Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeঅর্থ-বানিজ্যবিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কার্যকর: ইউনিটভিত্তিক খরচ বৃদ্ধি, জুন থেকেই গ্রাহকদের বিল বাড়ছে

বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কার্যকর: ইউনিটভিত্তিক খরচ বৃদ্ধি, জুন থেকেই গ্রাহকদের বিল বাড়ছে

বিদ্যুতের মূল্যের পাশাপাশি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর সঞ্চালন বা হুইলিং চার্জও বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ইউনিটে এই চার্জ ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বিদ্যুতের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে, যা চলতি বছরের ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় বেশি পরিশোধ করতে হবে। বিদ্যুতের ব্যবহার যত বাড়বে, ইউনিটপ্রতি খরচও তত বেশি হবে।

বিইআরসির প্রকাশিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধাপে ইউনিটপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে স্বল্প ব্যবহারকারী ও বেশি ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য আলাদা হারে বিল গণনা করা হবে।

সবচেয়ে কম ব্যবহারকারী বা লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য প্রথম ৫০ ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ৩২ পয়সা। সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের মূল্য ৬ টাকা ১৮ পয়সা রাখা হয়েছে।

এছাড়া ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ৫০ পয়সা, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত ৯ টাকা ১০ পয়সা এবং ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত ৯ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যেসব গ্রাহক তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য খরচ আরও বেড়েছে। ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারের জন্য প্রতি ইউনিট ১৫ টাকা ১ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা দিতে হবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ছিল ৯ টাকা ১১ পয়সা। নতুন মূল্যহার কার্যকরের ফলে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায়।

অর্থাৎ খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিলে।

শুধু খুচরা পর্যায়েই নয়, পাইকারি পর্যায়েও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

আগে প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদ্যুতের মূল্য ছিল ৭ টাকা। এখন তা বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহক পর্যায়ে আরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুতের মূল্যের পাশাপাশি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর সঞ্চালন বা হুইলিং চার্জও বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ইউনিটে এই চার্জ ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিতরণ কোম্পানির কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে এই সঞ্চালন ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই খাতে ব্যয় বৃদ্ধি সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিইআরসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে নতুন মূল্যহার জুন মাসের বিল থেকে কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ গ্রাহকরা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, তার বিল নতুন হিসাবেই পরিশোধ করতে হবে।

কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই মূল্যহার বহাল থাকবে। তবে বিভিন্ন গ্রাহক শ্রেণির জন্য বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে ওই খাতে আপাতত কোনো পরিবর্তন আসছে না।

বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার নির্ধারণের আগে চলতি বছরের ২০ ও ২১ এপ্রিল গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেই শুনানিতে বিভিন্ন পক্ষের মতামত গ্রহণের পর কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

বিইআরসির মতে, জ্বালানি খাতের ব্যয় সমন্বয়, আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা এবং জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নের সুবিধার্থে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন মূল্যহার কার্যকরের ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ ব্যবহারকারী পরিবারের ওপর। যেসব পরিবারে একাধিক এসি, ফ্রিজ, গিজার বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়, তাদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

অন্যদিকে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলক কম থাকবে। তবে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুতের গড় মূল্য বৃদ্ধি দেশের প্রায় সব গ্রাহকের ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যুতের খুচরা, পাইকারি এবং সঞ্চালন—তিন ক্ষেত্রেই মূল্য বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। ১ জুন থেকে চালু হওয়া এই নতুন মূল্যহার অনুযায়ী গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় বেশি আসবে। বিশেষ করে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে। ভবিষ্যতে জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি ও সরকারি নীতির ওপর নির্ভর করবে বিদ্যুতের মূল্য আর পরিবর্তিত হবে কি না।