নিউজ বাংলা অনলাইন : অভিনয়ের প্রয়োজনে পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করা এখন আর নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রীর সম্মতি ছাড়া সেই দৃশ্য প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়। এমনই এক কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল বলিউড অভিনেত্রী রাধিকা আপ্টেকে।
একটি ছবির অন্তরঙ্গ দৃশ্য অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে পড়ার পর টানা চার দিন নিজের বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি অভিনেত্রী। শুধু সামাজিক অস্বস্তি নয়, নিজের নিরাপত্তা নিয়েও তখন গভীর উদ্বেগে ছিলেন তিনি। সম্প্রতি ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এ অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের সেই পুরোনো অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনেন রাধিকা।
রাধিকার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দৃশ্য প্রকাশ্যে চলে আসার পর ঘটনাটি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল না। ধীরে ধীরে সেটি তাঁর ব্যক্তিগত পরিসরেও ঢুকে পড়ে। পরিচিত ও কর্মক্ষেত্রের মানুষদের মধ্যেও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানান অভিনেত্রী।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, বাড়ির বাইরে অপরিচিত কেউ চলে আসতে পারেন এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল তাঁর মনে। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
রাধিকা জানান, সেই সময় তিনি একাই একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। ফলে ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা আরও বেড়ে যায়। কয়েক দিনের জন্য ঘরের বাইরে বের হওয়াও তাঁর কাছে নিরাপদ মনে হয়নি।
ঘটনাটি কতটা ব্যক্তিগত পরিসরে পৌঁছে গিয়েছিল, সেটি বোঝাতে গিয়ে একটি বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা জানান রাধিকা আপ্টে।
তাঁর মেকআপ শিল্পীর গাড়িচালকও ওই ক্লিপটি দেখেছিলেন। এরপর তিনি বারবার মেকআপ শিল্পীকে প্রশ্ন করছিলেন, তিনি কি রাধিকার বাড়িতে যাচ্ছেন? এই ঘটনা অভিনেত্রীর কাছে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে দেয়।
শুধু তাই নয়, রাধিকার বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীর কাছেও ওই ভিডিও পৌঁছে গিয়েছিল বলে জানান তিনি। অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও কীভাবে ধীরে ধীরে একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে, সেই অভিজ্ঞতা সরাসরি পেয়েছিলেন রাধিকা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাধিকাকে নিজের টিমের সদস্যদের সঙ্গেও খোলামেলা আলোচনা করতে হয়েছিল। তিনি গাড়িচালক ও স্পটবয়কে ডেকে পুরো বিষয়টি জানান।
অভিনেত্রী তাঁদের স্পষ্ট করে বলেন, তাঁরা যদি ওই দৃশ্য দেখে অস্বস্তি বোধ না করেন এবং একই সঙ্গে তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে পারেন, তবেই যেন তাঁর সঙ্গে কাজ করেন।
রাধিকার এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, ঘটনাটি তাঁর কাছে কেবল বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতি ছিল না। নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয়টিও তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
তাঁর দলের ওই দুই সদস্য শেষ পর্যন্ত তাঁকে আশ্বস্ত করেন। তাঁরা জানান, তাঁরা রাধিকার পাশে থাকবেন এবং কাজ চালিয়ে যাবেন।
সেই সময়ের অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাধিকা জানান, তিনি সত্যিই খুব ভয় পেয়েছিলেন। তাঁর মতে, ক্যামেরার সামনে কোনো অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করা এবং সেই দৃশ্য নিজের সম্মতি ছাড়া বাইরে ছড়িয়ে পড়া দুটি সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা।
একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী কোনো নির্দিষ্ট দৃশ্যে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু শুটিংয়ের সময়কার সেই ব্যক্তিগত মুহূর্ত যদি অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে চলে আসে, তখন তার প্রভাব শুধু পেশাগত পর্যায়ে থাকে না। ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, সামাজিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তার ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।
রাধিকার অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।
অভিনেত্রীর কথায়, অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের ক্ষেত্রে শিল্পীর সম্মতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সেটে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজে বিভিন্ন ধরনের ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখানো হলেও এসব দৃশ্য ধারণের সময় শিল্পীর ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং সম্মতির বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
রাধিকার পুরোনো অভিজ্ঞতা আবারও দেখিয়েছে, কোনো দৃশ্যের নিয়ন্ত্রণ শুধু ক্যামেরার সামনে অভিনয় করার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় না। সেই দৃশ্য কোথায় ব্যবহার হবে, কীভাবে সংরক্ষিত হবে এবং কারা তা দেখতে পারবেন এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
একই সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনের আরেকটি কঠিন সিদ্ধান্তের কথাও জানান রাধিকা আপ্টে।
একসময় একটি কাজ করার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত সেই কাজ থেকে সরে আসেন তিনি। রাধিকার আশঙ্কা ছিল, ওই কাজের কারণে তাঁর পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পরে নিজের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর মনে আক্ষেপ তৈরি হয়েছিল বলেও জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ওই সময়ে পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও তাঁকে কাজটি না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, অভিনয়জীবনে একজন শিল্পীর সিদ্ধান্ত সব সময় শুধু ক্যারিয়ারকে কেন্দ্র করে হয় না। কখনো পরিবার, সামাজিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রাধিকা আপ্টের ব্যক্তিজীবনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। সন্তান জন্মের পর কীভাবে কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখছেন, সেটিও তাঁর আলোচনার বিষয় হয়েছে।
সন্তান জন্মের পর দীর্ঘ সময় অভিনয় থেকে দূরে থাকেননি অভিনেত্রী। বরং প্রথম কাজের পরিকল্পনার সময় সদ্যোজাত সন্তানকে স্তন্যপান করানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
এর মাধ্যমে মাতৃত্ব এবং পেশাজীবনকে পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়ার নিজের অভিজ্ঞতার একটি দিকও প্রকাশ্যে এনেছিলেন রাধিকা।


