, প্রতিভার পাশাপাশি ধৈর্যও একজন ক্রীড়াবিদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

ভিনিসিয়াস মাত্র ছয় বছর বয়সে ফ্ল্যামেঙ্গো ইউথ অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন। প্রথম দিন থেকেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা ছিলেন। তাঁর বল নিয়ন্ত্রণ, গতি এবং খেলার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কোচদের বিস্মিত করেছিল।

ফ্ল্যামেঙ্গোর প্রাথমিক কোচ কাকাউ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ভিনিসিয়াসের মধ্যে শুরু থেকেই বিশেষ কিছু ছিল। বয়স কম হলেও মাঠে তাঁর চিন্তাভাবনা ছিল অনেক পরিণত।

আট বছর বয়সে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই তাঁর অসাধারণ প্রতিভা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বল পায়ে পাওয়ার পর কী করতে হবে, কোথায় পাস দিতে হবে কিংবা কখন আক্রমণে যেতে হবে—সবকিছু যেন আগেভাগেই বুঝে ফেলতেন তিনি।

বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও ভিনিসিয়াস নিজের শিকড় ভুলে যাননি। যখনই সুযোগ পান, তিনি ফিরে আসেন তাঁর পুরনো অ্যাকাডেমিতে। দেখা করেন শৈশবের কোচ কাকাউ এবং অন্যান্য প্রশিক্ষকদের সঙ্গে।

ফ্ল্যামেঙ্গো সকার স্কুলের বিভিন্ন দেয়ালে এখন সাজানো রয়েছে তাঁর অটোগ্রাফ দেওয়া ছবি, স্মারক এবং জার্সি। সম্প্রতি তিনি তাঁর ক্লাবের একটি জার্সিও উপহার হিসেবে দিয়ে গেছেন।

এই আচরণই তাঁকে শুধু একজন বড় ফুটবলার নয়, একজন বড় মনের মানুষ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। স্থানীয়রা তাই আজও তাঁকে “পাড়ার ছেলে” বলেই ডাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

বর্তমান সময়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসার নাম ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার দক্ষতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে যখন তিনি দেশের জার্সি গায়ে খেলতে নামেন, তখন শুধু সমর্থকরাই নয়, তাঁর শৈশবের কোচ, প্রতিবেশী এবং এলাকার মানুষও প্রার্থনা করতে থাকেন তাঁর সাফল্যের জন্য।

তাদের কাছে ভিনিসিয়াস শুধু একজন তারকা নন। তিনি প্রমাণ যে ছোট্ট একটি মাঠ থেকেও বিশ্বজয়ের গল্প লেখা সম্ভব।

ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জীবনকাহিনি নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। বয়সের কারণে স্কলারশিপ না পাওয়া, সীমিত সুযোগের মধ্যে বড় হওয়ার চেষ্টা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বসেরা পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া—সবকিছুই তাঁর সংগ্রামের সাক্ষ্য বহন করে।

আজ যখন বিশ্বের বড় বড় স্টেডিয়ামে তাঁর নাম ধ্বনিত হয়, তখন সোন গোনসালোর মানুষরা গর্বের সঙ্গে বলেন, “ও আমাদেরই ছেলে।”

ভিনিসিয়াসের গল্প দেখিয়ে দেয়, স্বপ্ন যদি বড় হয় এবং পরিশ্রম যদি নিরন্তর হয়, তাহলে কোনো বাধাই সাফল্যের পথে চূড়ান্ত প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আর সেই কারণেই তিনি আজ শুধু ব্রাজিলের নয়, বিশ্ব ফুটবলের কোটি কোটি তরুণের অনুপ্রেরণার নাম।