সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeসর্বশেষ সংবাদরাতে ঘুমের মধ্যে পায়ের ছটফটানি? রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমের লক্ষণ হতে পারে

রাতে ঘুমের মধ্যে পায়ের ছটফটানি? রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমের লক্ষণ হতে পারে

রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তির পায়ে অস্বাভাবিক এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। সেই অস্বস্তির কারণে পা নাড়ানোর প্রবল ইচ্ছা হয়। কারও ক্ষেত্রে ঝিনঝিনি বা টান ধরার মতো অনুভূতি হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে ব্যথা, জ্বালাপোড়া কিংবা পায়ের ভেতরে কিছু নড়াচড়া করার মতো অনুভূতিও হতে পারে।

নিউজবাংলা ডেস্ক : রাতে বিছানায় শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু পা দুটো স্থির রাখতে পারছেন না? কখনও পায়ে ঝিনঝিন করছে, কখনও টান ধরার মতো লাগছে, আবার কখনও ব্যথা বা জ্বালাপোড়ার মতো অস্বস্তি হচ্ছে? পা নাড়ালেই কিছুটা স্বস্তি মিলছে, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার একই সমস্যা শুরু হচ্ছে?

এমন ঘটনা বারবার ঘটলে বিষয়টিকে শুধু ঘুমের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। এর পেছনে থাকতে পারে রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম বা RLS। এটি এমন একটি স্নায়বিক সমস্যা, যেখানে বিশ্রামের সময় বিশেষ করে রাতে পা নাড়ানোর প্রবল তাগিদ তৈরি হয়। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়, বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে এবং পরের দিন ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।

রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম কী?

রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তির পায়ে অস্বাভাবিক এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। সেই অস্বস্তির কারণে পা নাড়ানোর প্রবল ইচ্ছা হয়। কারও ক্ষেত্রে ঝিনঝিনি বা টান ধরার মতো অনুভূতি হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে ব্যথা, জ্বালাপোড়া কিংবা পায়ের ভেতরে কিছু নড়াচড়া করার মতো অনুভূতিও হতে পারে।

এই সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, দীর্ঘ সময় বসে বা শুয়ে বিশ্রাম নিলে উপসর্গ বেড়ে যায়। বিশেষ করে রাতে বিছানায় যাওয়ার পর সমস্যা বেশি অনুভূত হতে পারে।

পা নাড়ানো, হাঁটাহাঁটি করা বা কিছুক্ষণ নড়াচড়া করলে সাময়িকভাবে স্বস্তি পাওয়া যায়। কিন্তু থেমে গেলেই অস্বস্তি আবার ফিরে আসতে পারে।

কেন হয় রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম?

RLS হওয়ার সঠিক কারণ সব ক্ষেত্রে জানা যায় না। তবে মস্তিষ্কের ডোপামিন ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং শরীরে আয়রনের ঘাটতির সঙ্গে এই সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বংশগত কারণও ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারের অন্য সদস্যের এই সমস্যা থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এছাড়া গর্ভাবস্থায়ও কিছু নারীর মধ্যে RLS-এর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস এবং পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির মতো কিছু শারীরিক অবস্থার সঙ্গেও এই সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।

কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের কারণেও উপসর্গ শুরু হতে পারে বা আগে থেকে থাকা সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই নতুন কোনও ওষুধ শুরু করার পর এমন সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো জরুরি।

রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমের লক্ষণ কী?

এই সমস্যার সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো পা নাড়ানোর প্রবল তাগিদ। এর সঙ্গে আরও কিছু অস্বস্তি থাকতে পারে।

পায়ে ঝিনঝিন বা শিরশির করা, টান ধরার মতো অনুভূতি, ব্যথা, জ্বালাপোড়া কিংবা পায়ের ভেতরে অস্বাভাবিক অনুভূতি হতে পারে। সাধারণত বসে বা শুয়ে থাকলে এই সমস্যা বাড়ে। রাতে উপসর্গ বেশি প্রকট হওয়াও RLS-এর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

পা নাড়ালে বা হাঁটাহাঁটি করলে অস্বস্তি কিছুটা কমে যায়। তবে এই স্বস্তি অনেক সময় স্থায়ী হয় না।

দীর্ঘদিন ধরে রাতে ঘুমের সমস্যা হলে দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমভাব, মনোযোগের সমস্যা এবং ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে।

রাতে পায়ের ছটফটানি কমাতে কী করবেন?

জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত হালকা থেকে মাঝারি শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ঘুমের নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা উপকারী হতে পারে।

পায়ের হালকা স্ট্রেচিং বা কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটিও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

এছাড়া ক্যাফেইন, অ্যালকোহল ও ধূমপান কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। রাতে ঘুমের আগে অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলাও উপকারী হতে পারে।

তবে শরীরে আয়রনের ঘাটতি আছে কি না, তা পরীক্ষা না করে নিজের ইচ্ছায় আয়রনের ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন মনে করলে চিকিৎসক রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে আয়রনের মাত্রা যাচাই করতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

মাঝেমধ্যে পায়ে অস্বস্তি হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু সমস্যা যদি নিয়মিত হতে থাকে, ধীরে ধীরে বাড়ে কিংবা রাতে ঘুম নষ্ট করতে শুরু করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষ করে পায়ের অস্বস্তির কারণে যদি বারবার ঘুম ভেঙে যায় এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঘুমভাব থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো।

চিকিৎসক আপনার উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার সম্ভাব্য কারণ খুঁজে দেখতে পারেন।

রেস্টলেস লেগস হলে কি নিউরোসার্জনের প্রয়োজন?

RLS-এর উপসর্গ থাকলেই সরাসরি নিউরোসার্জনের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সমস্যার কারণ বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে পায়ের অস্বস্তির পাশাপাশি মেরুদণ্ড বা স্নায়ুতন্ত্রের অন্য কোনও সমস্যার লক্ষণ থাকলে বিষয়টি আলাদা হতে পারে।

পায়ে দুর্বলতা বা অসাড়তা, হাঁটতে সমস্যা, পিঠে ব্যথা, অথবা প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এসব লক্ষণকে শুধু রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমের কারণে হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

শুধু RLS ধরে নিয়ে বসে থাকবেন না

পা নাড়ানোর তাগিদ এবং পায়ে অস্বস্তি RLS-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলেও একই ধরনের অনুভূতি অন্য কিছু শারীরিক বা স্নায়বিক সমস্যার ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে।

তাই কখন সমস্যা হচ্ছে, কতক্ষণ থাকছে, পা নাড়ালে কমছে কি না এবং সময়ের সঙ্গে উপসর্গ বাড়ছে কি না—এসব বিষয় লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ।

নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

শেষ কথা

রাতে ঘুমের মধ্যে বারবার পায়ের ছটফটানি হলে সেটিকে সবসময় সাধারণ ক্লান্তি বা ঘুমের সমস্যা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমের মতো সমস্যার কারণেও এমনটা হতে পারে।

তবে পায়ের অস্বস্তির সঙ্গে যদি দুর্বলতা, অসাড়তা, হাঁটতে সমস্যা, পিঠে ব্যথা কিংবা প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক কারণ চিহ্নিত করাই উপযুক্ত চিকিৎসার প্রথম ধাপ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ