খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলইংল্যান্ডের জন্য ধাক্কা! রোনাল্ডোর দলের জন্য মাঠ ‘লক’ – কী বলছে FIFA...

ইংল্যান্ডের জন্য ধাক্কা! রোনাল্ডোর দলের জন্য মাঠ ‘লক’ – কী বলছে FIFA নিয়ম?

পর্তুগালের দল বিশ্বকাপের আগে ওই মাঠ ব্যবহার করবে। তাই তারা চায় না, অন্য কোনো দল আগে গিয়ে সেখানে অনুশীলন করে মাঠের ঘাস নষ্ট করুক। এটা পুরোপুরি তাদের অধিকার, কারণ তারা আগেই বুকিং নিশ্চিত করেছে।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপ। এখানে প্রতিটি দল চায় নিখুঁত প্রস্তুতি নিতে, যাতে মাঠে নামার আগে কোনো ঘাটতি না থাকে। কিন্তু সেই প্রস্তুতির পথেই এবার অদ্ভুত এক বাধার মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড। সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও, নির্ধারিত কিছু মাঠে তারা অনুশীলন করতে পারছে না। আর এর পেছনে রয়েছে ফিফার কঠোর নিয়ম—যা এখন বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফিফার নিয়মেই থমকে ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা

বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে ফিফা সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায়। তাই আগে থেকেই নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করা হয়। এই নিয়মের মধ্যে অন্যতম হলো ‘পিচ প্রোটেকশন পিরিয়ড’। সহজ করে বললে, কোনো দল যদি একটি মাঠ আগাম বুক করে রাখে, তাহলে সেই মাঠে নির্দিষ্ট সময়ের আগে অন্য কোনো দল অনুশীলন করতে পারবে না।

এই নিয়মের কারণও আছে। মাঠের ঘাস যাতে ভালো থাকে, কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়—সেটা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। কারণ, আন্তর্জাতিক মানের ম্যাচের জন্য মাঠের অবস্থা একেবারে নিখুঁত হওয়া জরুরি।

রোনাল্ডোদের জন্য সংরক্ষিত মাঠ

এই নিয়মের কারণেই এখন সমস্যায় পড়েছে ইংল্যান্ড। যে মাঠগুলোতে তারা অনুশীলন করতে চেয়েছিল, সেগুলো আগে থেকেই বুক করে রেখেছে পর্তুগাল। ফলে ইংল্যান্ড সেই মাঠে ঢুকতেই পারছে না।

আরও পড়ুন :  নেমারের আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়! চোখের জলে শেষ হলো ব্রাজিল কিংবদন্তির স্বপ্ন

পর্তুগালের দল বিশ্বকাপের আগে ওই মাঠ ব্যবহার করবে। তাই তারা চায় না, অন্য কোনো দল আগে গিয়ে সেখানে অনুশীলন করে মাঠের ঘাস নষ্ট করুক। এটা পুরোপুরি তাদের অধিকার, কারণ তারা আগেই বুকিং নিশ্চিত করেছে।

ফ্লোরিডায় বিকল্প অনুশীলন

এখন ইংল্যান্ড দল অনুশীলন করছে ফ্লোরিডার গার্ডেন্স নর্থ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট পার্কে। বিশাল এই স্পোর্টস কমপ্লেক্স প্রায় ৮২ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এখানে রয়েছে দশটি ফিফা অনুমোদিত মাঠ, যা আন্তর্জাতিক মানের।

ইংল্যান্ড এখানেই নিজেদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও তারা মূলত অন্য কিছু মাঠ ব্যবহার করতে চেয়েছিল, তবুও এই বিকল্প ব্যবস্থাও বেশ মানসম্মত। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

‘পিচ প্রোটেকশন পিরিয়ড’ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

এই নিয়মটা একটু ভালোভাবে বুঝে নেওয়া দরকার। ধরো, তুমি একটা নতুন কার্পেট কিনলে। তুমি চাইবে না, সবাই এসে সেটার ওপর হাঁটাহাঁটি করুক—কারণ এতে সেটা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে। ঠিক একইভাবে, ফুটবল মাঠের ঘাসও খুব সংবেদনশীল।

বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে মাঠের মান বজায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো দল যখন একটি মাঠ বুক করে, তখন তাদের জন্য সেই মাঠকে একেবারে সতেজ রাখা হয়। এই সময়টাকেই বলা হয় ‘পিচ প্রোটেকশন পিরিয়ড’।

আরও পড়ুন :  রাফিনহার চোট কতটা গুরুতর? বিশ্বকাপে ব্রাজিল শিবিরে দুশ্চিন্তার ছায়া

ইংল্যান্ডের জন্য নতুন কিছু নয়

মজার বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি ইংল্যান্ডের জন্য একেবারেই নতুন নয়। তারা আগেই জানত যে এমন নিয়ম আছে এবং সেটার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা আসতে পারে।

তাই পরিকল্পনা করার সময়ই তারা বিকল্প ব্যবস্থা ভেবে রেখেছিল। এখন সেই পরিকল্পনাই কাজে লাগছে। তারা যে মাঠগুলো ব্যবহার করছে, সেগুলোর মানও অত্যন্ত ভালো, তাই খুব বড় কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।

অতিরিক্ত সুবিধা: নিজস্ব জিম

শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকেনি ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি। তারা নিজেদের মতো করে একটি আধুনিক জিমনেশিয়ামও তৈরি করেছে। এতে খেলোয়াড়রা ফিটনেস ট্রেনিং, রিকভারি সেশন—সবকিছু এক জায়গাতেই করতে পারছে।

তবে পর্তুগাল এই জিম ব্যবহার করবে কি না, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। যদি করে, তাহলে সেটি হবে দুই দলের মধ্যে এক ধরনের পরোক্ষ সংযোগ।

অর্থের দিক থেকেও বড় বিনিয়োগ

এই ধরনের উচ্চমানের মাঠ ব্যবহার করতে গেলে খরচও কম নয়। ইংল্যান্ডকে প্রতিদিনই ফিফার মাধ্যমে মাঠের মালিকদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন :  মিশরকে ‘ডাকাতি’ করে জিতল আর্জেন্টিনা? রহস্যময় ই-মেলে ফুটবল বিশ্বে নতুন বিস্ফোরণ!

এটা শুনতে হয়তো একটু অবাক লাগতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ এখানে প্রতিটি ছোট বিষয়ও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রস্তুতিতে কোনো ছাড় নয়

সব বাধা সত্ত্বেও ইংল্যান্ড তাদের প্রস্তুতিতে কোনো ছাড় দিচ্ছে না। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে খেলোয়াড়—সবার লক্ষ্য একটাই, সেরা পারফরম্যান্স দেওয়া।

তারা জানে, মাঠ বদলালেই খেলার মান বদলায় না। আসল বিষয় হলো টিমওয়ার্ক, কৌশল আর মানসিক প্রস্তুতি। সেই জায়গাগুলোতেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শেষ কথা

ফুটবল শুধু মাঠের খেলা নয়, এর পেছনে থাকে অনেক পরিকল্পনা, নিয়ম আর কৌশল। ইংল্যান্ডের এই পরিস্থিতি সেটা আবারও প্রমাণ করল। নিয়মের কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা এলেও, বড় দলগুলো সবসময়ই বিকল্প পথ খুঁজে নেয়।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ছোট কোনো বিষয়ও বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি নিয়ম—সবকিছুরই গুরুত্ব অনেক।

এখন দেখার বিষয়, এই বাধা পেরিয়ে ইংল্যান্ড কতটা সফলভাবে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায় এবং মাঠে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ