সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeঅর্থ-বানিজ্যএলএনজি সংকটে স্বস্তি, দেশে পৌঁছেছে নতুন দুই কার্গো, বেড়েছে সরবরাহ

এলএনজি সংকটে স্বস্তি, দেশে পৌঁছেছে নতুন দুই কার্গো, বেড়েছে সরবরাহ

দেশে এলএনজি থেকে রূপান্তরিত গ্যাস বা আরএলএনজি সরবরাহ করা হয়েছে ৯১৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার এই সরবরাহ কমে প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গিয়েছিল। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে।

স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ বাংলা ডেস্ক : দেশে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি ও এলএনজি সংকটের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। নতুন দুটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি কার্গো বাংলাদেশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে কমে যাওয়া এলএনজি সরবরাহও আবার বেড়েছে। ফলে দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলএনজি থেকে রূপান্তরিত গ্যাস বা আরএলএনজি সরবরাহ করা হয়েছে ৯১৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার এই সরবরাহ কমে প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গিয়েছিল। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে।

নতুন দুটি এলএনজি কার্গোর একটি এসেছে ইন্দোনেশিয়া থেকে। টোটালএনার্জিসের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে এই কার্গো সংগ্রহ করা হয়েছে। কার্গোটি চট্টগ্রামের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিটের এলএনজি টার্মিনালে পৌঁছেছে।

অন্য কার্গোটির উৎস অস্ট্রেলিয়া। এই এলএনজি অ্যারোমকো সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে কেনা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে কার্গোটির টার্মিনালে স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়।

দুটি কার্গো দেশের এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ায় জাতীয় গ্যাস সরবরাহে চাপ কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়াজনিত কারণে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, নতুন কার্গো আসায় তা সামাল দিতে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে সামিট টার্মিনালে এলএনজি ক্যারিয়ার ‘প্যাসিফিক সাকসেস’-এর সব লাইন ফাস্ট করা হয়। এরপর জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়।

‘প্যাসিফিক সাকসেস’ কার্গোটি ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছে। টোটালএনার্জিসের কাছ থেকে স্পট মার্কেটের মাধ্যমে এই এলএনজি সংগ্রহ করা হয়েছে। কার্গোটি টার্মিনালে যুক্ত হওয়ার পর তা প্রক্রিয়াজাত করে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের গ্যাস চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণে বর্তমানে দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এলএনজি ক্যারিয়ার সময়মতো টার্মিনালে পৌঁছানো এবং সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ চালু রাখা দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে শুক্রবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এক্সিলারেট টার্মিনালে ‘ফেরোল নুটসেন’ নামের এলএনজি ক্যারিয়ার থেকে স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়।

অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা এই এলএনজি কার্গোটি অ্যারোমকো সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে কেনা হয়েছে। দ্বিতীয় কার্গোটিও সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ায় দেশের সামগ্রিক এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

একই সময়ে দুটি ভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি দেশে আসায় সরবরাহ ব্যবস্থায় আমদানির ধারাবাহিকতাও দেখা যাচ্ছে। তবে এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখতে টার্মিনাল, আবহাওয়া এবং জাহাজ থেকে গ্যাস স্থানান্তরসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুট।

এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। আর এলএনজি আমদানি করে তা পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে ৯১৮ মিলিয়ন ঘনফুট।

অর্থাৎ মোট গ্যাস সরবরাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে এলএনজি থেকে। আগের দিন এলএনজি সরবরাহ প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে যাওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, শুক্রবার তা অনেকটাই কমেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এর প্রভাব সরাসরি দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ে। ফলে বৃহস্পতিবার এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে প্রায় সাড়ে ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে যায়।

এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে জাহাজ চলাচল, সমুদ্রের পরিস্থিতি এবং টার্মিনালে নিরাপদে কার্গো গ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে এসব কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

শুক্রবার নতুন দুটি কার্গো পৌঁছানো এবং স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এ কারণে আগের দিনের তুলনায় এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় গ্যাসের ব্যবহার ব্যাপক। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সার উৎপাদন এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োজন হয়। দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজি তাই দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এলএনজি সাধারণত তরল অবস্থায় জাহাজে করে দেশে আনা হয়। পরে বিশেষ টার্মিনালের মাধ্যমে এটি পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। এই গ্যাসকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়।

তাই কোনো কারণে এলএনজি কার্গো আসতে দেরি হলে বা টার্মিনাল থেকে সরবরাহে সমস্যা হলে তার প্রভাব দেশের বিভিন্ন গ্যাসভিত্তিক খাতে পড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে দুটি নতুন এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানো সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। একদিকে আগের দিনের তুলনায় এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে, অন্যদিকে নতুন কার্গো থেকে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯১৮ মিলিয়ন ঘনফুট এসেছে এলএনজি থেকে রূপান্তরের মাধ্যমে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ