এনবি সংবাদ ডেস্ক : স্ট্রিট ফুডের প্রতি মানুষের ভালোবাসা নতুন কিছু নয়। রাস্তার ধারে ছোট্ট দোকানে তৈরি গরমাগরম খাবারের স্বাদ নিতে অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে যান। কিন্তু মাত্র ২০ টাকার একটি বড়া পাও খাওয়ার জন্য কেউ যদি দিল্লি থেকে মুম্বই উড়ে যান এবং সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ করেন, তাহলে সেই গল্প যে নজর কাড়বে, সেটাই স্বাভাবিক।
সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক তরুণীর বড়া পাও খাওয়ার ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত তাঁকে দিল্লি থেকে মুম্বইয়ে পৌঁছে দেয়। সেখানে গিয়ে রাস্তার ধারের দোকান থেকে মাত্র ২০ টাকায় তিনি কিনে খান তাঁর কাঙ্ক্ষিত খাবার। তবে সেই খাবারের জন্য যাতায়াত, থাকা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তাঁর পকেট থেকে বেরিয়ে যায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
ঘটনার শুরু দিল্লিতেই। তরুণীর বড়া পাও খাওয়ার ইচ্ছা হয়েছিল। দিল্লির একটি দোকান থেকে তিনি বড়া পাও কিনেও ফেলেন। কিন্তু খাবারটি খাওয়ার পর তাঁর মনে ধরেনি স্বাদ।
তাঁর মনে হয়েছিল, মুম্বইয়ের আসল বড়া পাওয়ের সঙ্গে এই খাবারের কোনও তুলনাই হয় না। কারণ বড়া পাও মূলত মুম্বইয়ের জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড। শহরের অলিগলি থেকে ব্যস্ত রাস্তার মোড়—প্রায় সর্বত্রই এই খাবারের দোকান দেখা যায়।
তাই শুধু আফসোস করে বসে থাকেননি ওই তরুণী। বরং ঠিক করে ফেলেন, বড়া পাও যদি খেতেই হয়, তাহলে মুম্বই গিয়েই খাবেন।
ইচ্ছেটাকে বাস্তবে পরিণত করতে বেশি সময় নেননি তিনি। দিল্লি থেকে মুম্বই যাওয়ার জন্য একটি বিমানের টিকিট বুক করেন। টিকিটের জন্য তাঁর খরচ হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা।
এরপর নির্দিষ্ট সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দেন তরুণী। সন্ধ্যার দিকে তিনি মায়ানগরীতে পৌঁছন। কিন্তু তাঁর অভিযান তখনও শেষ হয়নি।
মুম্বই পৌঁছে যানজট পেরিয়ে থাকার জন্য একটি হোটেলও বুক করেন। সেই ঘরের এক রাতের ভাড়া ছিল প্রায় ৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ শুধু বিমানযাত্রা ও হোটেলের খরচেই বেশ কিছুটা টাকা চলে যায়।
তবুও তাঁর লক্ষ্য ছিল একটাই—মুম্বইয়ের রাস্তার ধারে পাওয়া আসল বড়া পাও খাওয়া।
রাতে হোটেলে থাকার পর সকালে বেরিয়ে পড়েন তরুণী। তাঁর গন্তব্য ছিল মুম্বইয়ের রাস্তার ধারের কোনও বড়া পাওয়ের দোকান।
এরপর শহরের বিভিন্ন রাস্তা ও গলি ঘুরতে থাকেন তিনি। অবশেষে তাঁর চোখে পড়ে একটি রাস্তার ধারের বড়া পাওয়ের দোকান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, একটি বড়া পাওয়ের দাম মাত্র ২০ টাকা।
দাম শুনে আর দেরি করেননি। কিনে ফেলেন বহু কাঙ্ক্ষিত বড়া পাও। এরপর সেটিতে কামড় বসানোর মুহূর্তটিই যেন তাঁর পুরো যাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
তরুণী মজা করে জানান, তিনি আসলে ১৫ হাজার টাকার বড়া পাও খাচ্ছেন। কারণ খাবারটির দাম মাত্র ২০ টাকা হলেও সেটি খেতে দিল্লি থেকে মুম্বই যাওয়া, বিমানভাড়া, হোটেলে থাকা এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তাঁর মোট ব্যয় পৌঁছে যায় প্রায় ১৫ হাজার টাকায়।
তবে এত টাকা খরচ করার পরেও তাঁর কোনও আফসোস ছিল না। বরং তাঁর দাবি, মুম্বইয়ের ওই বড়া পাও ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুস্বাদু বড়া পাওগুলোর একটি।
অর্থাৎ খাবারের আসল দাম ছিল মাত্র ২০ টাকা। কিন্তু সেই খাবারের স্বাদ পাওয়ার জন্য যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি গিয়েছেন, সেটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মুম্বইয়ের বড়া পাও শুধু একটি সাধারণ স্ট্রিট ফুড নয়। শহরের খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে এই খাবার গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সাধারণত মশলাদার আলুর বড়া একটি পাউরুটির মতো পাউয়ের মধ্যে রেখে তার সঙ্গে চাটনি ও বিভিন্ন মশলা দিয়ে পরিবেশন করা হয়।
দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে কলেজ পড়ুয়া, শ্রমজীবী মানুষ থেকে পর্যটক—সব ধরনের মানুষকেই মুম্বইয়ের রাস্তায় বড়া পাও খেতে দেখা যায়।
তবে দোকান, মশলার ব্যবহার এবং রান্নার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে স্বাদে বেশ পার্থক্য দেখা যায়। সম্ভবত সেই কারণেই দিল্লিতে খাওয়া বড়া পাওয়ের সঙ্গে মুম্বইয়ের খাবারের স্বাদের তুলনা করে তরুণী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তরুণীর এই অদ্ভুত খাবার-অভিযানের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। ২০ টাকার একটি খাবার খেতে কেউ কেন ১৫ হাজার টাকা খরচ করবেন, তা নিয়েই শুরু হয় নানা আলোচনা।
অনেকেই ঘটনাটিকে মজার দৃষ্টিতে দেখেছেন। কেউ বলেছেন, এটি শুধু বড়া পাও খাওয়ার গল্প নয়, বরং পছন্দের খাবারের জন্য মানুষের আবেগের একটি মজার উদাহরণ। আবার কেউ কেউ মনে করেছেন, খাবারের স্বাদের পাশাপাশি নতুন শহরে গিয়ে স্থানীয় খাবার চেখে দেখার অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও জায়গা করে নেয়। বিশেষ করে ‘২০ টাকার বড়া পাও খেতে ১৫ হাজার টাকা খরচ’—এই বিষয়টি মানুষের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে তরুণীর এই ঘটনা প্রমাণ করে, খাবার কখনও কখনও মানুষের জন্য শুধুই খাবার থাকে না। কোনও বিশেষ খাবারের সঙ্গে যদি আবেগ, কৌতূহল কিংবা স্মৃতি জড়িয়ে যায়, তাহলে সেটি খাওয়ার জন্য মানুষ অনেক দূর পর্যন্ত যেতেও প্রস্তুত থাকেন।
তরুণীর ক্ষেত্রে ২০ টাকার বড়া পাও হয়ে উঠেছে একটি সম্পূর্ণ ভ্রমণের কারণ। দিল্লিতে শুরু হওয়া একটি সাধারণ খাবারের ইচ্ছা তাঁকে বিমানে করে মুম্বই নিয়ে গেল। সেখানে হোটেলে রাত কাটিয়ে পরদিন রাস্তার ধারের দোকানে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত খাবার খেয়ে তবেই তাঁর অভিযান শেষ হয়।
শেষ পর্যন্ত বড়া পাওয়ের দাম রইল ২০ টাকাই। কিন্তু সেই ২০ টাকার স্বাদ পেতে তাঁর খরচ হল প্রায় ১৫ হাজার টাকা। আর সেই কারণেই তাঁর গল্প এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল।
কেউ এটিকে নিছক খরচের গল্প হিসেবে দেখছেন, কেউ আবার বলছেন—পছন্দের খাবারের জন্য এমন পাগলামিই হয়তো ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।



