সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভ, আটক মমতা ও কেজরিওয়াল

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভ, আটক মমতা ও কেজরিওয়াল

ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

নিউজ বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেক্স : নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ১০ অক্টোবর,শনিবার, বিক্ষোভে অংশ নিতে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরালার নেতা পিনারাই বিজয়ন এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সহ বিরোধী দলের একাধিক নেতা, ছাত্রনেতা ও আন্দোলনে যোগদান কারীকে পুলিশ আটক করেছে

ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

বিক্ষোভের আগেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের বিরোধ দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্ষোভকারীদের আটক করে বাস ও পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। তবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে।

ককোরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিক্ষোভের মূল দাবি ছিল ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন আন্দোলনকারীরা।

তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পেতে পারে।

তবে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং কমিশনের নিজস্ব বক্তব্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।

সিজেপি আগে থেকেই ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছিল। রাজধানীর যন্তর মন্তরে সমাবেশ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে দলের আরও কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনের নাম রয়েছে।

একই দিনে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও আটক করে পুলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই অনেক নেতাকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে বিরোধী দলের রাজনীতিকদের পাশাপাশি ছাত্রনেতা ও আন্দোলনকারীরাও ছিলেন।

বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযানে বামপন্থী রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতাকেও আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের কয়েকজন নেতার আটকের খবর বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বামপন্থী নেতারা পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অধিকার থাকা সত্ত্বেও নেতাকর্মীদের আটকের মাধ্যমে আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।

তবে আটকের সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং প্রত্যেক নেতাকে কোথায় রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে সব তথ্য একসঙ্গে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাগুলো মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক ককোরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতাদেরও দিল্লিতে পৌঁছানোর পর আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের নাম রয়েছে।

দলটির অভিযোগ, দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরই পুলিশ বিমানের ভেতরে গিয়ে তাঁদের আটক করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকেকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে চেয়েছিলেন।

আটক হওয়ার আগে ও পরে দলের নেতারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের বক্তব্য, নেতৃত্বের কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হলেও ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদ বন্ধ হবে না।

সিজেপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে আগে থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার পেছনে নিয়মকানুন, জননিরাপত্তা ও যান চলাচল ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো উল্লেখ করেছে।

শনিবার সকালে দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা হন। তবে পথে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় কয়েকটি স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবর পাওয়া গেছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গুরুদোয়ারা বাংলা সাহিব থেকে মিছিল করে যাওয়ার সময় তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও লাঠিচার্জ করা হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেছেন। অনেককে বাসে তুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয় বলে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য।

দিল্লির নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে না পেরে অনেকে বিকল্প জায়গায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। আন্দোলনের নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের যেখানে বাধা দেওয়া হচ্ছে, সেখানেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তবে লাঠিচার্জের প্রতিটি অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি। তাই এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য হিসেবে বিষয়গুলো উল্লেখ করাই সমীচীন।

বিক্ষোভ ঘিরে শুধু রাজনৈতিক নেতারাই নন, ছাত্রনেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতাদের আটকের খবরও সামনে এসেছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আলোচিত ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠির নাম রয়েছে। এ ছাড়া সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং এবং বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরার আটকের খবরও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নিতে যাওয়া ব্যক্তিদের বাধা দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত সমাবেশস্থল থেকে দূরে থাকা অবস্থাতেও তাঁদের আটক করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আশংখা থাকায় সিজেপির কর্মসূচির দেওয়া হয়নি অনুমতি । এ ঘটনায় বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার কারনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের বিরোধ তৈরি হয়েছে।

দিল্লিতে বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর নেতারা পুলিশের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি সামনে এনেছে। বড় জমায়েতের কারণে যান চলাচল ও জননিরাপত্তায় সমস্যা হতে পারে এমন আশঙ্কার কথাও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ