সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeঅর্থ-বানিজ্য৬ দিন বন্ধ থাকবে ১৯ ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও ডিজিটাল সেবা

৬ দিন বন্ধ থাকবে ১৯ ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও ডিজিটাল সেবা

ছয় দিন ধরে নির্দিষ্ট ব্যাংকগুলোর কিছু কার্ড ও লেনদেনভিত্তিক সেবা স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না। তবে সব ব্যাংকের সব ধরনের সেবা একসঙ্গে বন্ধ থাকবে এমন নয়। নির্ধারিত প্রযুক্তিনির্ভর সেবাগুলোতেই মূলত সাময়িক বিঘ্ন ঘটবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ বাংলা : দেশের ১৯টি ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন করা হচ্ছে। এ কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এসব ব্যাংকের কার্ড, এটিএম, পিওএস, কিউআর কোডসহ কয়েকটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা বন্ধ থাকবে।

ব্যাংকগুলোর দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত ধাপে ধাপে কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ফলে এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের গ্রাহকদের লেনদেনের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন কার্যক্রমের কারণে যেসব ব্যাংকের নির্দিষ্ট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে, সেগুলো হলো ব্যাংক এশিয়া, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক।

ব্যাংকগুলো পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রাহকদের বিষয়টি জানিয়েছে। সাময়িক এই সেবা বন্ধের কারণ হিসেবে তারা সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেছে।

ব্যাংকগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ শুরু হয়েছে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে। এই কার্যক্রম চলবে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

অর্থাৎ প্রায় ছয় দিন ধরে নির্দিষ্ট ব্যাংকগুলোর কিছু কার্ড ও লেনদেনভিত্তিক সেবা স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না। তবে সব ব্যাংকের সব ধরনের সেবা একসঙ্গে বন্ধ থাকবে এমন নয়। নির্ধারিত প্রযুক্তিনির্ভর সেবাগুলোতেই মূলত সাময়িক বিঘ্ন ঘটবে।

গ্রাহকদের তাই প্রয়োজনীয় লেনদেনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আগে থেকে বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এটিএম সেবায় সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত লেনদেন বন্ধ থাকায় এটিএম থেকে নগদ টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হবে না।

যেসব গ্রাহক নিয়মিত এটিএমের মাধ্যমে টাকা তোলেন, তাদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি প্রয়োজনে নগদ অর্থের প্রয়োজন হলে সেবা বন্ধ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সুবিধাজনক হবে।

এটিএমের পাশাপাশি কার্ড ব্যবহার করেও অনেক ধরনের লেনদেন করা যাবে না। দোকান, শপিং মল বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করার সময় লেনদেন ব্যর্থ হতে পারে।

বিশেষ করে যেসব গ্রাহক দৈনন্দিন কেনাকাটায় ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভর করেন, তাদের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন। বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখলে সাময়িক সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি কমবে।

ব্যাংকিং সেবার মধ্যে বর্তমানে পিওএস ও কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে এই সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এসব প্রযুক্তিনির্ভর সেবাতেও সাময়িক সমস্যা দেখা দেবে।

ফলে দোকানে পিওএস মেশিনে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট কিংবা কিউআর কোড স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা লেনদেন সম্পন্ন করতে নাও পারেন।

শুধু এটিএম বা দোকানে কেনাকাটার ক্ষেত্রেই নয়, এনপিএসবি এবং ই-কমার্স লেনদেনেও সাময়িক প্রভাব পড়বে।

অনলাইনে পণ্য কেনাকাটা, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পেমেন্ট কিংবা এনপিএসবির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন করার সময় সমস্যা হতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত।

বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থা অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর। কার্ড, এটিএম, পিওএস, কিউআর কোড এবং অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এই বিশাল প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও কার্যকর রাখতে নিয়মিত সিস্টেম আপডেট, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মাইগ্রেশনের প্রয়োজন হয়। কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের বর্তমান সিস্টেম মাইগ্রেশনও সেই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ।

সিস্টেমের বড় ধরনের পরিবর্তন বা মাইগ্রেশনের সময় কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, যাতে কাজটি নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং ভবিষ্যতে সেবা আরও নির্ভরযোগ্য করা সম্ভব হয়।

একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন কেনাকাটা বা কার্ড পেমেন্ট থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগে তা সম্পন্ন করা যেতে পারে। জরুরি লেনদেনের জন্য বিকল্প ব্যাংকিং বা পেমেন্ট ব্যবস্থা থাকলে সেটিও প্রস্তুত রাখা যেতে পারে।

তবে কোন সেবা কখন বন্ধ থাকবে, তা ব্যাংকভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি ও অফিসিয়াল নোটিশ অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।

ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিস্টেম মাইগ্রেশনের নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। অর্থাৎ এই বন্ধ থাকা স্থায়ী নয়; প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হলেই স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছে ব্যাংকগুলো।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ