Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeট্রেন্ডিং নিউজবিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে বাংলাদেশি ডিজে সঞ্জয়, কেটি পেরি ও লিসার সঙ্গে পারফরম্যান্সে...

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে বাংলাদেশি ডিজে সঞ্জয়, কেটি পেরি ও লিসার সঙ্গে পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত দুই বাংলা

সঞ্জয় লেখেন, বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদের কাছে নিজের সঙ্গীত পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালন করে আসছিলেন। বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রভাব নিয়ে বেড়ে ওঠা একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর ইচ্ছা ছিল এমন কিছু সৃষ্টি করা, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চের অংশ হতে পারে। অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু খেলার লড়াই নয়, এটি বিশ্বের নানা সংস্কৃতি, আবেগ এবং বিনোদনের এক মহামিলনমেলা। সেই মহাযজ্ঞে এবার ইতিহাস গড়তে চলেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঙ্গীতশিল্পী ও ডিজে সঞ্জয়। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল অ্যালবামের শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লাইভ পারফর্ম করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের সঙ্গীত অঙ্গনের জন্যও এক গর্বের মুহূর্ত।

বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার প্রহর গুনছে গোটা বিশ্ব। ঠিক এমন সময়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই শিল্পীর সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উচ্ছ্বাসে মেতেছেন দেশের মানুষ এবং ওপার বাংলার ভক্তরাও। আন্তর্জাতিক মঞ্চে একজন বাংলাদেশি শিল্পীর এমন উপস্থিতি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল অ্যালবামে বাংলাদেশি ডিজে সঞ্জয়

সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুখবরটি শেয়ার করেন ডিজে সঞ্জয়। এক আবেগঘন পোস্টে তিনি জানান, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল অ্যালবামের অন্যতম শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হওয়াটা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।

সঞ্জয় লেখেন, বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদের কাছে নিজের সঙ্গীত পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালন করে আসছিলেন। বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রভাব নিয়ে বেড়ে ওঠা একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর ইচ্ছা ছিল এমন কিছু সৃষ্টি করা, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চের অংশ হতে পারে। অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।

এই অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত অঙ্গনে আরও একবার উজ্জ্বল হলো বাংলাদেশের নাম। বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নিঃসন্দেহে সঞ্জয়ের ক্যারিয়ারের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

কেটি পেরি ও ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসার সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করবেন সঞ্জয়

ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বরাবরই বিশ্বব্যাপী দর্শকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এবারের আসরেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। জানা গেছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীদের একটি বিশেষ তালিকা চূড়ান্ত করেছে ফিফা কর্তৃপক্ষ।

সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়। আরও জানা গেছে, এই অনুষ্ঠানে তিনি বিশ্বখ্যাত পপ তারকা কেটি পেরি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় গার্ল ব্যান্ড ব্ল্যাকপিঙ্কের সদস্য লিসাসহ আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক শিল্পীর সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেবেন।

বিশ্বসঙ্গীতের এমন তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করা নিঃসন্দেহে সঞ্জয়ের প্রতিভা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার স্বীকৃতি বহন করে।

বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামে থাকছেন একঝাঁক আন্তর্জাতিক তারকা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল অ্যালবামেও থাকছে চমকপ্রদ সব নাম। সঞ্জয়ের পাশাপাশি এই অ্যালবামে যুক্ত হয়েছেন বিশ্বসঙ্গীতের বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান শিল্পী।

এই তালিকায় রয়েছে কিংবদন্তি ব্যান্ড দ্য রোলিং স্টোনস, লাতিন পপ সেনসেশন শাকিরা, জনপ্রিয় শিল্পী ড্যাডি ইয়াঙ্কি, নাইজেরিয়ান তারকা বার্না বয় এবং আফ্রোবিটস শিল্পী রেমার মতো বিশ্ববিখ্যাত সংগীতশিল্পীরা।

এমন একটি তারকাখচিত অ্যালবামে স্থান পাওয়া সঞ্জয়ের জন্য যেমন বড় সম্মানের, তেমনি বাংলাদেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্যও এটি গর্বের বিষয়।

বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমঞ্চে সঞ্জয়ের উত্থান

ডিজে সঞ্জয়ের শেকড় বাংলাদেশের মাটিতেই প্রোথিত। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে তাঁর জন্ম। শৈশবের উল্লেখযোগ্য একটি সময় তিনি কাটিয়েছেন চট্টগ্রামে। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি।

দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁর সঙ্গীতচর্চাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। পূর্ব ও পশ্চিমা সুরের মিশ্রণ তাঁর সঙ্গীতকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, যা আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় উল্লেখ করেছেন, বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে তিনি বিভিন্ন ঘরানার সংগীত থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর সৃষ্টিশীলতার পরিধি বিস্তৃত করেছে।

পারিবারিক ঐতিহ্য থেকেই সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা

সঞ্জয়ের সঙ্গীতজীবনের পেছনে তাঁর পারিবারিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর মা এবং দিদিমা দুজনেই সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক পরিবেশে সংগীতের আবহে বেড়ে ওঠায় শিল্পকলার প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে সেই আগ্রহই পেশাদার সংগীতজীবনে রূপ নেয়।

নিয়মিত অনুশীলন, নতুন কিছু শেখার আগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক মানের কাজ করার ইচ্ছাই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

দুই বাংলার গর্বে পরিণত হয়েছেন ডিজে সঞ্জয়

ফিফা বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পীর অংশগ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও সঞ্জয়ের এই অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন অসংখ্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী। অনেকেই মনে করছেন, সঞ্জয়ের এই সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাংলাদেশি শিল্পীদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই সুযোগ দেশের তরুণ সংগীতশিল্পীদের স্বপ্ন দেখাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

ফুটবল বিশ্বকাপ কোটি কোটি মানুষের আবেগের নাম। সেই বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবাম এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে সঞ্জয়ের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

এই অর্জন প্রমাণ করে, প্রতিভা এবং অধ্যবসায় থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। সঞ্জয়ের এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত বিজয় নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিশ্বদরবারে আরও উজ্জ্বল করে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এখন অপেক্ষা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। কোটি দর্শকের সামনে যখন কেটি পেরি, লিসা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে মঞ্চে উঠবেন ডিজে সঞ্জয়, তখন গর্বে ভরে উঠবে প্রতিটি বাংলাদেশির হৃদয়। কারণ, সেই মঞ্চে থাকবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও।