খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeমেডিকেল জার্নালমুখের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি! মাত্র ১০ সেকেন্ডে জিভ পরিষ্কার করেই মিলতে পারে...

মুখের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি! মাত্র ১০ সেকেন্ডে জিভ পরিষ্কার করেই মিলতে পারে বার্ধক্যের চাবিকাঠি

মুখগহ্বরও এই অণুজীবগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। মুখের ভেতরে উপকারী ও ক্ষতিকর উভয় ধরনের ব্যাক্টেরিয়া থাকে। যখন ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন প্রদাহ, সংক্রমণ এবং নানা স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

মুখের দুর্গন্ধ এমন একটি সমস্যা, যা শুধু অস্বস্তিই তৈরি করে না, আত্মবিশ্বাসেও বড় ধাক্কা দেয়। অনেকেই নিয়মিত দাঁত মাজেন, মাউথওয়াশ ব্যবহার করেন, তবুও মুখের দুর্গন্ধ পুরোপুরি দূর হয় না। এর অন্যতম কারণ হতে পারে জিভের অপর্যাপ্ত পরিচর্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে জিভ পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুললে শুধু মুখের দুর্গন্ধই কমবে না, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হতে পারে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ মানুষ শরীর সুস্থ রাখতে ডায়েট, ব্যায়াম কিংবা ত্বকের যত্নে মনোযোগ দেন। কিন্তু মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য যে পুরো শরীরের সুস্থতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, সে বিষয়ে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম।

মুখ আমাদের শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন খাবার, পানীয় এবং বিভিন্ন বাহ্যিক উপাদানের মাধ্যমে অসংখ্য জীবাণু মুখগহ্বরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। মুখের ভেতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকলে এই জীবাণুগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জিভের উপরের অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র খাঁজ থাকে। এসব খাঁজে খাবারের কণা, মৃত কোষ এবং ব্যাক্টেরিয়া জমে থাকে। সময়মতো পরিষ্কার না করলে এগুলো মুখের দুর্গন্ধের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ব্যাক্টেরিয়া মাড়িতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। প্রদাহের কারণে দাঁতের স্বাস্থ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অংশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গবেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বার্ধক্যের গতি ত্বরান্বিত করতে পারে এবং বয়সজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মানবদেহে থাকা অণুজীব বা মাইক্রোবায়োম নিয়ে গবেষণা করছেন। মানবদেহে হাজারেরও বেশি ধরনের অণুজীব বাস করে, যাদের একটি বড় অংশ ত্বক ও মিউকাস ঝিল্লিতে অবস্থান করে।

মুখগহ্বরও এই অণুজীবগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। মুখের ভেতরে উপকারী ও ক্ষতিকর উভয় ধরনের ব্যাক্টেরিয়া থাকে। যখন ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন প্রদাহ, সংক্রমণ এবং নানা স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত জিভ পরিষ্কার করলে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার পরিমাণ কমে যায়। ফলে মুখগহ্বর সুস্থ থাকে এবং বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সমস্যার ঝুঁকিও কমতে পারে। যদিও জিভ পরিষ্কার করা কোনো ‘অ্যান্টি-এজিং’ চিকিৎসা নয়, তবে এটি সুস্থভাবে বয়স বাড়ানোর একটি কার্যকর অভ্যাস হতে পারে।

জিভের উপর জমে থাকা ব্যাক্টেরিয়া দুর্গন্ধের অন্যতম প্রধান উৎস। নিয়মিত পরিষ্কার করলে নিঃশ্বাস অনেক বেশি সতেজ থাকে।

জিভ পরিষ্কার করার ফলে জীবাণুর স্তর কমে যায় এবং মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

জিভের উপর অতিরিক্ত আবরণ জমে থাকলে স্বাদ বোঝার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। পরিষ্কার জিভ খাবারের স্বাদ আরও ভালোভাবে অনুভব করতে সাহায্য করে।

মুখের ভেতরে জীবাণুর পরিমাণ কম থাকলে মাড়ির প্রদাহ, দাঁতের ক্ষয় এবং অন্যান্য সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।

দাঁতের উপর প্লাক জমা বিভিন্ন ডেন্টাল সমস্যার কারণ হতে পারে। জিভ পরিষ্কার রাখলে প্লাক তৈরির পরিবেশও কমে আসে।

মুখগহ্বরের প্রদাহ কম থাকলে শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে, যা বয়সজনিত জটিলতা মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

জিভ পরিষ্কার করা খুবই সহজ এবং সময়সাপেক্ষও নয়। প্রতিদিনের রুটিনে মাত্র কয়েক সেকেন্ড যোগ করলেই যথেষ্ট।

সকালে এবং রাতে দাঁত ব্রাশ করার পর জিভ পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

জিভ পরিষ্কারের জন্য বিশেষ স্ক্র্যাপার ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে নরম ব্রাশও ব্যবহার করা যায়।

জিভের পিছনের অংশ থেকে ধীরে ধীরে সামনের দিকে স্ক্র্যাপার বা ব্রাশ টেনে আনুন।

অনেকেই জোরে ঘষে পরিষ্কার করতে চান। এতে জিভে ক্ষত বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই হালকা চাপ প্রয়োগ করুন।

পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ সেকেন্ডের বেশি সময় লাগে না।

অনেকেই মনে করেন দিনে দুইবার দাঁত মাজলেই মুখের স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে। বাস্তবে মুখগহ্বরের পূর্ণাঙ্গ যত্নের জন্য দাঁত, মাড়ি এবং জিভ—তিনটিরই সমান গুরুত্ব রয়েছে। জিভ পরিষ্কার না করলে মুখে ব্যাক্টেরিয়া জমে থেকে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন সমস্যার জন্ম দেয়।

সুস্থ শরীরের জন্য শুধু ডায়েট বা ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়, মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে জিভ পরিষ্কার করার অভ্যাস মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে, দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছোট্ট এই অভ্যাসই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও সতেজ থাকার সহজ সমাধান।