স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ বাংলা ডেক্স : রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে এবং রোববার সকালে পৃথকভাবে তাঁদের আটক করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ছিল না। পাশের জমির মালিকের সঙ্গে নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে চাঁদাবাজির কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউ গিনি প্রপার্টিজে থাকা স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির।
রাতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টুডিওর ভাঙচুরের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওতে স্টুডিওর বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়। চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বেশ কিছু আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
ঘটনার পর স্টুডিওর কয়েকজন কর্মীকে কান্নারত অবস্থায়ও দেখা যায়। ভিডিওতে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর বিভিন্ন অংশ দেখিয়ে সালমান মুক্তাদির হামলার বিষয়টি জানান।
ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুল আলম জানিয়েছেন, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের বিরোধের জেরেই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটিকে চাঁদাবাজির ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওও হামলাকারীদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে যে ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে, পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে তার সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। পুলিশ বলছে, ব্যক্তিগতভাবে সালমান মুক্তাদির বা তাঁর স্টুডিওকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি; বরং জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনাই এর পেছনে ছিল।
হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর তদন্তে নেমে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে এবং রোববার সকালে তাঁদের আটক করা হয়।
তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় কারা জড়িত এবং তাঁদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তদন্তের অগ্রগতির পর এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে চাঁদাবাজির বিষয়টিও সামনে আসে।
তবে পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ ঘটনায় চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার নাজমুল আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সঙ্গে নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড ও পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে।
ফলে হামলার কারণ হিসেবে চাঁদাবাজির বিষয়টি পুলিশ সমর্থন করছে না। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত কারণ আরও পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার পর সালমান মুক্তাদির নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে স্টুডিওর ভেতরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়।
ভিডিওতে তিনি জানান, কিছুক্ষণ আগেই সেখানে হামলা হয়েছে এবং হামলার ফলে তাঁদের স্টুডিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর প্রকাশ করা ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
স্টুডিওতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কর্মীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে হামলার সময় সেখানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। তিনজনকে আটকের পর তাঁদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়নি। তাই ঘটনার পেছনে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি মূলত জমি নিয়ে বিরোধের জের। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগও পুলিশ নাকচ করেছে। ফলে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পুরো চিত্র সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হলেও রোববার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের পর ঘটনার সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।



