সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeবিশ্ব সংবাদবালোচিস্তান সীমান্তে পাকিস্তান-তালিবান সংঘর্ষ, নিহত একাধিক

বালোচিস্তান সীমান্তে পাকিস্তান-তালিবান সংঘর্ষ, নিহত একাধিক

গুলিস্তান সেক্টরে আফগান দিক থেকে অনুপ্রবেশ ও ‘আগ্রাসনের চেষ্টা’ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। এতে একাধিক আফগান তালিবান নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র দাবি করেছে।

নিউজ বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেক্স : আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হয়েছে। ড্রোন অনুপ্রবেশের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর এবার বালোচিস্তানের গুলিস্তান সেক্টরে সরাসরি সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের সরকারি সূত্রের দাবি, আফগানিস্তান থেকে একদল তালিবান পাকিস্তানি ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বাধা দেয়। এরপর শুরু হয় গুলির লড়াই।

পাকিস্তানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, গুলিস্তান সেক্টরে আফগান দিক থেকে অনুপ্রবেশ ও ‘আগ্রাসনের চেষ্টা’ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। এতে একাধিক আফগান তালিবান নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র দাবি করেছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার আফগান তালিবান পাকিস্তানের বালোচিস্তান অংশের গুলিস্তান সেক্টরে প্রবেশের চেষ্টা করে বলে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি। এ সময় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়।

পাকিস্তানি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পাল্টা পদক্ষেপে কয়েকজন আফগান তালিবান নিহত হয়েছে। মধ্যরাতের পরও সীমান্ত এলাকায় থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাওয়ার কথা জানানো হয়। তবে নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এই সংঘর্ষের খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন মাত্র একদিন আগেই পাকিস্তান আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল। ফলে নতুন এই সীমান্ত সংঘর্ষ দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, এসব স্থান থেকে ড্রোন পরিচালনা ও সংরক্ষণ করা হতো।

পাকিস্তানের বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগের দিন আফগান ভূখণ্ড থেকে আটটি ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। তোরখাম সীমান্ত ও কোহাটের কাছে এসব ড্রোন শনাক্ত করে গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করে পাকিস্তান। এর পরদিন আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে হামলা চালানো হয়। পাকিস্তান এই অভিযানকে নিজেদের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ প্রয়োগ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

পাকিস্তানের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনা এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ ও সংরক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জায়গা। ইসলামাবাদ আরও জানিয়েছে, এসব লক্ষ্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আফগান ভূখণ্ড থেকে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ করা হলেও কাবুল এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। আফগান তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের বিমান হামলারও নিন্দা জানিয়েছেন।

আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, পাকিস্তানের হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান সরকারের পক্ষ থেকে চারজন নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, পাকিস্তান তাদের সামরিক অভিযানে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানিয়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা ও হামলার প্রকৃতি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার অন্যতম বড় কারণ নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, টিটিপির সদস্যরা আফগান ভূখণ্ডে অবস্থান করে পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করছে।

পাকিস্তান তালিবান সরকারের কাছে আফগান ভূখণ্ডে থাকা টিটিপি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে কাবুল পাকিস্তানের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও আফগান ভূখণ্ড থেকে আসা নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের কথা জানিয়েছে।

নতুন সংঘর্ষের কয়েক দিন আগেও পাকিস্তান আফগান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছিল। ২১ সেপ্টেম্বরের ওই অভিযানে পাকিস্তান দাবি করেছিল, ২৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

তবে আফগান কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ওই হামলায় বেসামরিক হতাহতের কথা জানানো হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান কর্মকর্তারা এবং জাতিসংঘ তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছিল।

এ নিয়ে কাবুল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। পাকিস্তান অবশ্য তাদের অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরে।

পাকিস্তান চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ‘গজব লিল হক’ নামে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগান এলাকায় চালানো সামরিক অভিযানগুলোকেও এই বৃহত্তর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত বা পরিকল্পিত হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অন্যদিকে কাবুলের অবস্থান হলো, তাদের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান গ্রহণযোগ্য নয়।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে একের পর এক সামরিক ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও চাপের মধ্যে ফেলেছে। প্রথমে সীমান্তে ড্রোন নিয়ে অভিযোগ, এরপর আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা এবং এখন বালোচিস্তানে সরাসরি সংঘর্ষ ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ