খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজছাত্র আন্দোলন ঘিরে বিস্ফোরক পরিস্থিতি! রাহুলদের আটক, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ

ছাত্র আন্দোলন ঘিরে বিস্ফোরক পরিস্থিতি! রাহুলদের আটক, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ

কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকার এসব দাবির বিষয়ে ইতিবাচক কোনো বার্তা দেয়নি। অন্যদিকে সরকারের দাবি, সংসদে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনার মতো প্রাথমিক বিষয়ে তারা ইতোমধ্যে নমনীয় অবস্থান নিয়েছিল। তবে পরে কংগ্রেস অতিরিক্ত শর্ত যোগ করায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি।

দিল্লিতে ছাত্র-যুবকদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং দলের একাধিক সাংসদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থান-বিক্ষোভের কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেসশাসিত দুই রাজ্যের শীর্ষ নেতারাও। তবে সন্ধ্যার আগেই দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায়, যার ফলে ঘটনাটি জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ধর্না শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উপর আক্রমণ শুধু কয়েকজন তরুণের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের প্রতিটি পরিবারের উপর আঘাত। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক দেশে ছাত্রদের কণ্ঠস্বর দমন করা যায় না এবং সরকারকে এই ঘটনার জবাবদিহি করতেই হবে।

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, যারা শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করেন তারা যেন এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়ান। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, এই প্রতিবাদ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি শিক্ষাব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন।

লোককল্যাণ মার্গ এলাকা দেশের অন্যতম উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত অঞ্চল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পক্ষ থেকে কংগ্রেস নেতৃত্বকে এই এলাকায় অবস্থান-বিক্ষোভ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস সেই আহ্বান গ্রহণ করেনি এবং কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াই! আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচে কী হতে পারে?

পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে যান। তিনি কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ধর্না প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে আবার আন্দোলনস্থলে ফিরে আসেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা হলেও কংগ্রেস নেতৃত্ব তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

কংগ্রেস নেতৃত্ব আন্দোলনের মাধ্যমে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করে।

প্রথমত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

দ্বিতীয়ত, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের কথিত কঠোর ব্যবহারের জন্য মোদী সরকারের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা।

তৃতীয়ত, সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি।

চতুর্থত, নতুন শিক্ষানীতি এবং শিক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে সংসদের অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা।

কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকার এসব দাবির বিষয়ে ইতিবাচক কোনো বার্তা দেয়নি। অন্যদিকে সরকারের দাবি, সংসদে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনার মতো প্রাথমিক বিষয়ে তারা ইতোমধ্যে নমনীয় অবস্থান নিয়েছিল। তবে পরে কংগ্রেস অতিরিক্ত শর্ত যোগ করায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি।

এই বিক্ষোভে শুধু কংগ্রেস নেতারাই নয়, কেরল ও কর্নাটকের কংগ্রেস নেতৃত্বও অংশ নেন। পাশাপাশি এনসিপি (এসপি)-এর সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপের আসল তারকা কি লামিনে ইয়ামালের ভাই? কেইনের মিষ্টি কাণ্ডে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব!

বিরোধী দলগুলোর এই সম্মিলিত উপস্থিতি স্পষ্ট করে যে বিষয়টি কেবল একটি দলের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এটি কেন্দ্রের শিক্ষা নীতি, ছাত্র আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রশ্নে রূপ নেয়।

ঘটনার সূত্রপাত মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সংগঠন আন্দোলনে নামে এবং দিল্লিতে সংসদ অভিযান কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বাধা অতিক্রম করে সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদের প্রধান ফটক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই সময় সংসদের অধিবেশন চলছিল এবং প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করে।

অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান ছিল, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। কংগ্রেসও একই দাবিকে সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুন :  আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করেছে ভারত? বিতর্কের জবাবে মোদি সরকারের স্পষ্ট অবস্থান

সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও বিরোধী দলগুলোর দাবি, শুধুমাত্র তদন্ত যথেষ্ট নয়। তারা মনে করে, প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।

রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী নেতাদের আটক করার ঘটনায় সংসদের চলমান অধিবেশনেও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে সরকার আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে।

আগামী দিনে এই ইস্যু সংসদের ভেতরে এবং বাইরে আরও তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সরকারের অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলগুলো যে চাপ অব্যাহত রাখবে, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে স্পষ্ট।

দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, কংগ্রেসের ধর্না এবং বিরোধী নেতাদের আটক—সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন এক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং সরকারের জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আগামী দিনে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে, নাকি রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ