সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeজাতীয়গ্যাস সংকটে কিছুটা স্বস্তি, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ল

গ্যাস সংকটে কিছুটা স্বস্তি, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ল

গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকরাও সংকটে পড়ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার খবর স্বস্তি এনেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৫ সেপ্টেম্বর, এনবি সংবাদ : দীর্ঘ দেড় মাস ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটের পর অবশেষে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। এতে দেশের শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও সার কারখানাগুলোতে এখনো চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় দীর্ঘদিনের সংকটে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কিন্তু সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে গ্যাসের ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকরাও সংকটে পড়ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার খবর স্বস্তি এনেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়। এর ফলে আগের তুলনায় গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে এই সরবরাহ বৃদ্ধিকে এখনই পূর্ণাঙ্গ সংকট নিরসন হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। কারণ দেশের বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাহিদা এখনো সরবরাহের তুলনায় বেশি। ফলে কোথাও চাপ বাড়লেও অন্য কিছু খাতে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার কারণে। গতকাল সোমবার দেশের শীর্ষস্থানীয় ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের কলকারখানায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন।

এর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেল। এতে শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী মহলে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছিল। তাই সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ঘোষণা শিল্প খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে ঘোষণার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নিয়মিত সরবরাহ ও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস বিতরণের ওপর। এক দিনের সরবরাহ বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান করতে পারে না। এজন্য প্রয়োজন স্থায়ী পরিকল্পনা এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ।

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতে। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানা স্বাভাবিক সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছিল না। কোথাও উৎপাদনের সময় কমেছে, আবার কোথাও যন্ত্রপাতি চালু রাখতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় শিল্পকারখানাগুলোতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম আগের তুলনায় কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে শিল্প খাতে গ্যাসের চাহিদা অনেক বেশি। তাই সরবরাহ বাড়লেও সব কারখানায় পর্যাপ্ত গ্যাস পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ব্যবসায়ীদের জন্য নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গ্যাসের ঘাটতি হলে উৎপাদন কমে যায়, পণ্যের খরচ বাড়ে এবং বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ পড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপরও পড়তে পারে।

গ্যাস সংকট শুধু শিল্পকারখানায় সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকাতেও গ্যাসের চাপ কম থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রান্নার সময় পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক পরিবারকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ার ফলে আবাসিক খাতেও গ্যাসের চাপ কিছুটা উন্নত হয়েছে। এতে গ্যাসনির্ভর পরিবারগুলো স্বস্তি পেতে পারে।

তবে সব এলাকায় একই মাত্রায় সরবরাহ বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। গ্যাস বিতরণব্যবস্থা, স্থানীয় চাহিদা এবং পাইপলাইনের সক্ষমতার ওপর সরবরাহ পরিস্থিতি নির্ভর করে।

তাই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও আবাসিক গ্রাহকদের জন্য পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও সময় প্রয়োজন।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো গ্যাস সরবরাহের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। গ্যাসের ঘাটতি হলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে সমস্যায় পড়ে। এর প্রভাব বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে এখনো চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে।

এর অর্থ হলো, গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির সুফল সব খাতে সমানভাবে পৌঁছায়নি। শিল্প ও আবাসিক খাতে কিছুটা উন্নতি হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস এখনো পর্যাপ্ত নয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হলে শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ গ্রাহক—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির পরও সিএনজি স্টেশন ও সার কারখানাগুলোতে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। এসব খাতেও চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম রয়েছে বলে জানা গেছে।

সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের ঘাটতি থাকলে যানবাহন চালকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। অনেক মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য সিএনজিচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভর করেন। তাই এই খাতে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি পরিবহন ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে সার কারখানাগুলো কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সার উৎপাদনে গ্যাসের প্রয়োজন হয়। ফলে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট সার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করতে পারে।

কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সার কারখানাগুলোতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে গ্যাসের ঘাটতি দ্রুত কমানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মোট ১০টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল।

দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমদানি করা এলএনজি পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। ফলে এলএনজি আমদানি বাড়লে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর আমদানি পরিকল্পনা অনেকাংশে নির্ভর করে। দরপত্র আহ্বান করলেই সব কার্গো নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। মূল্য, সরবরাহকারী এবং চুক্তির শর্তসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয়।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে বারবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও সেপ্টেম্বর মাসের পরিকল্পিত ১০টি এলএনজি কার্গোর সবগুলো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মোট ৯টি কার্গো আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে গেলে আমদানি ব্যয় বাড়ে। তখন নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস আমদানি করা কঠিন হয়ে পড়ে।

দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং বিকল্প জ্বালানি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সেপ্টেম্বর মাসে নিশ্চিত হওয়া ৯টি এলএনজি কার্গোর মধ্যে বিভিন্ন উৎস থেকে গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে দুটি এলএনজি কার্গো। স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের আরামকো থেকে আসছে আরও দুটি কার্গো।

এ ছাড়া খোলাবাজার বা স্পট মার্কেট থেকে ক্রয় করা হয়েছে পাঁচটি এলএনজি কার্গো।

এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেটও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে স্পট মার্কেট থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত কার্গো কেনার সুযোগ থাকে।

তবে স্পট মার্কেটের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। বাজারে দাম বেড়ে গেলে আমদানি ব্যয়ও বাড়তে পারে। ফলে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি দেশের জন্য ইতিবাচক খবর। তবে দীর্ঘ দেড় মাসের সংকট কাটিয়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরতে আরও কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রথমত, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও সার কারখানায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামার কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ