খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশাল৬ ফুট ৫ ইঞ্চির ভাইকিং যোদ্ধা! একাই ব্রাজিলকে বিদায় করলেন আর্লিং হালান্ড

৬ ফুট ৫ ইঞ্চির ভাইকিং যোদ্ধা! একাই ব্রাজিলকে বিদায় করলেন আর্লিং হালান্ড

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে প্রথম আঘাত হানেন হালান্ড। দুর্দান্ত একটি ক্রস থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে লাফিয়ে উঠে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান তিনি। ব্রাজিলের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফুটবলপ্রেমীরা আরেকটি বড় অঘটনের সাক্ষী হলেন। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক আর্লিং ব্রাউট হালান্ড। ম্যাচের শেষ দিকে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে তিনি ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দেন। একই সঙ্গে আবারও প্রমাণ করেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে কেন তাঁর নাম সবার আগে উচ্চারিত হয়।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ব্রাজিল বলের দখল রাখলেও নরওয়ের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে প্রথম আঘাত হানেন হালান্ড। দুর্দান্ত একটি ক্রস থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে লাফিয়ে উঠে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান তিনি। ব্রাজিলের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।

এরপর ম্যাচের শেষ দিকে আরও একবার নিজের অসাধারণ ফিনিশিং দক্ষতার পরিচয় দেন নরওয়েজিয়ান এই তারকা। তিনজন ডিফেন্ডারের চাপের মধ্যেও বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত করেন। গোল করার পরও অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস দেখাননি তিনি। বরং শান্তভাবেই সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন করেন, যা তাঁর আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।

আর্লিং হালান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সীমিত সুযোগকে গোলের রূপ দেওয়া। তিনি এমন একজন স্ট্রাইকার, যিনি পুরো ম্যাচে খুব বেশি বল না পেলেও একটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

আরও পড়ুন :  ওসমান হাদির মামলায় নতুন বিতর্ক! বোন মাসুমা হাদির বিস্ফোরক প্রশ্ন

ম্যাচ শেষে হালান্ড বলেন,

“আমি যদি এক বা দুটি সুযোগ পাই, সেগুলো থেকেই গোল করার চেষ্টা করি। ঠিক কীভাবে হয় জানি না, কিন্তু হয়ে যায়।”

এই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে বিশ্বের সেরা ফরোয়ার্ডদের কাতারে নিয়ে গেছে।

হালান্ডের উচ্চতা ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি। এই শারীরিক সুবিধা তাঁকে হেডে অসাধারণ দক্ষতা এনে দিয়েছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম গোলটি ছিল তারই প্রমাণ।

তবে শুধু আকাশে নয়, মাটিতেও সমান কার্যকর তিনি। দ্বিতীয় গোলটি ছিল নিখুঁত টাইমিং, শক্তি ও নির্ভুলতার এক অনন্য উদাহরণ। প্রতিপক্ষের একাধিক ডিফেন্ডার সামনে থাকলেও তিনি ঠান্ডা মাথায় নিচু শটে গোল করেন।

এই বিশ্বকাপ নরওয়ের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর দলটি আবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে। শুধু তাই নয়, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্ব পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে তারা।

এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান হালান্ডের। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আট ম্যাচে ১৬ গোল করে দলকে মূল আসরে তুলেছিলেন তিনি। সেই দুর্দান্ত ফর্মই ধরে রেখেছেন বিশ্বকাপেও।

আরও পড়ুন :  আমের আঁটি ফেলে নয়, ত্বকের যত্নে ব্যবহার করুন! ঘরেই বানান প্রাকৃতিক ফেস প্যাক

শুধু হালান্ড নন, দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডও নরওয়ের সাফল্যের অন্যতম কারিগর। মিডফিল্ডে তাঁর সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্ব পুরো দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

ওডেগার্ড আক্রমণভাগে সুযোগ তৈরি করছেন, আর হালান্ড সেগুলো গোলের রূপ দিচ্ছেন। এই সমন্বয়ই নরওয়েকে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করেছে।

বিশ্বকাপে আসার আগেই ক্লাব ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন হালান্ড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তিনি গোলের পর গোল করে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন।

এক মৌসুমে ৩৬ গোল করে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। পাশাপাশি জয় করেন প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।

ক্লাব পর্যায়ের সেই আত্মবিশ্বাস এখন জাতীয় দলের জার্সিতেও সমানভাবে ফুটে উঠছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে হালান্ড জানিয়েছিলেন, এই আসর তাঁর এবং নরওয়ের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর ভাষায়,

“অনেক বছর ধরে আমরা এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। এবার সুযোগ এসেছে। এখন সেটিকে কাজে লাগাতে হবে।”

ব্রাজিলকে হারানোর মাধ্যমে সেই স্বপ্নপূরণের পথ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

এবারের বিশ্বকাপে আরেকটি বিষয় ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। হালান্ডের জার্সির পেছনে শুধু “Haaland” নয়, লেখা রয়েছে “Braut Haaland”।

এর পেছনে রয়েছে পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক একটি সুন্দর গল্প।

“ব্রাউট” এসেছে তাঁর মা গ্রি মারিতা ব্রাউটের পারিবারিক পদবি থেকে। আর “হালান্ড” এসেছে বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ডের পদবি থেকে। অর্থাৎ, নিজের পরিচয়ে তিনি বাবা ও মা—দুজনের পারিবারিক নামই বহন করছেন।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু! শাকিরার ঝলক, মেক্সিকোর সংস্কৃতি ও সুরের মূর্ছনায় বিশ্বকাপের বর্ণিল সূচনা

নরওয়ের সংস্কৃতিতে এটি অস্বাভাবিক নয়। দেশটির অনেক মানুষ ব্যক্তিগত পরিচয়ে বাবা ও মায়ের উভয় পরিবারের নাম ব্যবহার করেন। হালান্ডও বিশ্বমঞ্চে নিজের সবচেয়ে কাছের দুই মানুষের পরিচয় সম্মানের সঙ্গে বহন করছেন।

ব্রাজিলকে বিদায় করে নরওয়ে এখন কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ থাকলেও হালান্ডের বর্তমান ফর্ম প্রতিপক্ষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হালান্ড একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন এবং ওডেগার্ডের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া অটুট থাকে, তবে নরওয়ে আরও বড় চমক দেখাতে সক্ষম।

আর্লিং ব্রাউট হালান্ড আবারও প্রমাণ করেছেন, বড় ম্যাচের বড় খেলোয়াড় তিনিই। ব্রাজিলের মতো ঐতিহ্যবাহী দলকে জোড়া গোলে বিদায় জানিয়ে তিনি শুধু নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেননি, বিশ্বকাপে নতুন এক শক্তির আবির্ভাবও ঘোষণা করেছেন। তাঁর জার্সিতে বাবা ও মায়ের দুই পদবি বহন করার সিদ্ধান্ত যেমন পারিবারিক মূল্যবোধের প্রতীক, তেমনি মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স প্রতিভা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের অসাধারণ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ