খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবল৮০ কিমি গতির ঝড়, হোটেলবন্দি থ্রি লায়ন্স! ভয়ংকর পরিস্থিতি কনসাস সিটিতে

৮০ কিমি গতির ঝড়, হোটেলবন্দি থ্রি লায়ন্স! ভয়ংকর পরিস্থিতি কনসাস সিটিতে

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে টর্নেডো নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয় দেশটিকে। তবে ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের জন্য এটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে নামার আগে প্রতিটি দলই নিজেদের সেরা প্রস্তুতি নিতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা কখনো কখনো পরিকল্পনাকে পুরো উল্টে দেয়। ঠিক এমনটাই ঘটেছে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে। একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার ধাক্কায় তাদের প্রস্তুতি বারবার ব্যাহত হচ্ছে।

সরঞ্জাম চুরি থেকে টর্নেডো—সমস্যার শেষ নেই

ইংল্যান্ড দলের দুর্ভোগ শুরু হয়েছিল সরঞ্জাম চুরির ঘটনা দিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র হারিয়ে প্রথম ধাক্কা খায় দলটি। এরপরই আসে প্রকৃতির ভয়ংকর রূপ—টর্নেডো। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপ খেলতে এসে এমন ধারাবাহিক সমস্যার মুখোমুখি হওয়ায় মানসিকভাবেও চাপ বাড়ছে ফুটবলারদের উপর। বিশেষ করে বড় ম্যাচের আগে এই ধরনের অনিশ্চয়তা দলের প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

কানসাস সিটিতে টর্নেডোর তাণ্ডব

ইংল্যান্ড দলের প্রস্তুতি শিবির চলছে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে। হঠাৎ করেই সেই এলাকায় শুরু হয় প্রবল ঝড় এবং টর্নেডোর প্রভাব। মুহূর্তের মধ্যে আবহাওয়া বদলে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঝড়ের দাপটে আশপাশের বহু গাছ উপড়ে পড়ে। বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। নিরাপত্তার কারণে স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেয়। ফলে ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দেরও হোটেলের ভেতরেই আটকে থাকতে হয়।

হোটেলবন্দি ফুটবলাররা, আতঙ্কের মুহূর্ত

ঘটনার সময় ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়রা হোটেলে বসে স্কটল্যান্ড বনাম হাইতির ম্যাচ দেখছিলেন। হঠাৎ তাদের মোবাইলে সতর্কবার্তা আসে। বার্তায় জানানো হয়, বাইরে বের হওয়া বিপজ্জনক এবং সবাইকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে থাকতে হবে।

এই নির্দেশ মেনে প্রায় এক ঘণ্টা নিজেদের ঘরেই বন্দি থাকতে হয় ফুটবলারদের। এমন পরিস্থিতি তাদের জন্য একেবারেই নতুন ছিল। মাঠের বাইরে এই ধরনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর মনে হয়েছে।

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবহাওয়ার নাটকীয় পরিবর্তন

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো—মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও আবহাওয়া ছিল একেবারে স্বাভাবিক। ইংল্যান্ড দল সেই সময় কানসাস সিটির সুয়োপ সকার ভিলেজে অনুশীলন করেছিল।

তখন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রোদ ছিল ঝলমলে। কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃতি এতটা রূপ বদলাবে।

একজন ইংল্যান্ড ফুটবলার বলেন, “কয়েক ঘণ্টা আগেও সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ করে এমন ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা আমরা ভাবতেই পারিনি। আমাদের হোটেলে থাকতে বলা হয়েছিল, আমরা সেটাই করেছি।”

যুক্তরাষ্ট্রে টর্নেডো: পরিচিত কিন্তু ভয়ংকর বাস্তবতা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে টর্নেডো নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয় দেশটিকে। তবে ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের জন্য এটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা।

এই কারণেই দলটি কোনো ঝুঁকি নেয়নি। নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলে।

বিশ্বকাপ সূচি: সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

সব প্রতিকূলতার মাঝেও ইংল্যান্ড দলকে দ্রুত নিজেদের ছন্দে ফিরতে হবে। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো।

১৮ জুন রাত দেড়টায় ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। এরপর ২৪ জুন একই সময়ে ঘানার বিপক্ষে এবং ২৮ জুন রাত আড়াইটায় পানামার বিরুদ্ধে খেলবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ।

এই তিনটি ম্যাচই তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি সামলে উঠে আবার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

প্রস্তুতিতে প্রভাব, তবুও লক্ষ্য অটুট

একটার পর একটা সমস্যার কারণে ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হলেও দলের লক্ষ্য কিন্তু বদলায়নি। তারা এখনও বিশ্বকাপে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

খেলোয়াড়রা জানে, বড় টুর্নামেন্টে শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই নয়, মানসিক শক্তিও বড় ভূমিকা রাখে। এই কঠিন পরিস্থিতি হয়তো তাদের আরও শক্ত করে তুলতে পারে।

শেষ কথা

ফুটবল মানে শুধু খেলা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নানা গল্প, চ্যালেঞ্জ আর অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ইংল্যান্ড দলের এই অভিজ্ঞতাও ঠিক তেমনই এক বাস্তব চিত্র।

প্রকৃতির সামনে মানুষ অসহায়—এটাই আবার প্রমাণ হলো। তবে এই বাধা পেরিয়েই যদি দলটি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে, তখন এই অভিজ্ঞতাই হয়তো তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবে।