খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বড় বিপদ! ফিফা কি আর্জেন্টিনাকে নিষিদ্ধ করবে? মেসিকে ঘিরে...

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বড় বিপদ! ফিফা কি আর্জেন্টিনাকে নিষিদ্ধ করবে? মেসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে এই ইস্যুকে সামনে আনা অনেকের মতে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার শামিল। আর ফিফা বরাবরই চায় ফুটবলকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে।

বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানোর আনন্দে যখন ভাসছে আর্জেন্টিনা, ঠিক তখনই নতুন এক বিতর্ক ঘিরে অনিশ্চয়তার মেঘ তৈরি হয়েছে। সেমিফাইনাল জয়ের পর মাঠে ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ফিফার কঠোর নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে লিয়োনেল মেসির দল কি শাস্তির মুখে পড়তে পারে?

যদিও আর্জেন্টিনাকে ফাইনাল থেকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছেন অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ, তবুও ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী এই ঘটনার তদন্ত এবং সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার একটি ব্যানার হাতে উদযাপন করেন। সেখানে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, “Las Malvinas Son Argentinas”, যার বাংলা অর্থ, “মালভিনাস আর্জেন্টিনার।”

আর্জেন্টিনায় ফকল্যান্ড দ্বীপকে “মালভিনাস” নামে ডাকা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। ফলে এই ব্যানারকে কেবল একটি দেশাত্মবোধক বার্তা নয়, বরং একটি রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ফিফা এবং ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) ফুটবল মাঠকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারের বাইরে রাখতে দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী—

  • ম্যাচ চলাকালীন বা ম্যাচ শেষে রাজনৈতিক বার্তা, স্লোগান বা ব্যানার প্রদর্শন করা যাবে না।
  • ফুটবলারদের পোশাক বা অন্তর্বাসেও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বার্তা ব্যবহার নিষিদ্ধ।
  • নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, দল বা ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ফিফার।
আরও পড়ুন :  ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপে ৬৪ দলের চমক! নতুন ইঙ্গিতে বদলে যেতে পারে বিশ্বকাপের ইতিহাস

এই কারণেই আর্জেন্টিনার উদযাপন এখন শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের আওতায় এসেছে।

ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ কয়েক দশকের পুরোনো। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়।

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে এই ইস্যুকে সামনে আনা অনেকের মতে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার শামিল। আর ফিফা বরাবরই চায় ফুটবলকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে।

ফলে এই ঘটনাকে শুধুমাত্র উদযাপনের অংশ হিসেবে নয়, বরং ফিফার নীতিমালার আলোকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রথমে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসোর হাতে ওই ব্যানার দেখা যায়। পরে ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডিও সেটি তুলে ধরেন।

এরপর আরও কয়েকজন ফুটবলার তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। গ্যালারিতে উপস্থিত বহু আর্জেন্টিনা সমর্থকের হাতেও একই ধরনের ব্যানার দেখা যায়।

জয়ের আনন্দের মুহূর্তেই ব্যানার প্রদর্শনের ছবি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক।

বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে ফিফার হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য খুব সীমিত সময় থাকে।

যদি কোনও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে ফাইনালের আগেই তা জানাতে হবে। ফলে তদন্ত, ব্যাখ্যা চাওয়া এবং সিদ্ধান্ত—সবকিছুই অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

আরও পড়ুন :  বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনাকে হারাতে কেন এত মরিয়া ফুটবলপ্রেমীরা? নেপথ্যের আসল কারণ!

এই কারণেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

ফিফার নিয়মে শাস্তির সুযোগ থাকলেও বাস্তবে পুরো দলকে ফাইনাল থেকে বহিষ্কার করার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

কারণ—

প্রথমত, বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো বড় ম্যাচের ঠিক আগে এমন সিদ্ধান্ত পুরো প্রতিযোগিতাকেই প্রভাবিত করবে।

দ্বিতীয়ত, ঘটনাটি ম্যাচের ফলাফলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটি শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়।

তৃতীয়ত, এমন ক্ষেত্রে অতীতে সাধারণত সতর্কবার্তা, আর্থিক জরিমানা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজিরই বেশি দেখা গেছে।

ফলে অধিকাংশ ফুটবল বিশ্লেষকের ধারণা, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার বদলে তুলনামূলক হালকা শাস্তিই বিবেচনা করা হতে পারে।

লিয়োনেল মেসির জন্য এটি বিশ্বকাপের শেষ আসর হিসেবে ধরা হচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠা ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়।

এই পরিস্থিতিতে যদি কোনও কঠোর শাস্তি দিয়ে তাঁকে বা দলকে ফাইনাল থেকে দূরে রাখা হয়, তাহলে তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

তবে ফিফা সাধারণত নিয়মের প্রয়োগে নিরপেক্ষ থাকার কথা বললেও বাস্তব পরিস্থিতি, প্রতিযোগিতার গুরুত্ব এবং ঘটনার প্রকৃতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

ফকল্যান্ড দ্বীপ দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। আর্জেন্টিনা এটিকে “ইসলাস মালভিনাস” নামে অভিহিত করে এবং নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন? বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী, মেসি বনাম ইয়ামাল!

১৯৮২ সালে এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ৭৪ দিন ধরে চলা যুদ্ধে শত শত সেনাসদস্য প্রাণ হারান। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

আজও এই বিষয়টি দুই দেশের জাতীয় আবেগ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে—

  • আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা প্রদান।
  • আর্থিক জরিমানা।
  • ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কঠোর নির্দেশনা।
  • শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শেষে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।

তবে পুরো দলকে ফাইনাল থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দের মাঝেই ফকল্যান্ড বা মালভিনাস ইস্যু আর্জেন্টিনাকে নতুন বিতর্কের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন ফিফার নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি, প্রতিযোগিতার গুরুত্ব এবং অতীতের নজির বিবেচনা করলে ধারণা করা যায়, যদি কোনও শাস্তি হয়ও, তা সম্ভবত সতর্কবার্তা বা আর্থিক জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এখন সবার নজর ফিফার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকে। সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, এই বিতর্ক কেবল আলোচনা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আর্জেন্টিনাকে সত্যিই কোনও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ