সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeবিশ্ব সংবাদওয়েস্ট বেঙ্গলসিকিমে ভূমিধসে তিস্তা নদী আংশিক অবরুদ্ধ, বাড়ছে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

সিকিমে ভূমিধসে তিস্তা নদী আংশিক অবরুদ্ধ, বাড়ছে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এই বাঁধের পেছনে পানি জমতে থাকায় প্রশাসনের উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ যত বেশি বাধাগ্রস্ত হবে, তত বেশি পানি আটকে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

রাহুল রাহা, আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : সিকিমের পাহাড়ি এলাকায় ফের বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনায় তিস্তা নদীকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উত্তর সিকিমের মাঙ্গান জেলায় পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে চিয়াকুং নদীতে পড়ে। ধসের মাটি, পাথর ও বোল্ডার নদীর প্রবাহের একটি অংশ আটকে দিয়ে প্রাকৃতিক বাঁধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর ফলে নদীর পেছনের অংশে পানি জমতে শুরু করেছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। এ খবর বিবিসি বাংলা অনইনের।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কার জায়গা হলো, এই প্রাকৃতিক বাঁধ কোনোভাবে ভেঙে গেলে জমে থাকা পানি হঠাৎ প্রবল স্রোত নিয়ে নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। তখন তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সিকিমের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের তিস্তা অববাহিকাতেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

উত্তর সিকিমে কীভাবে ঘটল ভূমিধস?

শনিবার গভীর রাতে উত্তর সিকিমের নাগা বনাঞ্চলের থেং টানেলের কাছে বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ভেঙে নিচে চিয়াকুং নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর ও বোল্ডার নদীর মধ্যে জমা হয়।

এর ফলে চিয়াকুং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে এর প্রভাব পড়ে তিস্তা নদীর জলপ্রবাহেও। ধসের উপকরণ নদীর ওপর এমনভাবে জমা হয়েছে যে সেটি অনেকটা বাঁধের মতো কাজ করছে।

প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এই বাঁধের পেছনে পানি জমতে থাকায় প্রশাসনের উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ যত বেশি বাধাগ্রস্ত হবে, তত বেশি পানি আটকে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার মূল প্রবাহ বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। চিয়াকুং নদীতেও ধীরে ধীরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

কেন এই প্রাকৃতিক বাঁধ নিয়ে এত ভয়?

পাহাড় ধসে নদীর গতিপথ আটকে গেলে সেখানে অস্থায়ী জলাধারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একে অনেক সময় ভূমিধসজনিত প্রাকৃতিক বাঁধ বলা হয়। বাইরে থেকে পরিস্থিতি শান্ত মনে হলেও বাঁধের পেছনে পানি জমতে থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ধসের কারণে তৈরি হওয়া বাঁধটি যদি অতিরিক্ত পানির চাপ সহ্য করতে না পারে, তাহলে সেটি হঠাৎ ভেঙে যেতে পারে। তখন জমে থাকা পানি মাটি, পাথর ও গাছপালার ধ্বংসাবশেষ সঙ্গে নিয়ে দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। পাহাড়ি নদীর ক্ষেত্রে স্রোতের গতি অত্যন্ত বেশি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাও দ্রুত বাড়তে পারে।

তবে বর্তমানে ঠিক কতটা পানি ওই এলাকায় আটকে রয়েছে, কিংবা ধসের কারণে নদীর কতটা অংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তাই পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রশাসনের সতর্কতা, চালু কন্ট্রোল রুম

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঙ্গান জেলা প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। নদীর কাছাকাছি না যাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিরাপদ ও উঁচু জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভূমিধসের কারণে তৈরি হওয়া বাধা অপসারণের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সিকিম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথোরিটি এবং স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টারের পক্ষ থেকেও কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।

চুংথাং থানা ও থেং চেক পোস্টের পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলের আশপাশে মোতায়েন করা হয়েছে। সঙ্কলং ও ফিদাং এলাকায় তিস্তার জলস্তরও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ওই এলাকাগুলোতে আপাতত পানির স্তর স্বাভাবিক রয়েছে।

ভূমিধসের প্রভাব পড়েছে সড়ক যোগাযোগেও

শুধু নদীর প্রবাহ নয়, ভূমিধসের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। থেং টানেলের বিপরীতে নাগা বনাঞ্চলের নাগা-তোসা সড়কের একটি বড় অংশ ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নতুন করে কাটা পাহাড়ি রাস্তার একটি অংশ ভূমিধসের কারণে ভেঙে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় এ ধরনের ভূমিধস নতুন কোনো ঘটনা নয়। পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেলে এবং অতিরিক্ত পানি মাটির ভেতরে ঢুকে পড়লে ঢাল অস্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে। তখন সামান্য অতিরিক্ত চাপেও বড় অংশ ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

উত্তরবঙ্গে কেন সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে?

তিস্তা নদী সিকিম থেকে নেমে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ফলে সিকিমে নদীর উজানে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হলে তার প্রভাব নিচের দিকের এলাকাতেও পড়তে পারে।

এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারসহ তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদী সংলগ্ন এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।

বাসুসুবা, গজলডোবা, বাগরাকোটসহ তিস্তাপারের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় মানুষকে নদীর কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদী সংলগ্ন রাস্তা ও ঝুলন্ত সেতু ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বিশেষ করে যেসব মানুষ নদীর খুব কাছে বসবাস করেন, তাদের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। কারণ নদীর পানি কখন বাড়বে, তা শুধু স্থানীয় আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে না; উজানে বৃষ্টি, ভূমিধস বা আকস্মিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও এর সঙ্গে জড়িত।

২০২৩ সালের ভয়াবহ সিকিম বন্যার স্মৃতি

বর্তমান পরিস্থিতিকে ঘিরে উদ্বেগের অন্যতম কারণ ২০২৩ সালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা। ওই সময় সিকিমে তিস্তা নদীর পানি ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়। চুংথাং এলাকায় তিস্তা-থ্রি বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো, সেতু, রাস্তা এবং বসতবাড়ির ওপরও এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। সিকিমের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলেও নদীর পানি বেড়ে যায়। বহু জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং পর্যটকরাও বিভিন্ন এলাকায় আটকা পড়েন।

মাঙ্গান, গ্যাংটক, পাকিয়ং ও নামচি জেলার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও দার্জিলিং জেলার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতেও দুর্যোগের প্রভাব দেখা যায়।

সেই ঘটনার প্রভাব বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকাতেও অনুভূত হয়েছিল। ফলে সিকিমে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার খবর সামনে আসতেই বাংলাদেশেও স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উত্তরবঙ্গে আগেও বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে

উত্তরবঙ্গের মানুষ পাহাড়ি বৃষ্টি, ভূমিধস ও নদীর আকস্মিক পানি বৃদ্ধির ঝুঁকির সঙ্গে পরিচিত। গত বছর ভারী বৃষ্টির সময় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

কোথাও জাতীয় সড়কে বড় ধস নেমেছে, কোথাও নদীর প্রবল স্রোতে সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে বাড়িঘর ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি গবাদি পশু ভেসে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বহু পর্যটক বিভিন্ন এলাকায় আটকা পড়েছিলেন। ফলে সিকিমে নতুন করে ভূমিধসের ঘটনা সামনে আসায় পুরোনো দুর্যোগের স্মৃতি আবারও ফিরে এসেছে।

তিস্তা অববাহিকায় ঝুঁকি কোথায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা অববাহিকায় ঝুঁকির বিষয়টি শুধু নদীর বর্তমান পানি দিয়ে বিচার করলে হবে না। উজানে কী পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে, পাহাড়ের কোথায় নতুন ভূমিধস হচ্ছে এবং কোনো প্রাকৃতিক বাঁধে কতটা পানি জমছে—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিস্তার ডাউনস্ট্রিম এলাকায় গজলডোবা থেকে মেখলিগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল অতীতে নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর পানি দ্রুত বাড়লে অনেক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়।

আর যদি পাহাড়ে তৈরি হওয়া কোনো প্রাকৃতিক বাঁধ হঠাৎ ভেঙে যায়, তাহলে শুধু পানি নয়, তার সঙ্গে মাটি, পাথর ও বোল্ডারও নিচের দিকে ধেয়ে আসতে পারে। এই ধ্বংসাবশেষ নদীর স্রোতের ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বাংলাদেশের জন্যও কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

তিস্তা একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। উজানে সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলেও পড়তে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বর্তমান ভূমিধসের কারণে বাংলাদেশে নিশ্চিতভাবে বড় বন্যা হবে। ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করবে ভূমিধসের বাধা কতটা স্থায়ী হচ্ছে, সেখানে কত পানি জমছে এবং পরবর্তী সময়ে বৃষ্টিপাত কেমন হচ্ছে—এসব বিষয়ের ওপর।

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত পানি প্রবাহ ও নদীর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা। উজানের পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হলে নিচের দিকের প্রশাসনকে আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

হিমবাহ হ্রদ নিয়েও রয়েছে বাড়তি উদ্বেগ

সিকিমের দুর্যোগ ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আরেকটি বিষয় সামনে আসে—হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদ বা গ্লেসিয়াল লেক।

হিমবাহ গলে তার আশপাশে পানি জমে বড় হ্রদ তৈরি হতে পারে। কোনো কারণে এই হ্রদের বাঁধ দুর্বল হয়ে গেলে, অতিরিক্ত পানি জমলে কিংবা ভূমিকম্প বা ভূমিধসের মতো ঘটনা ঘটলে আকস্মিকভাবে বিপুল পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে।

এ ধরনের ঘটনাকে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যা বলা হয়। পাহাড়ি এলাকায় এই ধরনের বন্যার গতি অত্যন্ত দ্রুত হতে পারে।

সিকিমে একাধিক হিমবাহ হ্রদকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে ভূমিধস, ভারী বৃষ্টি এবং হিমবাহ হ্রদের ঝুঁকি—এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে না দেখে সামগ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধসের কারণে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাধার অবস্থা। বাধাটি কতটা স্থিতিশীল, তার পেছনে কত পানি জমছে এবং পানি কোন গতিতে বেরিয়ে যাচ্ছে—এসব তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে নজরদারি বাড়িয়েছে। নদীর তীরবর্তী মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখতে হবে।

বর্তমানে তিস্তার প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলেও পরিস্থিতিকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না। বিশেষ করে পাহাড়ে নতুন করে ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।

তাই আতঙ্ক ছড়ানোর চেয়ে সতর্ক থাকা, প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা এবং নদী ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের ওপর নজর রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সিকিমের এই ভূমিধস আপাতত একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নদীর ওপর তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাধা নিরাপদে অপসারণ করা গেলে বড় ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত সিকিম, উত্তরবঙ্গ এবং তিস্তা অববাহিকার মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ পাহাড়ি নদীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থেকে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে খুব বেশি সময় লাগে না।

সূত্র: বিবিসি বাংলা ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ