সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeএক্সক্লুসিভকাগজ ভিজিয়ে বল বানিয়ে খেলল প্রাণী! পিগমি ব়্যাকুন বুদ্ধিতে অবাক বিজ্ঞানীরা

কাগজ ভিজিয়ে বল বানিয়ে খেলল প্রাণী! পিগমি ব়্যাকুন বুদ্ধিতে অবাক বিজ্ঞানীরা

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভেজা কাগজকে বালির উপর ফেলে গড়াতে থাকে দুই র্যাকুন। বারবার গড়ানোর ফলে কাগজের সঙ্গে বালি মিশে যেতে থাকে। ধীরে ধীরে সেটি গোলাকার একটি বস্তুতে পরিণত হয়।

রাহুল রাহা,এনবি সংবাদ, আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : মানুষ কাগজ দিয়ে নানা কিছু তৈরি করতে পারে। কাগজ মুড়িয়ে বা ভাঁজ করে বল বানিয়ে খেলার ঘটনাও আমাদের কাছে একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনও বন্য প্রাণী নিজেরাই কাগজ সংগ্রহ করে, সেটিকে জলে ভিজিয়ে, বালিতে গড়িয়ে বল তৈরি করে সেই বল নিয়ে খেলছে—এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল।

সম্প্রতি গবেষকদের নজরে আসা এমনই এক আচরণ নতুন করে ভাবাচ্ছে প্রাণীদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। মেক্সিকোর কজুমেল দ্বীপে গবেষণার সময় দুটি স্ত্রী  পিগমি র্যাকুন-এর এমন আচরণ দেখতে পান বিজ্ঞানীরা। কাগজ দিয়ে তারা যেভাবে নিজেরাই খেলনা তৈরি করে নিয়েছে, তা দেখে রীতিমতো বিস্মিত গবেষকেরা।

কজুমেল দ্বীপে পিগমি র্যাকুনদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করছিলেন গবেষকেরা। এই প্রাণীদের দৈনন্দিন চলাফেরা, খাবার খোঁজা এবং অন্যান্য আচরণের দিকে তাঁরা সতর্ক নজর রাখছিলেন।

সেই পর্যবেক্ষণের সময় দুটি ছোট স্ত্রী পিগমি র্যাকুনের সামনে কয়েকটি কাগজ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সাধারণ কোনও বন্য প্রাণী কাগজ পেলে সেটি ছিঁড়ে ফেলতে পারে বা ফেলে চলে যেতে পারে। কিন্তু এই দুই র্যাকুনের আচরণ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।

তারা কাগজগুলি সংগ্রহ করে নেয়। এরপর শুরু হয় আরও আশ্চর্যজনক একটি প্রক্রিয়া।

র্যাকুন দুটি কাগজগুলিকে জলে ভিজিয়ে নেয়। এরপর ভেজা কাগজকে নিজেদের মতো করে চটকাতে থাকে। শুধু সেখানেই থেমে থাকেনি তারা।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভেজা কাগজকে বালির উপর ফেলে গড়াতে থাকে দুই র্যাকুন। বারবার গড়ানোর ফলে কাগজের সঙ্গে বালি মিশে যেতে থাকে। ধীরে ধীরে সেটি গোলাকার একটি বস্তুতে পরিণত হয়।

অর্থাৎ, কোনও মানুষের সাহায্য ছাড়াই র্যাকুন দুটি কাগজকে প্রক্রিয়াজাত করে একটি বলের মতো বস্তু তৈরি করে নেয়।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল এরপরের ঘটনা। কাগজ ও বালি মিশিয়ে বলের মতো বস্তু তৈরি হওয়ার পর দুই র্যাকুন সেটি নিয়েই খেলতে শুরু করে।

শুধু একবার এমন ঘটনা ঘটেছে, তা নয়। গবেষকেরা কজুমেল দ্বীপে কাজ করার সময় একাধিকবার এই ধরনের আচরণ লক্ষ্য করেছেন। ফলে ঘটনাটি নিছক আকস্মিক ছিল, নাকি পিগমি র্যাকুনরা সত্যিই এই পদ্ধতি ব্যবহার করে খেলনা তৈরি করতে পারে—তা নিয়ে গবেষকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।

পিগমি র্যাকুন অত্যন্ত বিরল একটি প্রাণী। মেক্সিকোর কজুমেল দ্বীপের স্থানীয় এই প্রজাতিকে দীর্ঘদিন ধরেই সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এই প্রাণীকে নিয়ে গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তাদের আচরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা বোঝা। নতুন পর্যবেক্ষণ সেই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগ করতে পারে।

কোনও প্রাণী যদি পরিবেশে পাওয়া বিভিন্ন বস্তু নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে, তাহলে তার সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পিগমি র্যাকুনদের কাগজ ভিজিয়ে, চটকে এবং বালিতে গড়িয়ে বল তৈরি করার আচরণ সেই কারণেই বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।

বন্য প্রাণীদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ বহু পুরনো। বিভিন্ন প্রাণীকে পরিবেশ থেকে পাওয়া বস্তু ব্যবহার করে খাবার সংগ্রহ, আশ্রয় তৈরি কিংবা খেলাধুলা করতে দেখা গেছে।

তবে কাগজের মতো একটি বস্তু সংগ্রহ করে সেটিকে পরিবর্তন করে নতুন আকৃতি দেওয়া এবং তারপর সেই বস্তু ব্যবহার করে খেলার ঘটনা যথেষ্ট আকর্ষণীয়।

এই ধরনের আচরণ থেকে বোঝা যায়, প্রাণীরা শুধু সহজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমে সব কাজ করে না। পরিবেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা কখনও কখনও নতুন পদ্ধতিও ব্যবহার করতে পারে। অবশ্য এই একটি আচরণ থেকেই প্রাণীটির মানুষের মতো চিন্তাশক্তি রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

গবেষকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে একটি হল, পিগমি র্যাকুনদের এই আচরণ বারবার পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। যদি কোনও আচরণ একবারই দেখা যায়, তাহলে সেটিকে কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ থাকে।

কিন্তু একই ধরনের আচরণ একাধিকবার দেখা গেলে সেটি প্রাণীটির আচরণগত বৈশিষ্ট্যের অংশ কি না, তা নিয়ে আরও গভীর গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়।

এই কারণেই কজুমেল দ্বীপের পিগমি র্যাকুনদের আচরণ বিজ্ঞানীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মানুষের তৈরি কোনও খেলনা হাতে না পেয়েও পরিবেশে থাকা সামান্য উপকরণ ব্যবহার করে নিজেদের জন্য খেলার সামগ্রী তৈরি করেছে র্যাকুন দুটি। কাগজ, জল এবং বালিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি সেই বল শেষ পর্যন্ত তাদের খেলনার কাজ করেছে।

ঘটনাটি শুধু মজার নয়, প্রাণীদের আচরণ ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা হয়তো জানতে পারবেন, পিগমি র্যাকুনরা এই ধরনের বস্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রে কতটা পরিকল্পিতভাবে কাজ করে।

প্রকৃতির জগতে বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ যে শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, পিগমি র্যাকুনদের এই অদ্ভুত খেলাধুলার ঘটনা যেন তারই আরও একটি চমকপ্রদ উদাহরণ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ