খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদকুমিরের ঘেরায় ছুড়ে ফেলা হলো ৩ বছরের শিশু! চিড়িয়াখানায় ভয়াবহ হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

কুমিরের ঘেরায় ছুড়ে ফেলা হলো ৩ বছরের শিশু! চিড়িয়াখানায় ভয়াবহ হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

চিড়িয়াখানাটির অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হলো এর কুমির ও অ্যালিগেটর সংগ্রহ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক অ্যান্ডি জনসন বহু বছর আগে ফ্লোরিডা সফরের সময় কুমিরজাতীয় প্রাণীর প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করেন।

ব্রিটেনের ক্যামব্রিজশায়ারের একটি পারিবারিক চিড়িয়াখানায় ঘটে গেছে হৃদয়বিদারক ও ভয়াবহ এক ঘটনা। মাত্র তিন বছর বয়সী এক শিশুকে হঠাৎ করে কুমিরের ঘেরার ভেতরে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক ৩০ বছর বয়সী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদেরই নয়, পুরো দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং শিশুটির মধ্যে কোনো পরিচয় ছিল বলে এখন পর্যন্ত মনে করা হচ্ছে না। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ক্যামব্রিজশায়ারের হান্টিংডনের জনপ্রিয় পারিবারিক চিড়িয়াখানা ‘জনসনস অব ওল্ড হার্স্ট’-এ। স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার কিছু আগে জরুরি কল পাওয়ার পর পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শিশুটিকে আচমকাই কুমিরের ঘেরার দিকে ছুড়ে ফেলা হয়। ঘটনার পরপরই উপস্থিত কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বর্তমানে শিশুটি অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও স্থিতিশীল রয়েছে।

ঘটনার পরপরই নরফোকের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে শিশুটি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে কোনো সম্পর্ক বা পূর্বপরিচয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ক্যামব্রিজশায়ার পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ভেরিটি ম্যাকক্যান বলেন, তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ঘটনার পেছনের কারণ জানার চেষ্টা করছেন।

তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা এবং শিশুটির পরিবারের পাশে থাকা।”

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শিশুটির পরিবারকে মানসিক সহায়তা দিতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োজিত করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন। তাই তদন্তের পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জরুরি সেবার একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পূর্ব ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, একটি অ্যাম্বুলেন্স, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ইউনিট, বিশেষ কর্মকর্তাদের গাড়ি এবং একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল।

পরবর্তীতে শিশুটিকে সড়কপথে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে জরুরি চিকিৎসা শুরু করা হয়।

হান্টিংডনের সংসদ সদস্য বেন ওবেস-জেকটি জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

তিনি জনগণকে অনলাইনে গুজব বা অনুমানভিত্তিক তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, এটি এখন একটি সক্রিয় ফৌজদারি তদন্ত এবং সঠিক তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব পুলিশের।

তিনি শিশুটি ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

যেখানে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, সেই জনসনস অব ওল্ড হার্স্ট মূলত একটি পারিবারিক মালিকানাধীন চিড়িয়াখানা। এখানে একটি খামার, ফার্ম শপ, টি-রুম এবং স্টেকহাউসও রয়েছে।

চিড়িয়াখানাটি নিজেকে একটি কার্যকর কৃষিখামার ও প্রাণী উদ্যান হিসেবে পরিচয় দেয়। গ্রামীণ পরিবেশে অবস্থিত এই স্থানে রয়েছে উষ্ণমণ্ডলীয় বাগান এবং শতাধিক প্রাণীর আবাস।

এখানে আফ্রিকান সিংহ, বেঙ্গল টাইগার, কুমির, অ্যালিগেটর, স্লথ বিয়ারসহ বিভিন্ন বিরল প্রাণী সংরক্ষণ করা হয়।

চিড়িয়াখানাটির অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হলো এর কুমির ও অ্যালিগেটর সংগ্রহ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক অ্যান্ডি জনসন বহু বছর আগে ফ্লোরিডা সফরের সময় কুমিরজাতীয় প্রাণীর প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করেন।

পরবর্তীতে তিনি ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের কাছ থেকে কয়েকটি কুমির গ্রহণ করেন এবং ধীরে ধীরে একটি বড় সংগ্রহ গড়ে তোলেন।

গত দুই দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি কুমির সংরক্ষণ, পরিচর্যা এবং গবেষণার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, কুমির চাষ ও সংরক্ষণ প্রকল্প বিশ্বব্যাপী অনেক বিপন্ন কুমির প্রজাতির পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ঘটনাটির আরেকটি বিস্ময়কর দিক হলো, এর মাত্র একদিন আগে চিড়িয়াখানাটি সামাজিক মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কুমির দিবস উদযাপন করেছিল।

সেখানে তারা জানিয়েছিল যে কুমির তাদের ইতিহাস, আবেগ এবং প্রতিষ্ঠানের বিকাশের অন্যতম প্রধান অংশ। বহু প্রজন্ম ধরে এই প্রাণীগুলো তাদের পরিবারকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে আসছে।

চিড়িয়াখানাটিতে দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রাণী-সম্পর্কিত অভিজ্ঞতার আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কুমিরকে খাবার দেওয়ার বিশেষ কার্যক্রম।

১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে এই অভিজ্ঞতায় অংশ নিতে পারেন। ফলে কুমির সংরক্ষণ ও প্রাণী আচরণ সম্পর্কে জানার সুযোগও তৈরি হয়।

এই ভয়াবহ ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কী কারণে একজন ব্যক্তি একটি নিরপরাধ শিশুকে কুমিরের ঘেরায় নিক্ষেপ করলেন, সেটিই এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন।

পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে এবং ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে শিশুটির সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাণীপ্রেমীরা।

ঘটনাটি আবারও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে শিশুদের নিরাপত্তা এবং প্রাণী সংরক্ষণাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।