Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeফুটবলফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভাইরাল চুমু-কাণ্ড! সাংবাদিককে জড়িয়ে চুমু মেক্সিকান সমর্থকের

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভাইরাল চুমু-কাণ্ড! সাংবাদিককে জড়িয়ে চুমু মেক্সিকান সমর্থকের

হঠাৎ করেই এক মেক্সিকান নারী সমর্থক পিছন থেকে এসে সাংবাদিককে জড়িয়ে ধরেন। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। ওই নারী সাংবাদিকের গালে চুমু খান, যা সরাসরি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই শুধু গোল, জয়-পরাজয় কিংবা মাঠের লড়াই নয়। অনেক সময় মাঠের বাইরের ঘটনাও শিরোনাম দখল করে নেয়। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম দিনেই এমনই এক ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক সাংবাদিককে ক্যামেরার সামনে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছেন মেক্সিকোর এক নারী সমর্থক। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকো। মেক্সিকো ২-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুভসূচনা করে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া পিছিয়ে থেকেও অসাধারণ প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ২-১ গোলে চেক রিপাবলিককে পরাজিত করে।

তবে ম্যাচের ফলাফলকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে স্টেডিয়ামের বাইরের একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ম্যাচ-পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এক সাংবাদিক লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে ম্যাচের বিশ্লেষণ তুলে ধরছিলেন। ঠিক তখনই ঘটে সেই বিতর্কিত মুহূর্ত।

জাপোপানের এস্তাদিও গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন ওই কোরিয়ান সাংবাদিক। চারপাশে তখন উৎসবের আমেজ, সমর্থকদের উল্লাস আর বিশ্বকাপের উত্তেজনা।

হঠাৎ করেই এক মেক্সিকান নারী সমর্থক পিছন থেকে এসে সাংবাদিককে জড়িয়ে ধরেন। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। ওই নারী সাংবাদিকের গালে চুমু খান, যা সরাসরি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

অপ্রস্তুত সাংবাদিককে তখন স্পষ্টতই বিব্রত দেখাচ্ছিল। তিনি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য হাসিমুখ বজায় রাখার চেষ্টা করলেও তাঁর অস্বস্তি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ভিডিওটি সম্প্রচারের পর মুহূর্তেই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কারও ব্যক্তিগত সম্মতি ছাড়া প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া কি গ্রহণযোগ্য আচরণ?

সমালোচকদের একাংশের মতে, লিঙ্গভেদে একই ঘটনার বিচার ভিন্ন হওয়া উচিত নয়। তাঁদের বক্তব্য, যদি কোনো পুরুষ প্রকাশ্যে একজন নারী সাংবাদিককে এভাবে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতেন, তাহলে সেটিকে যৌন হেনস্তা হিসেবে দেখা হতে পারত। সেই ক্ষেত্রে একজন নারী একই কাজ করলে কেন তা ভিন্নভাবে বিবেচিত হবে?

এই প্রশ্নই বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত সীমারেখা ও সম্মতির বিষয়টি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমানভাবে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

অন্যদিকে অনেকেই ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি ছিল বিশ্বকাপের আবেগ, উচ্ছ্বাস এবং আনন্দের বহিঃপ্রকাশ।

সমর্থকদের এই অংশের যুক্তি হলো, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংস্কৃতি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। কোরিয়ান বিনোদন জগৎ, সংগীত এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণে দেশটির মানুষের প্রতি অনেকের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।

এছাড়া মেক্সিকোর জনগণ সাধারণত বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রাণবন্ত স্বভাবের জন্য পরিচিত। ফলে ওই নারী সমর্থকের আচরণকে অনেকেই উৎসবমুখর পরিবেশের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

এই ঘটনা আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—ব্যক্তিগত পরিসর ও সম্মতির গুরুত্ব।

আধুনিক সমাজে কারও অনুমতি ছাড়া শারীরিক সংস্পর্শে আসা নিয়ে সচেতনতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্র, গণমাধ্যম এবং জনসমাগমের জায়গায় পেশাদার আচরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো আচরণ মজার বা বন্ধুত্বপূর্ণ মনে হলেও সেটি গ্রহণযোগ্য কি না, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতির উপর। তাই বিশ্বকাপের মতো আনন্দঘন পরিবেশেও ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাঠের বাইরের নানা ঘটনা বারবার শিরোনাম হয়েছে। কখনও সমর্থকদের আবেগঘন মুহূর্ত, কখনও বিতর্কিত আচরণ কিংবা অদ্ভুত ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতেই ঘটে যাওয়া এই চুমু-কাণ্ডও সেই তালিকায় যুক্ত হলো। ম্যাচের ফলাফল যতটা না আলোচনায় এসেছে, তার চেয়েও বেশি আলোচিত হয়েছে ক্যামেরাবন্দি এই মুহূর্ত।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবাদিক ও মেক্সিকান নারী সমর্থককে ঘিরে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি বিশ্বকাপের প্রথম দিনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। একদিকে কেউ এটিকে নিছক উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে অনেকেই সম্মতি ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলছেন।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, এটি আবেগ, সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক আলোচনারও এক বিশাল মঞ্চ। আর সেই মঞ্চেই একটি ছোট্ট মুহূর্ত এখন আন্তর্জাতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।