সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeজাতীয়চট্টগ্রামে গোলা বিস্ফোরণে শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা

চট্টগ্রামে গোলা বিস্ফোরণে শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা

শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের জন্য আরও সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁদের স্থায়ী ঠিকানায় পরিবারের জন্য একটি করে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৫ সেপ্টেম্বর, এনবি সংবাদ : হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দিয়েছেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানিয়েছেন।

হাটহাজারীতে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।

এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের কষ্টের কথা শোনেন। প্রিয়জন হারানোর শোক কোনো আর্থিক সহায়তায় পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে এই কঠিন সময়ে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেনাসদস্যরা প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই শোকের সময়ে সরকার তাঁদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের দেখভালের দায়িত্বও সরকার পালন করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাসদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য গর্বের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের প্রতি সরকার ও সেনাবাহিনীর দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হবে।

শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের জন্য আরও সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁদের স্থায়ী ঠিকানায় পরিবারের জন্য একটি করে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারগুলো স্থায়ী আবাসনের সুবিধা পাবে। বিশেষ করে স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শহীদদের পরিবারের সদস্যদের জীবনযাত্রা সহজ করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়েছে।

শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের জন্য আরও কয়েকটি সহায়তার কথা জানানো হয়েছে। তাঁদের স্ত্রীদের চাকরির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সন্তানদের জন্য মাসিক ভাতা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানোর পর স্ত্রী ও সন্তানদের সামনে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। চাকরি ও মাসিক ভাতার ব্যবস্থা তাঁদের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে এমন সহায়তা শহীদ সেনাসদস্যদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতিও বহন করে।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সেনাসদস্য শহীদ হন।

ট্যাংক ফায়ারিং সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের প্রশিক্ষণে সেনাসদস্যরা নানা ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বাড়ান। তবে প্রশিক্ষণ চলাকালে দুর্ঘটনা ঘটলে তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

হাটহাজারীর ঘটনায় দুই সেনাসদস্যের মৃত্যুতে তাঁদের পরিবার, সহকর্মী ও সেনাবাহিনীতে শোকের ছায়া নেমে আসে।

হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে গোলা বিস্ফোরণে শহীদ দুই সেনাসদস্য হলেন: সৈনিক (অপারেটর) আবু বকর সিদ্দিক ও সৈনিক (গানার) মো. তাসনিম রিফায়াত।

দেশের দায়িত্ব পালনের সময় তাঁদের এই আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে শহীদ সৈনিক আবু বকর সিদ্দিকের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সাক্ষাতে অংশ নেন স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জুতি, শিশু কন্যা ফাতেমা সিদ্দিকা, বাবা আব্দুল ওহাব এবং মা পারভীন আক্তার।

প্রিয় স্বজনকে হারানোর পর পরিবারের সদস্যদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত কঠিন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

শহীদ সৈনিক মো. তাসনিম রিফায়াতের পরিবারের পক্ষ থেকেও সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী মোসা. ফাহমিদা আফরিন, শিশু কন্যা রাফসা তাসনিম ইফরা এবং বাবা মো. আসাদুল হক।

সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। শহীদ সেনাসদস্যের পরিবারের দায়িত্ব সরকার ও সেনাবাহিনী পালন করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ