খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালআবার পেনাল্টি মিস মেসির! ১-০ গোলে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা, মিশরের দুর্দান্ত চমক

আবার পেনাল্টি মিস মেসির! ১-০ গোলে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা, মিশরের দুর্দান্ত চমক

আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরসা মেসি বল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দলের আক্রমণও অনেকটাই নিষ্প্রভ হয়ে যায়। একাধিকবার সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করলেও মিশরের ডিফেন্স দ্রুত চাপ তৈরি করে আক্রমণ ভেঙে দেয়।

ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রত্যাশিত ছন্দে খেলতে পারছে না আর্জেন্টিনা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শুরু থেকেই দুর্দান্ত পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামে মিশর। আক্রমণাত্মক ফুটবল, শক্তিশালী প্রেসিং এবং নিখুঁত রক্ষণভাগের কারণে লিওনেল মেসিদের বারবার বিপাকে ফেলতে সক্ষম হয় আফ্রিকার দলটি। প্রথমার্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর। অন্যদিকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, মিশর কোনোভাবেই রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে আসেনি। বরং তারা ছোট ছোট পাসে বলের দখল ধরে রেখে দ্রুত আক্রমণে ওঠে। মাঝমাঠ থেকে আর্জেন্টিনার ডিফেন্সে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা স্বাভাবিক ছন্দে বল নিয়ন্ত্রণ করলেও আক্রমণভাগে প্রয়োজনীয় ধার দেখা যায়নি। প্রতিটি আক্রমণেই মিশরের ডিফেন্ডাররা সংগঠিতভাবে বাধা তৈরি করেন। ফলে আর্জেন্টিনা খুব কম পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়।

মিশরের কোচিং স্টাফের অন্যতম বড় পরিকল্পনা ছিল লিওনেল মেসিকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও তারা সফল হয়। পুরো ম্যাচজুড়েই মেসিকে ঘিরে জোনাল মার্কিং করা হয়। ফলে তিনি মাঝমাঠে পর্যাপ্ত জায়গা কিংবা বল কোনোটিই ঠিকভাবে পাচ্ছিলেন না।

আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরসা মেসি বল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দলের আক্রমণও অনেকটাই নিষ্প্রভ হয়ে যায়। একাধিকবার সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করলেও মিশরের ডিফেন্স দ্রুত চাপ তৈরি করে আক্রমণ ভেঙে দেয়।

প্রথমার্ধে সমতায় ফেরার আদর্শ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি পেয়ে ম্যাচে ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি লিওনেল মেসি।

তিনি গোলরক্ষকের বাঁ দিক লক্ষ্য করে শট নিলেও সেটি ছিল দুর্বল এবং অনুমানযোগ্য। মিশরের গোলরক্ষক মুস্তাফা শোবর সহজেই বল আটকে দেন। চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস, যা আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে।

ক্রমাগত আক্রমণের ফল পেতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি মিশরকে। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা একটি নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান ইয়াসির ইব্রাহিম।

গোলটি হওয়ার পর মিশরের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। তারা আরও সংগঠিতভাবে রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকে। অন্যদিকে গোল হজম করার পর আর্জেন্টিনা আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাবে সফল হতে পারেনি।

ম্যাচজুড়ে দুই দলই উচ্চগতির প্রেসিং ফুটবল খেলেছে। প্রতিপক্ষের পায়ে বল গেলেই দ্রুত প্রেস করে বল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছে উভয় দল।

বিশেষ করে মাঝমাঠে বলের দখল নিয়ে ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চাইলেও মিশরের মিডফিল্ডাররা অসাধারণ শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই পরিকল্পনায় বারবার বাধা সৃষ্টি করেন।

ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী প্রথম একাদশে জায়গা পান নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং হুলিয়ান আলভারেজ।

এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আক্রমণ ও মাঝমাঠে নতুন গতি আনার চেষ্টা করা হলেও মাঠের খেলায় সেই প্রভাব খুব একটা দেখা যায়নি। মিশরের সংগঠিত ফুটবলের সামনে পরিকল্পনাগুলো অনেকটাই ব্যর্থ হয়ে পড়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনা দ্রুত পাস, কার্যকর আক্রমণ এবং দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের জন্য প্রশংসিত হলেও এই ম্যাচে সেই পরিচিত রূপ অনুপস্থিত ছিল।

মেসির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বল না পেলে কিংবা জায়গা না পেলে পুরো আক্রমণভাগের কার্যকারিতা কমে যায়। উইং থেকেও উল্লেখযোগ্য আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি দলটি।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ভয় না পেয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলেছে মিশর। তাদের আত্মবিশ্বাস, দ্রুত পাসিং, নিখুঁত প্রেসিং এবং শক্তিশালী রক্ষণ ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে।

বিশেষ করে গোল করার পরও তারা রক্ষণে গুটিয়ে না গিয়ে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে উঠেছে। এই মানসিকতাই ম্যাচে তাদের বাড়তি সুবিধা এনে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে হলে আর্জেন্টিনাকে আরও গতিশীল ফুটবল খেলতে হবে। মেসিকে বলের কাছাকাছি রাখতে হবে এবং উইং ব্যবহার করে আক্রমণের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মিডফিল্ডে দ্রুত বল আদান-প্রদান এবং কার্যকর ফিনিশিং নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

অন্যদিকে মিশরের লক্ষ্য থাকবে একই শৃঙ্খলা ধরে রেখে রক্ষণ সামলানো এবং পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগানো।

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট লড়াইয়ে প্রথমার্ধে মিশরই নিজেদের পরিকল্পনা সবচেয়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তারা লিওনেল মেসিকে কার্যকরভাবে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় আর্জেন্টিনার ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

ম্যাচের পরবর্তী অংশে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, নাকি মিশর ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করবে—সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহের বিষয়।