এনবি সংবাদ অনলাইন : সময় বদলানোর সঙ্গে বদলেছে মানুষের কথা বলার ধরনও। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কথাবার্তায় স্ল্যাং বা অশালীন শব্দের ব্যবহার এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। বন্ধুদের আড্ডা থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার কথোপকথন—অনেক ক্ষেত্রেই রসিকতা, উত্তেজনা কিংবা আনন্দ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেও গালিগালাজ ব্যবহার করতে দেখা যায়।
কেউ কেউ আবার মনে করেন, এভাবে কথা বললে তাঁকে আরও ‘কুল’ বা আধুনিক মনে হয়। কিন্তু কথায় কথায় অশালীন ভাষা ব্যবহার করার অভ্যাস কি সত্যিই ক্ষতিকর নয়? মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক দিক থেকে এর বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। অন্যদিকে, জ্যোতিষশাস্ত্রেও কুকথা ব্যবহারের বিষয়ে রয়েছে ভিন্ন ব্যাখ্যা।
রাগ কমাতে কখনও গালিগালাজের ভূমিকা থাকতে পারে
গালিগালাজের বিষয়টি একেবারে সাদা-কালো নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অশালীন শব্দ উচ্চারণ সাময়িকভাবে আবেগের চাপ কমাতে বা ব্যথা সহ্য করার অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ কোনও আঘাত, রাগ বা হতাশার মুহূর্তে মুখ থেকে বেরিয়ে যাওয়া একটি গালি কখনও কখনও মানসিক চাপ প্রকাশের উপায় হয়ে উঠতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিদিনের কথাবার্তায় নিয়মিত গালিগালাজ করা উপকারী। পরিস্থিতি, শব্দের ধরন এবং কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে—এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘কুল’ দেখাতে কুকথা বলার অভ্যাস
বর্তমান প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে মজা করার সময় গালিগালাজ করার প্রবণতা দেখা যায়। অনেক সময় এটিকে বন্ধুত্বের স্বাভাবিক ভাষা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় যখন এই অভ্যাসটি ব্যক্তিগত কথাবার্তার গণ্ডি পেরিয়ে যায়।
পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র কিংবা অপরিচিত মানুষের সামনে একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করলে পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। যিনি মজা করার উদ্দেশ্যে কথা বলছেন, তাঁর কাছে বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও অন্য ব্যক্তি সেটিকে অপমান বা অসম্মান হিসেবে নিতে পারেন।
সম্পর্কে তৈরি হতে পারে দূরত্ব
অতিরিক্ত গালিগালাজের অন্যতম বড় সামাজিক প্রভাব পড়তে পারে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। বন্ধুদের মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট ধরনের ভাষা হয়তো স্বাভাবিক হলেও পরিবারের সদস্য বা সহকর্মীদের ক্ষেত্রে একই শব্দ ব্যবহার করলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে বয়স্কদের সঙ্গে কথা বলার সময় অশালীন ভাষা ব্যবহার করলে তাঁরা সেটিকে অভদ্রতা হিসেবে দেখতে পারেন। কর্মক্ষেত্রেও একই সমস্যা হতে পারে। সহকর্মীকে মজা করে বলা একটি কথা তাঁর কাছে অপমানজনক মনে হলে পেশাগত সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই কোথায় কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
জ্যোতিষশাস্ত্রে কুকথা নিয়ে কী বলা হয়?
কুকথা বা অশালীন ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে জ্যোতিষশাস্ত্রেরও একটি নিজস্ব ব্যাখ্যা রয়েছে। কিছু জ্যোতিষীর মতে, অতিরিক্ত কুকথা বলা নেতিবাচক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁদের ব্যাখ্যায় মুখের ভাষার সঙ্গে রাহুর প্রভাবের যোগ রয়েছে বলে মনে করা হয়।
জ্যোতিষশাস্ত্রের এই ধারণা অনুযায়ী, অনবরত কুকথা ব্যবহারের ফলে জীবনে বাধা, অশান্তি কিংবা বিভিন্ন ধরনের সমস্যা বাড়তে পারে। কাজ আটকে যাওয়া থেকে শুরু করে সম্পর্কের অবনতি—বিভিন্ন ঘটনাকেই এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
তবে এগুলি জ্যোতিষশাস্ত্রের বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কারণ-ফল সম্পর্ক নয়। তাই জীবনের কোনও সমস্যা শুধুমাত্র কুকথা বলার কারণে হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।
ভাষা মানুষের ব্যক্তিত্বের পরিচয়ও দেয়
মানুষ কীভাবে কথা বলে, তার প্রভাব পড়ে অন্যদের চোখে তার ব্যক্তিত্বের উপরও। সবসময় রুক্ষ বা অশালীন ভাষায় কথা বললে একজন মানুষ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের সময় ভাষার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম আলাপেই অতিরিক্ত গালিগালাজ করলে সামনের মানুষটি অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। ফলে সম্পর্ক তৈরি হ



