দেশের বাজারে টানা দুই দফা মূল্যহ্রাসের পর আবারও বেড়েছে সোনার দাম। নতুন করে দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের স্বর্ণবাজারে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ঘোষণায় জানিয়েছে, প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা, যা ভ্যাটসহ কার্যকর হয়েছে সোমবার সকাল ১০টা থেকে।
সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন দামে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হবে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা।
অন্যদিকে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা কিনতে গুনতে হবে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা প্রতি ভরি।
এই নতুন মূল্য দেশের সব জুয়েলারি দোকানে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণেই এই নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াও দেশের বাজারে এর প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। এতে চাহিদা বাড়ে এবং দামও বাড়তে থাকে।
মাত্র দুই দিন আগেই, অর্থাৎ ২০ জুন, বাজুস সোনার দাম কমিয়েছিল। তখন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা।
কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানোয় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বিশেষ করে যারা বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের বাজেট এখন নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে।
সোনার দাম বাড়লে সাধারণত বাজারে কেনাবেচার গতি কিছুটা কমে যায়। কারণ উচ্চমূল্যের কারণে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা অনেক সময় অপেক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিশেষ উপলক্ষ, বিয়ে কিংবা বিনিয়োগের জন্য সোনার চাহিদা পুরোপুরি কমে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ-পরবর্তী সময়ে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা এলেও নতুন মূল্যবৃদ্ধি আবারও ক্রেতাদের চাপে ফেলতে পারে।
যেখানে সোনার দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সেখানে রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাজুস জানিয়েছে, আগের নির্ধারিত দামেই রুপা বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম রয়েছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ১৬ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০৮ টাকায়।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আরও বাড়লে দেশের বাজারেও নতুন করে মূল্য সমন্বয় হতে পারে। তাই যারা সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এখন বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা এখনও কাটেনি। দাম কমার পরপরই আবার বড় ধরনের বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামনে আরও ওঠানামা থাকতে পারে।

