Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeবিশ্ব সংবাদওয়েস্ট বেঙ্গলমণিপুরে নতুন করে হিংসার আগুন! কারা চালাল কুকি গ্রামে প্রাণঘাতী হামলা?

মণিপুরে নতুন করে হিংসার আগুন! কারা চালাল কুকি গ্রামে প্রাণঘাতী হামলা?

এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে স্থানীয় কুকি সম্প্রদায়ের একাংশের অভিযোগ, এর পিছনে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাত থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সরকারি পর্যায়ে কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

মণিপুরে দীর্ঘদিনের জাতিগত উত্তেজনা ও সহিংসতা নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিল। শুক্রবার ভোরে কাংপোকপি জেলার একটি কুকি অধ্যুষিত গ্রামে বন্দুকবাজদের হামলায় এক দম্পতি-সহ তিন জন নিহত হয়েছেন। হামলাকারীরা গ্রামে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর পাশাপাশি একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়, আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভোরের অন্ধকারে হামলা

স্থানীয় সূত্রের দাবি, শুক্রবার ভোর প্রায় ৪টা ১০ মিনিট নাগাদ কয়েক জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী কাংপোকপি জেলার লোইবোল খুল্লেন গ্রামে ঢুকে পড়ে। তখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকা গুলির শব্দে গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হামলাকারীরা ঘুমন্ত মানুষের উপর নির্বিচারে গুলি চালায় বলে অভিযোগ।

এই আকস্মিক হামলায় গ্রামবাসীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ পাননি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন লেটখনগাম হাওকিপ (৩৪), তাঁর স্ত্রী তিনমারি হাওকিপ (৩০) এবং জঙ্গমিনলান হাওকিপ (৩৪)।

সাতটি বাড়িতে আগুন

গুলি চালানোর পর হামলাকারীরা গ্রামটির কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্তত সাতটি বাড়ি পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে আসে।

ঘটনার খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত এলাকায় পৌঁছালেও ততক্ষণে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।

কারা দায়ী? জল্পনা বাড়ছে

এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে স্থানীয় কুকি সম্প্রদায়ের একাংশের অভিযোগ, এর পিছনে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাত থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সরকারি পর্যায়ে কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

কাংপোকপি জেলায় কুকি জনগোষ্ঠীর সংখ্যাধিক্য থাকলেও সেখানে নাগা সম্প্রদায়েরও বসবাস রয়েছে। ফলে বহুদিন ধরেই এলাকা সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত। প্রশাসন জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হচ্ছে এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

নিহতদের পরিচয়

নামবয়স
লেটখনগাম হাওকিপ৩৪
তিনমারি হাওকিপ৩০
জঙ্গমিনলান হাওকিপ৩৪

কুকি সংগঠনের নিন্দা

কুকি সম্প্রদায়ের সংগঠন কুকি ইনপি মণিপুর এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপর এমন হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় নির্দল বিধায়ক হাওখোলেট কিপজেন ঘটনাটির নিন্দা করে বলেছেন, মণিপুরে শান্তি প্রতিষ্ঠা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অবিশ্বাসের পরিবেশ দূর করতে কেবল নিরাপত্তা অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন রাজনৈতিক সংলাপ ও সম্প্রদায়গুলির মধ্যে আস্থার পুনর্গঠন।

আতঙ্কে গ্রামবাসীরা

হামলার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বহু পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রশাসন অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং গ্রামগুলিতে টহল বাড়ানো হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাতে নিরাপত্তা জোরদার না করলে আরও হামলার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়দের কাছে আশ্রয় নেওয়ার কথাও ভাবছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি

  1. নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
  2. অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
  3. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও সহায়তার বিষয়ে প্রশাসন আলোচনা করছে।
  4. হামলার নেপথ্যের কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মণিপুরে চলমান অশান্তি

মণিপুর গত কয়েক বছর ধরে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টা অভিযোগ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলা কেবল প্রাণহানি ঘটায় না, বরং স্থানীয় মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ভয় ও অবিশ্বাস তৈরি করে।

সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই অশান্ত পরিস্থিতিকেই আরও জটিল করে তুলেছে। শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অংশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সারসংক্ষেপ

কাংপোকপি জেলার কুকি গ্রামে ভোরের হামলায় নিহত ৩

  1. নিহতদের মধ্যে এক দম্পতি রয়েছেন।
  2. অন্তত সাতটি বাড়িতে আগুন ধরানোর অভিযোগ উঠেছে।
  3. কোনও গোষ্ঠী দায় স্বীকার না করলেও নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
  4. পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।
  5. কুকি সংগঠন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

মণিপুরের কাংপোকপি জেলার এই হামলা আবারও দেখাল যে রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা এখনও কঠিন চ্যালেঞ্জ। নিরস্ত্র গ্রামবাসীদের উপর হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে তদন্তের অগ্রগতি, দোষীদের শনাক্তকরণ এবং প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর।