সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeশিল্প ও সাহিত্যACOTAR-এর নতুন বই প্রকাশ, উচ্ছ্বাসে মেতেছেন ভক্তরা

ACOTAR-এর নতুন বই প্রকাশ, উচ্ছ্বাসে মেতেছেন ভক্তরা

ACOTAR কেবল একটি রোমান্টিক ফ্যান্টাসি সিরিজ নয়। বরং গল্পের চরিত্র, তাদের সংগ্রাম এবং নিজেদের শক্তি খুঁজে পাওয়ার অভিজ্ঞতাও পাঠকদের আকৃষ্ট করে।

নিউজ বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেক্স : বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি রোমান্স সিরিজ ‘এ কোর্ট অব থর্নস অ্যান্ড রোজেস’ (ACOTAR)-এর নতুন বই প্রকাশকে ঘিরে পাঠকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সিরিজটির নতুন বই ‘এ কোর্ট অব স্প্লিন্টারড হারমনি’ প্রকাশিত হচ্ছে ২৭ অক্টোবর। বইটি প্রকাশের আগেই পাঠকেরা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কেউ আয়োজন করছেন বিশেষ অনুষ্ঠান, কেউ আবার প্রিয় বইটি নিরবচ্ছিন্নভাবে পড়ার জন্য কর্মস্থল থেকে ছুটিও নিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের উলভারহ্যাম্পটন আর্টস সেন্টারে সোমবার রাতেই নতুন বই প্রকাশ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে কয়েক ডজন ভক্তের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বই প্রকাশের মুহূর্তটি একসঙ্গে উদ্‌যাপন করা এবং প্রিয় কাহিনির জগতে ফিরে যাওয়ার আনন্দ ভাগ করে নিতেই এই আয়োজন।

আমেরিকান লেখক সারাহ জে. মাসের লেখা ‘এ কোর্ট অব থর্নস অ্যান্ড রোজেস’ সিরিজটি বিশ্বজুড়ে ফ্যান্টাসি সাহিত্যের পাঠকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। রোমান্স, জাদু, কল্পনার জগৎ এবং শক্তিশালী নারী চরিত্রের সমন্বয়ে তৈরি এই সিরিজের নতুন বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন অসংখ্য পাঠক।

যুক্তরাজ্যের রেডিচ এলাকার বাসিন্দা হলি ফেলোস উলভারহ্যাম্পটনের অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছেন। তাঁর মতে, এই সিরিজের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো বাস্তব জীবনের চাপ থেকে কিছুক্ষণের জন্য দূরে সরে যাওয়ার সুযোগ।

ফেলোস বলেন, কল্পনার এই জগৎ মানুষকে প্রতিদিনের জীবন থেকে সাময়িক মুক্তি দেয়। বিশেষ করে অনেক তরুণী বইগুলোর চরিত্রের মধ্যে নিজেদের খুঁজে পান। গল্পের বিভিন্ন অংশে আত্মবিশ্বাস, নিজের শক্তি আবিষ্কার এবং ব্যক্তিগত ক্ষমতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও উঠে এসেছে।

তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, পাঠকদের কাছে ACOTAR কেবল একটি রোমান্টিক ফ্যান্টাসি সিরিজ নয়। বরং গল্পের চরিত্র, তাদের সংগ্রাম এবং নিজেদের শক্তি খুঁজে পাওয়ার অভিজ্ঞতাও পাঠকদের আকৃষ্ট করে।

বই প্রকাশের মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখতে উলভারহ্যাম্পটন আর্টস সেন্টারে বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে। সোমবার রাতের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া পাঠকেরা বই প্রকাশের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে সময় কাটাবেন। এর মধ্যে থাকবে নানা ধরনের শিল্পকর্ম ও হাতের কাজের আয়োজন।

বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াটারস্টোনসের উলভারহ্যাম্পটন শাখা অনুষ্ঠানে বই সরবরাহ করবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে বইটি প্রকাশের পরপরই পাঠকেরা নিজেদের কপি হাতে পাবেন।

আয়োজক হলি ফেলোস জানিয়েছেন, মধ্যরাতের পর সবাই কিছু সময় নীরবে বই পড়বেন। প্রিয় সিরিজের নতুন কাহিনি একসঙ্গে পড়ার এই অভিজ্ঞতা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

ফেলোস নিজেও বইটি পড়ার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়েছেন, যাতে অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত না হয়ে পুরো দিন বইটি পড়তে পারেন। তাঁর ধারণা, সন্ধ্যার মধ্যেই নতুন বইটি শেষ করে ফেলতে পারবেন।

প্রিয় লেখকের নতুন বই প্রকাশের দিন ছুটি নেওয়ার এই ঘটনা ভক্তদের আবেগ ও আগ্রহেরই প্রতিফলন। অনেক পাঠকের কাছে বই প্রকাশের দিনটি সাধারণ কোনো দিন নয়; বরং দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত গল্পে ফিরে যাওয়ার বিশেষ উপলক্ষ।

ACOTAR হলো ‘এ কোর্ট অব থর্নস অ্যান্ড রোজেস’ সিরিজের সংক্ষিপ্ত নাম। সারাহ জে. মাসের লেখা এই ফ্যান্টাসি রোমান্স সিরিজের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে প্রাইথিয়ান নামের একটি কাল্পনিক জগৎকে ঘিরে।

এই জগতে রয়েছে জাদু, অতিপ্রাকৃত শক্তি, জটিল সম্পর্ক, রোমান্স এবং নানা ধরনের সংঘাত। চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, আবেগ, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

সিরিজটির প্রথম বই ‘এ কোর্ট অব থর্নস অ্যান্ড রোজেস’ প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় আরও কয়েকটি বই। প্রকাশের পর থেকেই সিরিজটি ফ্যান্টাসি ও রোমান্সপ্রেমী পাঠকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. ‘এ কোর্ট অব থর্নস অ্যান্ড রোজেস’ — ২০১৫ সাল।

২. ‘এ কোর্ট অব মিস্ট অ্যান্ড ফিউরি’ — ২০১৬ সাল।

৩. ‘এ কোর্ট অব উইংস অ্যান্ড রুইন’ — ২০১৭ সাল।

৪. ‘এ কোর্ট অব ফ্রস্ট অ্যান্ড স্টারলাইট’ — ২০১৮ সাল।

৫. ‘এ কোর্ট অব সিলভার ফ্লেমস’ — ২০২১ সাল।

এই বইগুলোর মাধ্যমে লেখক এমন একটি কল্পজগৎ তৈরি করেছেন, যার সঙ্গে পাঠকেরা দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত থাকতে পারেন। চরিত্রগুলোর পরিবর্তন, তাদের সম্পর্কের বিকাশ এবং নতুন নতুন ঘটনার সংযোজন সিরিজটির প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ACOTAR সিরিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যায় বইয়ের পাঠকপ্রিয়তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর উপস্থিতি থেকে। ২০১৫ সালে বইয়ের সুপারিশ ও পাঠক পর্যালোচনার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট গুডরিডসে সিরিজটির প্রথম বইটি ‘মোস্ট রিড বুক অব দ্য ইয়ার’ বা বছরের সর্বাধিক পঠিত বইয়ের তালিকায় স্থান পেয়েছিল।

এরপর সময়ের সঙ্গে সিরিজটির পাঠকসংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই বই পড়ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিরিজটি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে।

টিকটকে ACOTAR হ্যাশট্যাগটি প্রায় ২১ লাখ বার এবং ইনস্টাগ্রামে প্রায় ১৮ লাখ বার ব্যবহারের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান সিরিজটিকে ঘিরে অনলাইন আগ্রহের একটি ধারণা দেয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের সংখ্যা দিয়ে মোট পাঠকসংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না।

নতুন বই প্রকাশের আগে ভক্তরা নিজেদের উচ্ছ্বাস, প্রত্যাশা এবং পড়ার পরিকল্পনা নিয়ে পোস্ট করছেন। কেউ কেউ বইটি প্রকাশের আগেই হাতে পাওয়ার অভিজ্ঞতাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন।

একজন পাঠক টিকটকে মজা করে লিখেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাজের জন্য কেন বার্ষিক ছুটি ব্যবহার করেছিলেন, যখন নতুন ACOTAR বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে!

অন্য একজন লিখেছেন, নতুন বইটির জন্য তিনি আদৌ প্রস্তুত কি না, তা বুঝতে পারছেন না।

এ ধরনের পোস্টে ভক্তদের আবেগের পাশাপাশি সিরিজটির প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের টানও ফুটে উঠেছে।

সিরিজটির আগের বই প্রকাশিত হয়েছিল ২০২১ সালে। এরপর নতুন বইয়ের জন্য দীর্ঘ পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে পাঠকদের। এই দীর্ঘ বিরতির কারণে নতুন বই প্রকাশের ঘোষণা ভক্তদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।

আয়োজক হলি ফেলোসের মতে, দীর্ঘ অপেক্ষা পাঠকদের আবেগকে আরও তীব্র করেছে। তাঁর ভাষায়, ভক্তদের মধ্যে এখন একধরনের উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে।

তবে এই আগ্রহ শুধু নতুন গল্প পড়ার অপেক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ACOTAR সিরিজকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি বড় পাঠকসমাজ। একই বইয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষ একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন, আলোচনা করছেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন।

ফেলোস জানিয়েছেন, তাঁর কর্মস্থলেও সমবয়সী নারীদের পাশাপাশি চল্লিশ ও পঞ্চাশের কোঠায় থাকা নারীদের এই সিরিজ পড়তে দেখেছেন। অনলাইনেও তিনি অনেক পুরুষ পাঠককে বইগুলো নিয়ে আলোচনা করতে দেখছেন।

তাঁর মতে, সিরিজটির জনপ্রিয়তা এখন একটি সর্বজনীন পাঠক-উন্মাদনায় পরিণত হয়েছে।

এই অভিজ্ঞতা দেখায়, ফ্যান্টাসি সাহিত্য সব সময় নির্দিষ্ট কোনো বয়স বা পাঠকগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। আকর্ষণীয় গল্প, পরিচিত আবেগ এবং চরিত্রের সঙ্গে পাঠকের সংযোগ তৈরি হলে বইটি বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

‘এ কোর্ট অব স্প্লিন্টারড হারমনি’ প্রকাশের মধ্য দিয়েই সিরিজটি শেষ হচ্ছে না। লেখক সারাহ জে. মাস তাঁর ওয়েবসাইটে জানিয়েছেন, সিরিজের সপ্তম বই ‘এ কোর্ট অব ফরগটেন মেলোডি’ প্রকাশিত হবে ২০২৭ সালের ১২ জানুয়ারি।

অর্থাৎ নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি পাঠকেরা পরবর্তী পর্বের জন্যও প্রস্তুতি নিতে পারবেন। পরপর দুটি বই প্রকাশের ঘোষণা সিরিজটির ভক্তদের আগ্রহ আরও বাড়াতে পারে।

তবে নতুন বইগুলোর কাহিনি, চরিত্রের ভবিষ্যৎ এবং গল্পের পরবর্তী মোড় নিয়ে পাঠকদের মধ্যে যেপ্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার উত্তর মিলবে বই পড়ার পরই।

ACOTAR সিরিজের নতুন বই প্রকাশের আয়োজন কেবল বই কেনা বা পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি পাঠকদের একত্র হওয়ার, নিজেদের পছন্দের গল্প নিয়ে কথা বলার এবং একই আগ্রহের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও তৈরি করছে।

বাস্তব জীবনের ব্যস্ততা থেকে কিছু সময় দূরে গিয়ে কল্পনার জগতে ডুবে থাকার আকাঙ্ক্ষা অনেক পাঠককে বইটির প্রতি আকৃষ্ট করেছে। আবার গল্পের শক্তিশালী চরিত্র ও আত্মবিশ্বাসের বার্তাও পাঠকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষা শেষে নতুন বই প্রকাশিত হওয়ায় ভক্তদের জন্য ২৭ অক্টোবর হয়ে উঠছে একটি বিশেষ দিন। মধ্যরাতের প্রকাশনা অনুষ্ঠান, একসঙ্গে বই পড়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এই সিরিজের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটছে।

সপ্তম বই প্রকাশের ঘোষণাও সামনে থাকায় ACOTAR ভক্তদের অপেক্ষার তালিকায় নতুন আরেকটি তারিখ যুক্ত হয়েছে। ফলে সারাহ জে. মাসের এই ফ্যান্টাসি রোমান্স সিরিজকে ঘিরে পাঠকদের আলোচনা ও আগ্রহ আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ