এনবি সংবাদ ডেস্ক,১৩ সেপ্টেম্বর : দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাময় এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনকে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসা।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। শিল্পকারখানা থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা থেকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। ফলে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
এ পরিস্থিতিতে শুধু বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের ওপর নির্ভর না করে নতুন গ্যাসের মজুত খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শেভরন প্রতিনিধিদলের বৈঠকে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সরকারের লক্ষ্য, দেশের জ্বালানি খাতকে আরও কার্যকর ও টেকসই করা। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যমান গ্যাসসম্পদের সঠিক ব্যবহারও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পুরোনো ও বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের অংশগ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী কোম্পানিটিকে নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রমে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। দেশের গ্যাসসম্পদ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও এ আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
শেভরন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে সরকার।
তবে বৈঠকে নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্রের নাম, নির্দিষ্ট বিনিয়োগের পরিমাণ বা অনুসন্ধান শুরুর সময়সূচি জানানো হয়নি।
বাংলাদেশে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন করা জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই পুরোনো ক্ষেত্রগুলোতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যমান ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে শেভরনের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন। এর মাধ্যমে বর্তমান গ্যাস উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতের চাহিদা মোকাবিলায় সহায়তা পাওয়ার আশা করছে সরকার।
দেশের জ্বালানি চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহের ওপর চাপও বাড়ছে। এ অবস্থায় পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সক্ষমতা উন্নত করার পাশাপাশি নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। সম্ভাবনাময় এলাকায় ভূতাত্ত্বিক জরিপ, তথ্য বিশ্লেষণ, পরীক্ষামূলক খনন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্যাসের মজুত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অনুসন্ধানের পর বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন সম্ভব কি না, সেটিও যাচাই করতে হয়।
এ ধরনের কার্যক্রমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোর অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো অনুসন্ধান থেকে গ্যাস পাওয়া যাবে কি না, তা আগে থেকে নিশ্চিত বলা যায় না।
বাংলাদেশের জন্য নতুন গ্যাস অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। তৃতীয়ত, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শেভরন প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বৈঠকে অংশ নেন।
শেভরনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে অনুসন্ধানের সাফল্য, গ্যাসের মজুত, উৎপাদন সক্ষমতা এবং বিনিয়োগ বাস্তবায়নের ওপর।
দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লে শিল্পকারখানার উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন গ্যাসসম্পদ আবিষ্কৃত হলে দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনাতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি সাশ্রয় এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসের উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি নীতি দেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
শেভরনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সরকারি আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেছে। বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা এবং নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান দুই দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার যে লক্ষ্য সরকার তুলে ধরেছে, তা বাস্তবায়নে সরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
তথ্য সূত্র: বাসস


