Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeমেডিকেল জার্নালনীরব ঘাতক অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার: ঝুঁকি কমাতে মেনে চলুন এই ৫ কার্যকর উপায়

নীরব ঘাতক অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার: ঝুঁকি কমাতে মেনে চলুন এই ৫ কার্যকর উপায়

ধূমপান অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সিগারেট বা অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ অগ্ন্যাশয়ের কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার এমন একটি জটিল রোগ, যা অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না। কারণ, এই ক্যানসারের লক্ষণগুলো শুরুতে সাধারণত খুব স্পষ্ট হয় না। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয় এবং চিকিৎসাও জটিল হয়ে ওঠে। যদিও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার শতভাগ প্রতিরোধ করার কোনও নিশ্চিত উপায় নেই, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে এই রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

সম্প্রতি এমস প্রশিক্ষিত ও ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেট্টী অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের ওপর জোর দিয়েছেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যেতে পারে।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার কেন এত বিপজ্জনক?

অগ্ন্যাশয় মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা হজমে সহায়ক এনজাইম এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী ইনসুলিন উৎপাদন করে। এই অঙ্গে ক্যানসার হলে তা দ্রুত শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনও লক্ষণ প্রকাশ করে না। ফলে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হয় এবং চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

১. ধূমপান ত্যাগ করুন: ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়

ধূমপান অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সিগারেট বা অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ অগ্ন্যাশয়ের কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের মধ্যে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। শুধু সিগারেট নয়, বিড়ি, জর্দা, গুল এবং অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যও সমান ক্ষতিকর।

যাঁরা বর্তমানে ধূমপান করেন, তাঁদের জন্য এই অভ্যাস ত্যাগ করাই হতে পারে ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ধূমপান ছাড়ার পর ধীরে ধীরে ক্যানসারের ঝুঁকিও কমতে শুরু করে।

২. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন

টাইপ-২ ডায়াবিটিস এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস অগ্ন্যাশয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

যাঁদের ডায়াবিটিস রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়া নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে, যা অগ্ন্যাশয়ের সুস্থতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩. মদ্যপান সীমিত করুন বা সম্পূর্ণ ত্যাগ করুন

অতিরিক্ত মদ্যপান অগ্ন্যাশয়ের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে অগ্ন্যাশয়ে বারবার প্রদাহ বা প্যানক্রিয়াটাইটিসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি প্যানক্রিয়াটাইটিস অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই শুধু মদ্যপানের পরিমাণ কমানো নয়, সম্ভব হলে সম্পূর্ণভাবে এই অভ্যাস ত্যাগ করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং অ্যালকোহলমুক্ত জীবনধারা শুধু অগ্ন্যাশয় নয়, পুরো শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৪. পরিবারের স্বাস্থ্য ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন থাকুন

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরিবারের কোনও সদস্য যদি আগে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে অন্য সদস্যদের মধ্যেও ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকতে পারে।

তাই পরিবারের স্বাস্থ্য ইতিহাস সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। যদি নিকটাত্মীয়দের মধ্যে কেউ অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করানো উচিত।

প্রাথমিক পর্যায়ে ঝুঁকি শনাক্ত করা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় এবং জটিলতা কমানোর সুযোগ বাড়ে।

৫. সতর্ক সংকেতগুলোকে অবহেলা করবেন না

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ শারীরিক সমস্যার মতো মনে হতে পারে। ফলে অনেকেই এগুলোকে গুরুত্ব দেন না।

তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেমন:

  • নতুন করে পিঠে বা পেটে ব্যথা শুরু হওয়া
  • কোনও কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
  • ৫০ বছর বয়সের পর হঠাৎ ডায়াবিটিস ধরা পড়া
  • ক্ষুধামন্দা বা হজমের সমস্যা
  • ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

এই ধরনের উপসর্গগুলো অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোগ নির্ণয় সহজ হতে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে সুরক্ষার প্রথম ধাপ

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার একটি জটিল এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী রোগ হলেও সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ধূমপান পরিহার, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা, পারিবারিক স্বাস্থ্য ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনগুলো গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা—এই পাঁচটি পদক্ষেপ আপনাকে সুস্থ জীবনযাপনের পথে এগিয়ে রাখবে।

মনে রাখবেন, কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, সময়মতো সচেতনতা এবং সঠিক চিকিৎসাই পারে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের মতো নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে।