খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeফুটবলফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপের মঞ্চে আগুন নোরা ফতেহির! কানাডা কাঁপালেন বাংলাদেশি ডিজে সঞ্জয়

বিশ্বকাপের মঞ্চে আগুন নোরা ফতেহির! কানাডা কাঁপালেন বাংলাদেশি ডিজে সঞ্জয়

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল সংগীতগুলোর মধ্যে ‘সির সির’ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গানটি মুক্তির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইউটিউবে ২ কোটিরও বেশি ভিউ অর্জন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু ফুটবলের মহারণ নয়, এটি বিশ্ব সংস্কৃতি, সংগীত ও বিনোদনেরও এক বিশাল উৎসব। মেক্সিকোতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর কানাডাতেও বিশ্বকাপের আবহকে আরও বর্ণিল করে তুলতে আয়োজন করা হয় এক জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে বলিউড তারকা নোরা ফতেহি, ফরাসি শিল্পী ভেজেড্রিম এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে সঞ্জয়ের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

কানাডায় বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক মুহূর্ত

কানাডার ফুটবল ইতিহাসে দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রথমবারের মতো দেশটি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর একটি হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে স্বাগত জানাচ্ছে। ম্যাচের আগে টরন্টোর প্রাণকেন্দ্রে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্বখ্যাত নেথান ফিলিপস স্কোয়ার, যা সাধারণত পর্যটক ও স্থানীয়দের মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত, বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুন রূপ ধারণ করে। পুরো এলাকাজুড়ে ফুটবল উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিশ্বকাপের থিমে সাজানো স্কোয়ারজুড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ ফুটবল খেলছিলেন, কেউ স্মৃতিময় ছবি তুলছিলেন, আবার অনেকে জাতীয় দলের জার্সি পরে ম্যাচের আগেই উৎসবের অংশ হতে সেখানে উপস্থিত হন।

দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে বাড়তি উন্মাদনা

যদিও বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন মেক্সিকোতে সম্পন্ন হয়েছিল, তবুও কানাডা তাদের প্রথম ম্যাচ উপলক্ষে আলাদা আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বকাপকে স্বাগত জানায়। ফলে দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ।

কানাডার সমর্থকদের পাশাপাশি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সমর্থকেরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। স্টেডিয়াম এবং তার আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিশ্বকাপের আবেগ, সংগীত এবং সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি এক অনন্য মাত্রা পায়।

আদিবাসী সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সূচনা

অনুষ্ঠানের শুরুতেই কানাডার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো হয়। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরার এই উদ্যোগ দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।

কানাডিয়ান গায়ক উইলিয়াম প্রিন্স অনুষ্ঠানটির সূচনা করেন। তাঁর পরিবেশনা ছিল আবেগঘন এবং সাংস্কৃতিক বার্তায় সমৃদ্ধ। এরপর লাল পোশাকে সজ্জিত নৃত্যশিল্পীদের একটি দল মঞ্চে এসে বিশালাকার ফুটবলের সোনালি আবরণ উন্মোচন করেন, যা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

আলেসিয়া কারার গানে মুগ্ধ দর্শক

অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে মঞ্চে আসেন জনপ্রিয় কানাডিয়ান গায়িকা আলেসিয়া কারা। তিনি তাঁর জনপ্রিয় গান ‘ওয়াইল্ড থিংস’ এবং ‘ফায়ার’ পরিবেশন করে দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করে তোলেন।

তাঁর কণ্ঠ ও পারফরম্যান্সে পুরো স্টেডিয়াম প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দর্শকরা গানের তালে তালে অংশ নেন এবং বিশ্বকাপের উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।

নোরা ফতেহির আগমনে জমে ওঠে বিশ্বকাপের মঞ্চ

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত আসে যখন মঞ্চে প্রবেশ করেন বলিউড তারকা নোরা ফতেহি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফরাসি সংগীতশিল্পী ভেজেড্রিম এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় ডিজে ও মিউজিক প্রডিউসার সঞ্জয়।

তিনজনের সম্মিলিত পরিবেশনা মুহূর্তেই স্টেডিয়ামের আবহ বদলে দেয়। আলো, সাউন্ড এবং নৃত্যের সমন্বয়ে তাঁদের পারফরম্যান্স দর্শকদের উচ্ছ্বাসের শিখরে পৌঁছে দেয়।

বিশেষ করে বিশ্বকাপের আলোচিত গান ‘সির সির’-এর পরিবেশনা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। নোরা ফতেহির প্রাণবন্ত নৃত্য এবং মঞ্চ উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। পুরো স্টেডিয়াম তখন করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে।

‘সির সির’ গানের বিশ্বব্যাপী সাফল্য

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল সংগীতগুলোর মধ্যে ‘সির সির’ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গানটি মুক্তির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইউটিউবে ২ কোটিরও বেশি ভিউ অর্জন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

সংগীতপ্রেমীদের মতে, গানের প্রাণবন্ত ছন্দ, আন্তর্জাতিক শিল্পীদের অংশগ্রহণ এবং বিশ্বকাপের আবেগ একত্রে এটিকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই গানটি বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের প্লেলিস্টে স্থান করে নেয়।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে সঞ্জয়ের গর্বের মুহূর্ত

এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ। ‘সির সির’ গানের অন্যতম নির্মাতা ও সহযোগী শিল্পী হলেন ক্যালিফোর্নিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও মিউজিক প্রডিউসার সঞ্জয়।

বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পীদের জন্য এক গর্বের বিষয়। আধুনিক সংগীত প্রযোজনা এবং আন্তর্জাতিক মানের সাউন্ড ডিজাইনের মাধ্যমে তিনি বিশ্বসংগীতের অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন।

কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর পারফরম্যান্স দর্শকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে এবং বিশ্বমঞ্চে দক্ষিণ এশীয় প্রতিভার উজ্জ্বল উপস্থিতি তুলে ধরে।

‘ইলুমিনেট’ গানে সমাপ্তি, বাড়ল বিশ্বকাপের রঙ

অনুষ্ঠানের শেষভাগে জেসি রেয়েজ ও এলিয়ান্নার জনপ্রিয় গান ‘ইলুমিনেট’ পরিবেশিত হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের অন্যতম আলোচিত এই গান অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণ, বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশ্বকাপের উদ্দীপনা মিলিয়ে পুরো অনুষ্ঠান এক আন্তর্জাতিক উৎসবে পরিণত হয়। সংগীত, নৃত্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে কানাডার দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের আবহকে আরও সমৃদ্ধ করে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কানাডা অধ্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ঐক্য, বৈচিত্র্য এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য উদযাপন। নোরা ফতেহির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, ভেজেড্রিমের সংগীত এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে সঞ্জয়ের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলেছে। বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই এই বর্ণাঢ্য আয়োজন ফুটবলপ্রেমীদের মনে উৎসবের রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে।