Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeফুটবলফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন গ্লাভসের অজানা বিশেষত্ব

বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন গ্লাভসের অজানা বিশেষত্ব

সমর্থকদের নজর থাকবে Lionel Messi, Cristiano Ronaldo, Kylian Mbappé, Harry Kane, Lautaro Martínez এবং Vinícius Júnior-এর মতো তারকাদের দিকে। শেষ পর্যন্ত কে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন, সেই উত্তর মিলবে টুর্নামেন্টের শেষ দিনে।

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু দলগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়, এটি ব্যক্তিগত গৌরব অর্জনেরও সবচেয়ে বড় মঞ্চ। বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা যেমন বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখেন, তেমনি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের লক্ষ্যও তাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নামের সঙ্গে “গোল্ডেন” বা “সোনালি” শব্দটি জড়িত থাকলেও এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর কোনোটিই সম্পূর্ণ সোনা দিয়ে তৈরি নয়।

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনায় ভাসিয়ে দিয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে এবং তিনটি দেশে—আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে—আয়োজিত হচ্ছে এই মহাযজ্ঞ। বিশ্বকাপের ট্রফি কার হাতে উঠবে তা নিয়ে যেমন উত্তেজনা রয়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড়ও সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল করা ফুটবলারের হাতে তুলে দেওয়া হয় গোল্ডেন বুট। প্রতি চার বছর অন্তর বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকাররা এই সম্মান অর্জনের লক্ষ্যে মাঠে নামেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে একের পর এক গোল করার দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

বিশ্বকাপ চলাকালীন গোল্ডেন বুটের লড়াই প্রায়ই মূল শিরোপা জয়ের প্রতিযোগিতার মতোই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অনেক ফুটবলারের ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়াই সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।

নামের সঙ্গে “গোল্ডেন” থাকলেও গোল্ডেন বুট সম্পূর্ণ সোনা দিয়ে তৈরি নয়। এটি মূলত বিভিন্ন ধাতুর সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়, যার মধ্যে পিতল অন্যতম। পরে এর উপর সোনালি প্রলেপ বা গোল্ড প্লেটিং করা হয়। ফলে দেখতে এটি খাঁটি সোনার বুটের মতো মনে হলেও বাস্তবে এর বেশিরভাগ অংশ অন্য ধাতুর তৈরি।

গোল্ডেন বুটের ওজন প্রায় এক কেজি। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ থেকে এই পুরস্কার চালু হলেও এর প্রকৃত বাজারমূল্য সম্পর্কে ফিফা কখনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। ফলে এর আর্থিক মূল্য নিয়ে রহস্য আজও রয়ে গেছে।

বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত কোনো ফুটবলার একাধিকবার গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। এই তথ্যই পুরস্কারটির মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রতিটি বিশ্বকাপেই নতুন কোনো তারকা এই সম্মানের দাবিদার হয়ে ওঠেন।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড Kylian Mbappé গোল্ডেন বুট জয় করেন। ফাইনালে অসাধারণ হ্যাটট্রিকসহ পুরো টুর্নামেন্টে তিনি মোট ৮টি গোল করেছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে কে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতবেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা তুঙ্গে।

সমর্থকদের নজর থাকবে Lionel Messi, Cristiano Ronaldo, Kylian Mbappé, Harry Kane, Lautaro Martínez এবং Vinícius Júnior-এর মতো তারকাদের দিকে। শেষ পর্যন্ত কে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন, সেই উত্তর মিলবে টুর্নামেন্টের শেষ দিনে।

গোল্ডেন বল হলো ফিফা বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলারের জন্য নির্ধারিত পুরস্কার। শুধু গোল করলেই এই পুরস্কার জেতা যায় না; পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একজন খেলোয়াড়ের সামগ্রিক অবদান, নেতৃত্ব, ম্যাচে প্রভাব এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়।

ফিফা টেকনিক্যাল কমিটি প্রথমে সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের একটি শর্টলিস্ট তৈরি করে। এরপর বিভিন্ন দেশের মিডিয়া প্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।

অনেকেই মনে করেন গোল্ডেন বল সম্পূর্ণ সোনার তৈরি। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। এই ট্রফি মূলত ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি একটি ভাস্কর্য, যার উপর ১৮ ক্যারেট সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়। ফলে এতে ব্যবহৃত সোনার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে খুবই কম।

গোল্ডেন বলের বাজারমূল্য সম্পর্কেও ফিফা কখনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং মর্যাদা আর্থিক মূল্যের চেয়েও অনেক বেশি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে Lionel Messi দু’বার গোল্ডেন বল জিতেছেন। তিনি ২০১৪ এবং ২০২২ সালে এই সম্মান অর্জন করেন। এই কৃতিত্ব তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ফুটবলে গোলকিপারের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি দলকে শিরোপার পথে এগিয়ে নিতে একজন দক্ষ গোলরক্ষকের অবদান অনেক সময় নির্ধারক হয়ে ওঠে। সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই দেওয়া হয় গোল্ডেন গ্লাভস।

১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবার এই পুরস্কার চালু হয়। শুরুতে এটি কিংবদন্তি সোভিয়েত গোলরক্ষক Lev Yashin-এর সম্মানে “লেভ ইয়াশিন অ্যাওয়ার্ড” নামে পরিচিত ছিল। পরে ২০১০ সালে এর নাম পরিবর্তন করে “গোল্ডেন গ্লাভস” রাখা হয়।

গোল্ডেন গ্লাভসও নিরেট সোনা দিয়ে তৈরি নয়। সাধারণত এটি ব্রোঞ্জের কাঠামোর উপর সোনালি প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা হয়। তাই নামের সঙ্গে “গোল্ডেন” শব্দ থাকলেও এর মূল উপাদান অন্য ধাতু।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক Emiliano Martínez এই পুরস্কার জয় করেছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সাহায্য করে।

গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন গ্লাভসের প্রকৃত মূল্য ধাতুর দামে নয়, বরং তাদের মর্যাদায়। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর সামনে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কারগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

একটি বিশ্বকাপ ট্রফি হয়তো পুরো দলের অর্জন, কিন্তু এই ব্যক্তিগত সম্মাননাগুলো একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত সাফল্যের সর্বোচ্চ প্রতীক। তাই প্রতিটি বিশ্বকাপে যেমন শিরোপা জয়ের লড়াই চলে, তেমনি এই তিনটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জয়ের প্রতিযোগিতাও সমানভাবে ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়ে নেয়।

গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন গ্লাভস—নাম শুনলেই সোনার ঝলকানি চোখে ভেসে ওঠে। কিন্তু বাস্তবে এগুলো খাঁটি সোনার নয়। তবুও বিশ্ব ফুটবলে এই পুরস্কারগুলোর মর্যাদা সোনার চেয়েও অনেক বেশি। কারণ এগুলো শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং একজন ফুটবলারের কঠোর পরিশ্রম, প্রতিভা এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেকে সেরা হিসেবে প্রমাণ করার চূড়ান্ত স্বীকৃতি। ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন কোন তারকা এই অমূল্য সম্মানগুলো নিজের করে নেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।