সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeদেশজুড়েবাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় যবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় যবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি

এই অর্জনের মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে গেছে। আমরা গবেষণার যে উচ্চ শিখরে পৌঁছেছি, তা ধরে রেখে আরও নতুন উচ্চতায় উঠতে হবে।

জেলা প্রতিনিধি, ১৫ সেপ্টেম্বর, এনবি সংবাদ : সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত রাজধানীর নভোথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়কে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে যেখানে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। গবেষকদের এই গৌরবময় সাফল্য উদযাপনে আজ যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উদ্ভাবনী গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন এবং বাস্তবমুখী প্রয়োগের ভিত্তিতে যবিপ্রবিকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে এক আনন্দ র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক হয়ে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবন ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবন প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

আনন্দ র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। আনন্দ র‌্যালি শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশটি পরিচালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসান।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, যবিপ্রবিতে যে উচ্চমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজ হয়, আজকের এই অর্জন তারই স্বীকৃতি। গবেষণা কখনোই একক কোনো কাজ নয়, এটি একটি সমন্বিত প্রয়াস। আমাদের শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও চমৎকার টিমওয়ার্কের কারণেই আমরা সফলভাবে এই প্রজেক্টগুলো সম্পন্ন করতে পেরেছি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের এসব গবেষণার উদ্ভাবনগুলোকে চূড়ান্ত পণ্য (প্রোডাক্ট) হিসেবে বাজারে এনে দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

তিনি আরও বলেন, আজ গবেষণায় বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে যবিপ্রবি নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। এখন আমাদের মূল দায়িত্ব হলো গবেষণার এই ধারা ও মান ধরে রাখা। আমাদের শিক্ষার্থীরা এখান থেকে বিশ্বমানের গবেষণার হাতেখড়ি নিয়ে সারা বিশ্বে নিজেদের ছড়িয়ে দেবে এবং দেশের নাম উজ্জ্বল করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, আমাদের গবেষকদের কঠোর পরিশ্রম এবং উদ্ভাবনী মেধার ফলেই যবিপ্রবি এই অভাবনীয় সাফল্য ও স্বীকৃতি অর্জন করতে পেরেছে। প্রতিযোগিতায় আমাদের একাধিক প্রজেক্ট সরকারের শীর্ষ মহলের নজর কেড়েছে, যা আমাদের বাণিজ্যিক প্রসারের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেবল লজিস্টিক সাপোর্ট ও উৎসাহ জুগিয়েছে; আসল অর্জন আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। তবে এই অর্জনই শেষ নয়, এটি একটি নতুন শুরু মাত্র। অর্জিত এই অবস্থান ধরে রেখে এবং আরও নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্যে গবেষকদের সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, আমাদের এই অসাধারণ অর্জনকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সহকর্মী গবেষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি উৎসর্গ করছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে যবিপ্রবি অবশ্যই এই সাফল্য অর্জন করতে পারবে।

তবে এই অর্জনের মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে গেছে। আমরা গবেষণার যে উচ্চ শিখরে পৌঁছেছি, তা ধরে রেখে আরও নতুন উচ্চতায় উঠতে হবে। আর্থিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বা সুযোগ-সুবিধা প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্পণ্য করবে না, সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। বিশেষ করে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরাই আমাদের মূল শক্তি। এখন অর্জিত এই সাফল্য ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে এবং যবিপ্রবিকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে হবে।”

ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই মেলায় দেশের পাবলিক ও প্রাইভেটসহ ৭৩টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শত শত গবেষক ও উদ্ভাবক অংশ নেন। যবিপ্রবির প্রদর্শিত উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে ছিল, ন্যানো-ইউরিয়া, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় স্মার্ট সেন্সর, ন্যানো-ক্যারিয়ার ড্রাগ, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রিবায়োটিক এবং সরাসরি পানি থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন প্রযুক্তি। মেলায় যবিপ্রবি থেকে প্রদর্শিত উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের পরিচালিত ‘ন্যানো ইউরিয়া’ গবেষণা প্রকল্প। প্রচলিত ইউরিয়ার বিকল্প হিসেবে কৃষকের ব্যয় ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে ন্যানো ইউরিয়ার সম্ভাবনা এবং কার্যকারিতার প্রশংসা করেন গবেষকরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ