সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeলাইফস্টাইলজাপানে সকালে নয়, রাতে স্নান করেন মানুষ, কারণ জানলে অবাক হবেন

জাপানে সকালে নয়, রাতে স্নান করেন মানুষ, কারণ জানলে অবাক হবেন

‘উদীয়মান সূর্যের দেশ’ জাপানে মানুষের স্নানের সময় যে অনেক সময় সূর্য ওঠার আগে নয়, বরং সূর্য ডোবার পর—এই তথ্যটি অনেকের কাছেই বেশ চমকপ্রদ মনে হতে পারে। দিনের শুরুতে সতেজ হওয়ার বদলে দিনের শেষে শরীর ও মনকে শান্ত করাই সেখানে রাতের স্নানের অন্যতম আকর্ষণ।

এনবি সংবাদ ডেস্ক : সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান করা বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাস। ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশেই দিনের শুরুতে স্নান করার রীতি বেশ প্রচলিত। সকালে স্নান করলে শরীর সতেজ লাগে, ঘুমের ভাব কাটে এবং নতুন করে দিনের কাজ শুরু করার প্রস্তুতিও হয়ে যায়।

কিন্তু পৃথিবীর সব দেশের মানুষের স্নানের অভ্যাস এক নয়। এমন একটি দেশ রয়েছে, যেখানে সকালে স্নান করার বদলে রাতে স্নান করতেই বেশি পছন্দ করেন অধিকাংশ মানুষ। দিনের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পর তাঁরা সময় নিয়ে স্নান করেন। শুধু পরিচ্ছন্নতার জন্য নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরাম, মানসিক প্রশান্তি এবং দীর্ঘদিনের সংস্কৃতিও।

দেশটি হল **জাপান**। উদীয়মান সূর্যের দেশ হিসেবে পরিচিত জাপানে রাতের স্নানের সংস্কৃতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে গরম জলে স্নান করে শরীর ও মনকে শান্ত করার অভ্যাস বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

জাপানে দিনের কাজকর্ম শেষ হওয়ার পর স্নান করার প্রবণতা বেশি। অফিস, স্কুল কিংবা অন্যান্য কাজ শেষ করে মানুষ বাড়ি ফেরেন। এরপর তাঁরা স্নানের জন্য সময় বের করেন।

অনেকের কাছে স্নান মানে শুধু শরীর পরিষ্কার করা নয়। এটি দিনের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে একটু দূরে সরিয়ে নেওয়ার সময়ও। সারাদিন বাইরে থাকার পর শরীরে ঘাম, ধুলো ও ময়লা জমে। রাতে স্নান করলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সেগুলো পরিষ্কার হয়ে যায়।

ফলে পরিষ্কার শরীর নিয়ে বিছানায় যাওয়ার অনুভূতিটাও অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়।

জাপানের প্রচলিত স্নানের পদ্ধতিতেও একটি বিশেষ বিষয় লক্ষ্য করা যায়। সেখানে অনেকে প্রথমে শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করেন। এরপর গরম জলে কিছুক্ষণ ভিজে থাকেন বা স্নান করেন।

এই গরম জলের স্নান শরীরকে আরাম দিতে পারে। সারাদিন কাজ করার পর পেশিতে যে ক্লান্তি তৈরি হয়, তা কিছুটা কমানোর জন্যও উষ্ণ জলের স্নান অনেকের কাছে স্বস্তিদায়ক।

বিশেষ করে ঠান্ডা আবহাওয়ায় গরম জলে স্নান শরীরকে উষ্ণ রাখতেও সাহায্য করে। তাই জাপানে রাতের স্নান অনেকের কাছে একটি আরামদায়ক দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে।

জাপানিদের রাতের স্নানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে মানসিক প্রশান্তির বিষয়টিও সামনে আসে। সারাদিনের কাজ, পড়াশোনা, যাতায়াত এবং নানা দায়িত্বের পর মানুষের শরীরের পাশাপাশি মনও ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

দিনের শেষে উষ্ণ জলে স্নান করলে শরীর কিছুটা আরাম পায়। এর ফলে অনেকেই নিজেদের আরও শান্ত ও স্বস্তিবোধ করেন। অর্থাৎ রাতের স্নান তাঁদের কাছে পরের দিনের প্রস্তুতিরও একটি অংশ।

একটি ব্যস্ত দিনের শেষে কিছুটা সময় নিজের জন্য কাটানো—এই অভ্যাসের মধ্যে সেই বিষয়টিও রয়েছে।

রাতে স্নান করার সঙ্গে ঘুমের বিষয়টিও জড়িত। উষ্ণ জলে স্নান শরীরকে আরাম দেওয়ার কারণে অনেকের ঘুমের প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে। দিনের ব্যস্ততা থেকে ধীরে ধীরে শরীর ও মনকে বিশ্রামের অবস্থায় নিয়ে আসার একটি উপায় হিসেবেও অনেকে রাতের স্নানকে দেখেন।

সারাদিনের ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করে পরিষ্কার শরীরে বিছানায় যাওয়ার ফলে ঘুমের পরিবেশও আরামদায়ক মনে হতে পারে।

তবে সবার ক্ষেত্রে স্নানের অভিজ্ঞতা একরকম নয়। কারও ক্ষেত্রে রাতের স্নান বেশি আরামদায়ক, আবার কেউ সকালে স্নান করেই দিন শুরু করতে বেশি স্বচ্ছন্দ।

জাপানি সমাজে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য। শুধু ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নয়, বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রেও জাপানিদের বিশেষ মনোযোগ দেখা যায়।

স্নানের ক্ষেত্রেও পরিচ্ছন্নতার ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে থেকে বাড়িতে ফিরে শরীর পরিষ্কার করে নেওয়া এবং এরপর পরিষ্কার পরিবেশে বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত।

এখানে আরও একটি সাংস্কৃতিক বিষয় রয়েছে। জাপানে কিছু ঐতিহ্যবাহী স্নানের রীতি ও সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা এবং পবিত্রতার ধারণা জড়িয়ে আছে। ফলে স্নান অনেক সময় শুধুই শরীর পরিষ্কার করার বিষয় থাকে না; এটি একটি সাংস্কৃতিক অভ্যাস হিসেবেও বিবেচিত হয়।

জাপানের মানুষের জীবনযাত্রা বেশ ব্যস্ত। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেরই অফিস, স্কুল বা অন্যান্য কাজের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। ফলে সকালে দীর্ঘ সময় ধরে আরাম করে স্নান করার সুযোগ সবসময় পাওয়া যায় না।

দিনের শুরুতে দ্রুত তৈরি হয়ে কাজে বেরিয়ে পড়ার পরিবর্তে অনেকেই দিনের শেষে স্নানের জন্য সময় রাখেন। এতে সকালে সময় বাঁচে এবং রাতে বাড়ি ফিরে ধীরে-সুস্থে স্নান করে বিশ্রাম নেওয়া যায়।

তাই জাপানে রাতে স্নান করার অভ্যাসের পেছনে সংস্কৃতির পাশাপাশি জীবনযাত্রার বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের মতো দেশে সকালে স্নান করা অনেক পরিবারের কাছে প্রায় নিয়মের মতো। কেউ কেউ আবার সকালে এবং রাতে দু’বারও স্নান করেন। কিন্তু জাপানে দিনের শেষে স্নান করার অভ্যাসটি তুলনামূলকভাবে বেশি পরিচিত।

তবে এটিকে এমনভাবে দেখা ঠিক হবে না যে জাপানের প্রত্যেক মানুষ শুধুমাত্র রাতে স্নান করেন। ব্যক্তিভেদে অভ্যাস আলাদা হতে পারে। কেউ সকালে স্নান করতে পারেন, কেউ রাতে, আবার কেউ প্রয়োজন অনুযায়ী দু’সময়েই স্নান করতে পারেন।

তবে জাপানি সংস্কৃতিতে দিনের কাজ শেষে স্নান করে শরীর ও মনকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করার ধারণাটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে জাপানে রাতে স্নান করার বিষয়টি শুধু একটি অদ্ভুত অভ্যাস নয়। এর সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা, আরাম, সংস্কৃতি এবং ব্যস্ত জীবনযাত্রা—সবকিছুরই যোগ রয়েছে।

সারাদিনের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরা, শরীর পরিষ্কার করা, উষ্ণ জলে কিছুটা সময় কাটানো এবং এরপর বিশ্রামে যাওয়া—অনেক জাপানির কাছে এটি দিনের একটি স্বাভাবিক সমাপ্তি।

তাই ‘উদীয়মান সূর্যের দেশ’ জাপানে মানুষের স্নানের সময় যে অনেক সময় সূর্য ওঠার আগে নয়, বরং সূর্য ডোবার পর—এই তথ্যটি অনেকের কাছেই বেশ চমকপ্রদ মনে হতে পারে। দিনের শুরুতে সতেজ হওয়ার বদলে দিনের শেষে শরীর ও মনকে শান্ত করাই সেখানে রাতের স্নানের অন্যতম আকর্ষণ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ