Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeবাংলা নিউজজাতীয়ঈদযাত্রায় মাঝপথে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা, কঠোর নজরদারিতে সরকার: সড়কমন্ত্রী

ঈদযাত্রায় মাঝপথে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা, কঠোর নজরদারিতে সরকার: সড়কমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানী ছাড়ছে লাখো মানুষ। ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু অসাধু পরিবহনচক্র অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, বাস কাউন্টারগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ খুব বেশি পাওয়া যায়নি। কিন্তু মাঝপথে কিছু যাত্রী দ্রুত বাড়ি পৌঁছানোর জন্য যেকোনো বাসে উঠে পড়ায় সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রার তাড়াহুড়োর সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু পরিবহন শ্রমিক ও দালাল অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে যেসব যাত্রী আগাম টিকিট কাটেননি, তারা শেষ মুহূর্তে বাসে উঠতে গিয়ে বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি জানান, সরকারের নজরদারি টিম এ ধরনের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে জরিমানা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিআরটিএর কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও মহাসড়ক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের সড়কপথে এবারও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। শেখ রবিউল আলম জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ঢাকা ছেড়েছে। একই সময়ে প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশু দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এত বিশাল সংখ্যক মানুষ ও পশু পরিবহনের কারণে সড়কপথে স্বাভাবিকভাবেই চাপ তৈরি হচ্ছে। তারপরও সীমিত সক্ষমতা নিয়ে পরিবহন খাত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করায় এবার বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যাত্রীরা তুলনামূলকভাবে নিরাপদে এবং নির্ধারিত ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে পারছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানজটের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সড়কমন্ত্রী জানান, যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় কিছুটা ধীরগতি দেখা গেলেও এটি অস্বাভাবিক নয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাত লেনের যানবাহন যখন দুই লেনে প্রবেশ করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই চাপ তৈরি হয়। ফলে কিছু সময় যানবাহনের গতি কমে যায়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী সাধারণ যাত্রীদের প্রতি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেকেই আগাম টিকিট সংগ্রহ না করে শেষ মুহূর্তে যাত্রা শুরু করেন। এতে বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীরা যদি আগে থেকেই পরিকল্পনা করে টিকিট সংগ্রহ করেন, তাহলে ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে অসাধু চক্রের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগও কমে যাবে।

ঈদযাত্রায় নারী যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনে বিশেষ কোচ সংযোজন করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

তবে সব ট্রেনে এখনই এই সুবিধা চালু করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। কারণ হিসেবে কোচ সংকট এবং আগাম টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, ঈদ উপলক্ষে রেলপথে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের চাপ কিছুটা কমানো যায়।

মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা প্রসঙ্গে সড়কমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন। হাটের ইজারা এবং ব্যবস্থাপনার দায়-দায়িত্বও তাদের ওপরই বর্তায়।

দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলেও জানান শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে। এর অংশ হিসেবে রুটভিত্তিক বাস কোম্পানি গঠন, মেট্রোরেল সম্প্রসারণ এবং মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মন্ত্রী দাবি করেন, ঈদযাত্রায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক এবং নির্ধারিত ভাড়ায় যাতায়াত নিশ্চিত করা।