রাহুল রাহা, আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : ভাদ্র মাস প্রায় শেষের পথে। তবুও দক্ষিণবঙ্গ থেকে বর্ষার দাপট কাটার কোনও লক্ষণ নেই। কখনও রোদের দেখা মিলছে, আবার কিছুক্ষণ পরেই আকাশ কালো করে শুরু হচ্ছে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতেও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকবে।
বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও কয়েকটি জেলায় ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও নদী তীরবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
দক্ষিণবঙ্গে বুধবার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকবে। মৌসুমী অক্ষরেখা বাঁকুড়ার উপর দিয়ে পূর্ব দিকে এগিয়ে ত্রিপুরা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ গুজরাট থেকে উত্তর বাংলাদেশ পর্যন্ত আরও একটি অক্ষরেখা পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে।
এই দুই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। এর সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টি?
মঙ্গলবারও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, হুগলি, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এই জেলাগুলির জন্য আবহাওয়া দপ্তর হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টির সঙ্গে কোনও কোনও এলাকায় দমকা হাওয়া বইতে পারে। ফলে রাস্তায় চলাচল এবং নিচু এলাকায় জল জমার বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বুধবারও বৃষ্টি, এরপর কমবে বর্ষণ
বুধবার দক্ষিণবঙ্গের আরও কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় ভারী বর্ষণ হতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকবে না এবং বৃষ্টির পরিমাণও ধীরে ধীরে কমতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির দাপট
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও বর্ষণ অব্যাহত থাকবে। সোমবার উত্তরবঙ্গের জন্য ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে ফের বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে ধস বা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া
মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
জলপাইগুড়ি, মালদহ এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর শুক্রবার উত্তরবঙ্গের পার্বত্য জেলাগুলিতে ফের ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির জন্য ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তিস্তার জলস্তর নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই তিস্তার জলস্তর বেড়েছে। নদী তীরবর্তী কিছু এলাকায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে ফের ভারী বৃষ্টি হলে নদীর জলস্তর আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ফলে নদী তীরবর্তী এবং পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখা জরুরি।
কলকাতায় কেমন থাকবে আবহাওয়া?
কলকাতাতেও সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচলে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭২ থেকে ৯২ শতাংশ।
কবে কাটবে বৃষ্টির দাপট?
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। বৃহস্পতিবার থেকে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা না থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
তবে বর্ষা পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট কোনও পূর্বাভাস নেই। ফলে চলতি সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের রোদ-বৃষ্টির এই খেলা আরও কয়েকদিন দেখতে হতে পারে।
আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কারণে বাইরে বেরোনোর আগে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করাই ভালো।


