Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeবাংলা নিউজজাতীয়প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি! সচিবালয়ের কর্মী গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি! সচিবালয়ের কর্মী গ্রেপ্তার

তদন্ত কর্মকর্তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে সচিবালয়ের একজন আউটসোর্সিং কর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে রঞ্জন চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেড টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে চুরি হওয়া তার উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোন সংযোগ দেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচিত। সম্প্রতি এই সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে এলে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

তদন্তের অগ্রগতিতে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রঞ্জন চন্দ্র (২৫) এবং রেজাকুল ইসলাম (৩২) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিটিটিসির একটি সূত্র বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার পর বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এরপর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ।

তদন্ত কর্মকর্তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে সচিবালয়ের একজন আউটসোর্সিং কর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে রঞ্জন চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।

সিটিটিসির কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন চন্দ্র চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। তিনি জানান, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে রেড টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরি করেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, চুরি করা তারগুলো তিনি কিছুদিন নিজের কাছে রেখে পরে বিক্রির উদ্যোগ নেন। গত ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের একটি ভাঙারি দোকানে তিনি এসব তামার তার বিক্রি করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রঞ্জন মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করেন। প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে এসব তার বিক্রি করা হয়েছিল। অর্থের লোভেই তিনি এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

চুরি হওয়া তারের আর্থিক মূল্য যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল সংযোগটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা। কারণ এটি একটি স্পর্শকাতর সরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ।

রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেন।

পরে রেজাকুলের দেখানো স্থান অনুযায়ী রাজধানীর হোসেনী দালান রোডের একটি গুদামে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এই উদ্ধার অভিযানকে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এর মাধ্যমে চুরি হওয়া সরকারি সম্পদের একটি বড় অংশ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে সিটিটিসির ধারণা, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উদ্যোগে নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্র সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, সরকারি বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনায় ব্যবহৃত তামার তার চুরির পেছনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি নেটওয়ার্ক কাজ করছে। এই চক্রের সদস্যরা সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে মূল্যবান তামার তার সংগ্রহ করে ভাঙারি বাজারে বিক্রি করে থাকে।

বর্তমানে এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনা সম্পর্কে রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চুরি হওয়া প্রায় ৮ কেজি তামার তার উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চোরাই মাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ভাঙারি দোকানের মালিককেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন স্পর্শকাতর স্থানে নিরাপত্তা তদারকি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ চুরি ও অবৈধভাবে বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও উঠেছে। তদন্ত শেষ হলে এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।