খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeলাইফস্টাইল২০ বছর পেরোলেই হার্টের CT Scan? জিমে যাওয়ার আগে দেবী শেট্টির বড়...

২০ বছর পেরোলেই হার্টের CT Scan? জিমে যাওয়ার আগে দেবী শেট্টির বড় সতর্কবার্তা!

এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা জানা যায়। খারাপ কোলেস্টেরল বেশি থাকলে ধমনীতে চর্বি জমে ব্লকেজের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অল্প বয়স থেকেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।

আজকাল সুস্থ ও আকর্ষণীয় শরীর গড়ার ইচ্ছায় তরুণ-তরুণীদের বড় একটি অংশ নিয়মিত জিমে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ওয়েট ট্রেনিং, স্ট্রেংথ ট্রেনিং এবং উচ্চমাত্রার ব্যায়ামের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। তবে শরীরের বাইরের ফিটনেসই সব নয়। হৃদ্‌যন্ত্র ভেতর থেকে কতটা সুস্থ, তা না জেনে অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। এই কারণেই খ্যাতনামা হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ও কার্ডিয়াক সার্জন দেবী শেট্টি তরুণদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন।

জিমে যাওয়ার আগে হার্ট পরীক্ষা কেন প্রয়োজন?

অনেকেই মনে করেন বয়স কম থাকলে হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা থাকে না। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম বয়সিদের মধ্যে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বাইরে থেকে একজন মানুষ সুস্থ, সবল ও ফিট দেখালেও তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে জন্মগত ত্রুটি, ধমনীতে ব্লকেজ বা অন্য কোনো সমস্যা থাকতে পারে, যা সাধারণভাবে বোঝা যায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স ২০ বছর পার হওয়ার পর অন্তত একবার হৃদ্‌যন্ত্রের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। আর যারা নিয়মিত জিমে ভারী ওজন তোলেন বা উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভারী ব্যায়ামে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে?

স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা ওয়েট লিফটিংয়ের সময় শরীরের সঙ্গে সঙ্গে হৃদ্‌যন্ত্রকেও অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। অনেক সময় ব্যায়ামের সময় হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৫০-এরও বেশি হয়ে যায়। যদি আগে থেকেই হৃদ্‌যন্ত্রে কোনো অজানা সমস্যা থাকে, তাহলে এই অতিরিক্ত চাপ মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন :  আরসিবির শিরোপা জয়ে আবেগে ভাসলেন বিরাট ও অনুষ্কা, নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলল ‘বিরুষ্কা’ মুহূর্ত

বিশেষ করে ধমনীতে ব্লকেজ, জন্মগত হৃদ্‌রোগ বা হার্টের পেশির দুর্বলতা থাকলে ভারী ব্যায়ামের সময় হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক বা গুরুতর কার্ডিয়াক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই শুধু শরীরচর্চা নয়, নিরাপদ শরীরচর্চার জন্য আগেভাগে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।

বয়স ২০ পার হলে কোন কোন হার্ট পরীক্ষা করানো উচিত?

১. লিপিড প্রোফাইল টেস্ট

এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা জানা যায়। খারাপ কোলেস্টেরল বেশি থাকলে ধমনীতে চর্বি জমে ব্লকেজের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অল্প বয়স থেকেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।

২. ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি)

ইসিজি পরীক্ষার মাধ্যমে হৃদ্‌যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ এবং হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিকতা যাচাই করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা হার্টের অন্যান্য সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত এই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে।

৩. ইকোকার্ডিওগ্রাম

হার্টের পেশি, ভালভ এবং রক্তপ্রবাহ ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা জানতে ইকোকার্ডিওগ্রাম অত্যন্ত কার্যকর। এটি হৃদ্‌যন্ত্রের গঠন ও কার্যক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়।

৪. সিটি করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাম

ধমনীর ভেতরে ব্লকেজ বা সংকোচন রয়েছে কি না তা নির্ণয়ের জন্য এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস রয়েছে বা উচ্চঝুঁকির কারণ আছে, তাঁদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই পরীক্ষা উপকারী হতে পারে।

আরও পড়ুন :  কিছু ভাবার আগেই কি সিদ্ধান্ত নেয় মস্তিষ্ক? স্নায়ুবিজ্ঞানের নতুন গবেষণায় উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য

৫. সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (সিআরপি) টেস্ট

সিআরপি একটি বিশেষ ধরনের প্রোটিন, যা শরীরে প্রদাহের মাত্রা নির্দেশ করে। রক্তে এই প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে গেলে তা হৃদ্‌রোগের সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক এই পরীক্ষার পরামর্শ দেন।

৬. হোমোসিস্টিন টেস্ট

হোমোসিস্টিন একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা খাবারের বিপাকের সময় তৈরি হয়। তবে এর মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে ধমনীর ভেতরে প্লাক জমতে শুরু করতে পারে। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।

কারা সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকবেন?

যাঁরা নিয়মিত জিমে ভারী ওজন তোলেন, স্ট্রেংথ ট্রেনিং করেন, উচ্চমাত্রার কার্ডিও ব্যায়াম করেন অথবা খুব অল্প সময়ের মধ্যে শরীর গঠনের জন্য অতিরিক্ত চাপ দেন, তাঁদের অবশ্যই স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া পরিবারে যদি হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকে, তাহলে ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আরও বেশি প্রয়োজন।

ব্যায়ামের সময় কোন লক্ষণগুলোকে অবহেলা করা যাবে না?

ব্যায়ামের সময় শরীর কিছু সতর্ক সংকেত দিতে পারে। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভব হওয়া
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি
  • পিঠ, কাঁধ বা বাহুতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া
  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি
  • হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া
আরও পড়ুন :  আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতা! কী ঘটতে যাচ্ছে?

এই ধরনের উপসর্গ কখনওই স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়।

শুধু শরীর নয়, হৃদ্‌যন্ত্রও ফিট থাকা জরুরি

শরীরচর্চা নিঃসন্দেহে সুস্থ জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সঠিক প্রস্তুতি ছাড়া অতিরিক্ত ব্যায়াম কখনও নিরাপদ নয়। অনেক সময় বাহ্যিকভাবে সুস্থ দেখালেও শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা হৃদ্‌রোগের সমস্যা বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, বয়স ২০ বছর পার হওয়ার পর অন্তত একবার প্রয়োজনীয় হার্ট পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। এরপর ব্যক্তিগত ঝুঁকি, পারিবারিক ইতিহাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ফলো-আপ করা ভালো। বিশেষ করে যারা জিমে ভারী ব্যায়াম বা ওয়েট ট্রেনিং করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সচেতনতা জীবন বাঁচাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফিটনেস অর্জনের জন্য জিমে যাওয়া ভালো অভ্যাস, কিন্তু নিরাপত্তাকে কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। শরীরের পেশি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সুস্থ হৃদ্‌যন্ত্র। তাই ভারী ব্যায়াম শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরীক্ষা করান, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন এবং নিজের শরীরের দেওয়া সতর্ক সংকেতকে গুরুত্ব দিন। সচেতন থাকলে সুস্থ শরীরের পাশাপাশি নিরাপদ ভবিষ্যৎও নিশ্চিত করা সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ