স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ বাংলা ডেস্ক : ঢাকা মহানগরের দীর্ঘদিনের যানজট কমাতে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক বা ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় অনুষ্ঠিত এক সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমানো এবং শহরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করার ক্ষেত্রে বৃত্তাকার সড়ককে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সভার বিভিন্ন বিষয় সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনার পাশাপাশি কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানীতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগস্থলে দীর্ঘ সময় যানজট তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প ও কার্যকর সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে। ইনার সার্কুলার রিং রোড সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
একটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে একাধিক মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি হলে প্রকল্পের কাজ ধীর হয়ে যেতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একই পরিকল্পনার আওতায় এনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি চান, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো সংস্থা বা বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি যেন কাজের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত না করে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু সমস্যা শনাক্ত করাই নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে ভূমি, নকশা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আন্তঃসংস্থার সমন্বয় কিংবা অন্যান্য বাস্তব সমস্যার কারণে কোনো ধরনের বিলম্ব হলে তা দ্রুত নিরসন করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সংস্থাকে নিজেদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও সভায় উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এর ফলে প্রকল্পের কাজ কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে।
ঢাকার যানজট বাংলাদেশের অন্যতম বড় নগর সমস্যা। প্রতিদিন অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নানা প্রয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানীর এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করেন। এর সঙ্গে যোগ হয় বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি, গণপরিবহন, পণ্যবাহী যানবাহন ও অন্যান্য যান।
একটি সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ তৈরি হলে তার প্রভাব আশপাশের সড়কেও পড়ে। ফলে যানজট দ্রুত বিস্তৃত হয় এবং যাত্রীদের দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়। এতে মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি খরচ ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে।
বৃত্তাকার সড়ক চালু হলে শহরের ভেতরের কিছু যানবাহনকে বিকল্প পথে চলাচলের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে যেসব যানবাহনের গন্তব্য শহরের কেন্দ্রস্থল নয়, সেগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরের বা বিকল্প রুটে পরিচালনা করা গেলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর চাপ কমতে পারে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের কাজে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ শুধু পরিকল্পনা বা প্রশাসনিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজের বাস্তব অগ্রগতি দেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে সময়মতো কাজ শেষ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্মাণকাজ দীর্ঘ সময় ধরে চললে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও বিভিন্ন কারণে বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোথায় কী সমস্যা রয়েছে এবং কোন পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম অংশ নেন।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনও সভায় অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য সূত্র: বাসস


